ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 March 2018, ১ চৈত্র ১৪২৪, ২৬ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নীলফামারীতে সর্বনিম্ন দরে হাট ইজারা দেয়ার অভিযোগ সরকারের ৩৭ লক্ষ টাকা রাজস্ব ক্ষতি

নীলফামারী সংবাদদাতা : নীলফামারীতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময়কালের নিয়মানুযায়ী সর্বোচ্চ দর বাদ দিয়ে বিধি লংঘন করে সর্বনিম্ন দরে হাট বাজার ইজারা দেয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারের ৩৭ লক্ষ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
এ নিয়ে এক দরপত্র সংগ্রাহক নীলফামারী জেলা প্রশাসক বরাবর আজ বুধবার একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। দায়ের করা অভিযোগে জানা যায়, গত ১২/০২/২০১৮ তারিখে জেলার জলঢাকা পৌরসভা হাট বাজার ১৪২৫ বাংলা সনের ইজারার জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। যার স্বারক নং-জল-পৌর/১৮/০৪(২৭)। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময়কালের বিধি মোতাবেক দরপত্রে সম্ভাব্য মূল্য ১,০২,৬৩,১৬৮/= টাকা (এক কোটি দুই লক্ষ তেষট্টি হাজার একশত আটষট্টি) নির্ধারণ করা হয়। অথচ ১৪২৪ সনে ওই একই হাট ১,২৫,১১,১০১/= (এক কোটি পচিশ লক্ষ এগার হাজার একশত এক) টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ৬টি দরপত্র বিক্রি হয় এবং ৩টি দরপত্র জমা পড়ে। বিক্রয়কৃত দরপত্র গত ১২/০৩/২০১৮ তারিখে উম্মুক্ত করা হয়। ৩টি দরপত্রের মধ্যে মেয়র তার পছন্দের লোককে ইজারা দেয়ার জন্য সর্বনিম্ন ও মনগড়া মূল্য ৮৮,০০৫,০০/= (আটাশি লক্ষ পাঁচশ’) টাকায় ইজারা দেয়ার সকল প্রস্তুতি শেষ করে। এতে সরকারের ৩৭ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিধি অনুযায়ী হাট বাজারের সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করা হয় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময়কালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিগত তিন বছরের গড় দরপত্রের সাথে ২৫ শতাংশ যোগ করে। এ বিধিতে জলঢাকা পৌরসভা কতৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরে সরকারের নুতন বিধি অনুযায়ী বিগত তিন বছরের গড় দরপত্রের সাথে ২৫ শতাংশ এর বদলে ৬ শতাংশ হারে ধার্য করার নিয়ম জারি করে।
 কিন্তু জলঢাকা পৌরসভা কতৃপক্ষ পূর্বের নিয়মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ও নুতন পরিপত্রের কোন সংশোধনী পূর্বের প্রকাশিত পত্রিকায় প্রকাশ না করেই নিজের পছন্দমত হারে দরপত্র বিক্রি করে ও নুতন নিয়মে ইজারা প্রক্রিয়া শেষ করে বলে অভিযোগে প্রকাশ। যার বিক্রয় মূল্য ছিল ২১,২০০/=। পূর্বের নিয়মে দরপত্র আহ্বান ও বিক্রি করে নুতন নিয়মে ইজারা দেয়ায় সরকারের ৩৭ লক্ষ টাকা রাজস্ব ক্ষতি করায় এলাকাবাসীর মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী সরকারের স্বার্থ রক্ষায় যথাযথ কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এ ব্যাপারে জলঢাকা পৌরসভার মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী কমেটে’র সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ