ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 March 2018, ১ চৈত্র ১৪২৪, ২৬ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্রণ থেকে মুক্তির উপায়

আমাদের সুন্দর মুখটাকে নিমিষেই করে দিতে পারে অসুন্দর অতি সামান্য একটা চর্ম রোগ। নারী কিংবা পুরুষ কেউই নিস্তার পায়না এই রোগ থেকে।রোগটি হচ্ছে   ব্রণ সমস্যা। শতকরা ৮০% লোক জীবনের কোননা কোন সময় এই রোগে আক্রান্ত হয়। এটি প্রাণঘাতি কোনো রোগ না হলেও এর ভয়াবহতা যে একদম কম তাও কিন্তু নয়। একে বাহির থেকে দেখলে খুব বেশি বড় মনে না হলেও ভিতরের দিকে অনেকটা জায়গা দখল করে রাখতে পারে এবং ভিতরে তৈরি হয় পুঁজ যার ফলে ব্রণ ভালো হলেও তার দাগটা থেকে যায় দীর্ঘ দিন।
এখন আমরা জানব ব্রণ কেন হয়
সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে সেবাম নামে একপ্রকার তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসরণ করে যা ত্বককে মসৃণ রাখে। কোনো কারণে সেবাসিয়াস গ্রন্থির নালির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে সেবাম নিঃসরণের বাধার সৃষ্টি হয় এবং তা ভেতরে জমে ফুলে উঠে যা ব্রণ নামে পরিচিত।
আমারা যদি ব্রণ কে প্রতিরোধ করতে চাই তাহলে সেবাসিয়াস গ্রন্থির নালির মুখ যাতে করে বন্ধ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এখন আমি আপনাদের বলব কি কারণে সেবাসিয়াস গ্রন্থির নালির মুখ বন্ধ হয়ে যেতে পারে অনেক গুলি কারণ আছে তার থেকে একটা কারণ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো সেটা হচ্ছে আমাদের শরিরের সব জায়গায়ই ব্লাড সাপ্লাই হয় আর সেটা যদি মুখে বা কোনো স্থানে কোন কারনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় তাহলে skin cell গুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একসময় cell গুলির কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে যায় এবং সেই cell গুলিই সেবাসিয়াস গ্রন্থির নালির মুখ বন্ধ করতে অনেক বড় একটা ভুমিকা পালন করে।
ব্রণের (acne) প্রকারভেদ
১) ট্রপিক্যাল (acne) ব্রণ: অতিরিক্ত গরম এবং বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হলে পিঠে, উরুতে ব্রণ হয়ে থাকে।
২) প্রিমিন্সট্রুয়াল (acne) ব্রণ: কোনো কোনো মহিলার মাসিকের সপ্তাহ খানেক আগে ৫-১০টির মতো ব্রণ মুখে দেখা দেয়।
৩) কসমেটিকা (acne) ব্রণ:  কোনো কোনো প্রসাধনী লাগাতার ব্যবহারে মুখে অল্প পরিমাণে ব্রণ হয়ে থাকে।
৪) ডিটারজিনেকস  ব্রণ: মুখ অতিরিক্ত ভাবে সাবান দিয়ে ধুলেও (দৈনিক ১/২ বারের বেশি)ব্রণের পরিমাণ বেড়ে যায়।
৫) স্টেরয়েড (acne) ব্রণ: স্টেরয়েড ঔষধ সেবনে হঠাৎ করে ব্রণ দেখা দেয়। মুখে স্টেরয়েড, যেমন: বটানোবেট ডার্মোভেট জাতীয়। ঔষুধ একাধারে অনেকদিন ব্যবহারে ব্রণের পরিমান বেড়ে যায় ।
এখন আমরা জানব এ থেকে মুক্তির উপায়
আজ আমি আপনাদের কোন প্রকার মেডিসিন ছাড়া ব্রণ থেকে মুক্তির জন্য একটা টেকনিক শেয়ার করবো। সেটা হচ্ছে আমাদের মুখে যদি ব্লাড সাপ্লাই ঠিক মত হয় তাহলে ব্রণ থেকে ৫০% রোগী মুক্তি পাবে। আমাদের যে জায়গা থেকে ব্লাড সারা শরিরে সাপ্লাই করে তা আমাদের বুকের বাম পাশে অবস্থিত যার নাম হৃদপি-।হৃদপি- থেকে ব্লাড নিচের দিকে যাবে এটা স্বাভাবিক একটা বিষয়। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন হৃদপি- থেকে উপরে অর্থাৎ মুখের দিকে কিভাবে ব্লাড পোঁছায়? এই ব্লাড উপরে পাঠানোর জন্য আমাদের পায়ের উপরের দিকে একটা মাংসপি- আছে যার নাম GASTROCNEMIUS যার সহযোগিতায় নিছে থেকে ব্লাড উপরে আসে। কিন্তু ‘GASTROCNEMIUS শক্তি হৃদপিন্ডের মত নয় তাই সামান্য বাধা পেলেই ব্লাড সাপ্লাইয়ে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।
সে জন্য আমি এখন আপনাদের একটা টেকনিক বলবো যার মাধ্যমে মুখের দিকে ব্লাড সাপ্লাই ঠিক মতই হবে সেটা হচ্ছে নামাজ। কি অবাক হলেন? আসুন বিষয়টা ভালো করে বুঝে নেই।
আমরা যখন নামাজে সিজদা দেই তখন আমাদের হৃদপিন্ড থেকে মুখ নিচে চলে আসে আর যখন মুখ হৃদপিন্ড থেকে নিচে আসে তখন সাধারন ভাবেই মুখে ব্লাড সাপ্লাইটা ঠিক মত হয়, আর যদি মুখে ব্লাড সাপ্লাই ঠিক মত হয় তবে মুখের cell গুলি সুস্থ থাকে, আর মুখের cell সুস্থ থাকলে ব্রণ সমস্যা প্রায় ৫০% কমে যাবে। তাই আপনারা প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করুন পরজীবনে পান মুক্তি এই জীবনে হন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।
-ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম পারভেজ
(D.M.F), ফারিদপুর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ