ঢাকা, শুক্রবার 16 March 2018, ২ চৈত্র ১৪২৪, ২৭ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নির্বাচনে যাবে বিএনপি ---নজরুল ইসলাম

 

স্টাফ রিপোর্টার : কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তার নেতৃত্বেই দলটি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। যতই টালবাহানা করেন না কেন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতেই হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির মরহুম মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মরণসভার আয়োজন করে ‘ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মো. আবু জাফর, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতউল্লাহ, ন্যাপের মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, জিনাফ এর সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, কারাবন্দী আমাদের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে আটক রাখার জন্য অনেক চেষ্টা হবে। কিন্তু পারবেন না আটকে রাখতে, তিনি বের হয়ে আসবেন। এবং আগামীতে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তার নেতৃত্বেই নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করবো। এবং জনগণ আবার বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করবেন।

তিনি আরো বলেন, কঠিন সময় আমরা অতিক্রম করছি এই কঠিন সময় থেকে আমরা যদি বাঁচতে চাই জীবনধারণের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস থেকে দেশকে মুক্ত করতে চাই দুর্নীতিমুক্ত করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে জনগণের নির্বাচিত তাদের কাছে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।

আর সেটা করার জন্য দরকার জনগণের আন্দোলন। আর বরাবর এ ধরনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে যিনি সফল হয়েছেন, তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের স্মৃতিচারণ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, খন্দকার দেলোয়ার ছিলেন একজন আদর্শবান শহীদ জিয়ার সুযোগ্য অনুসারী। তিনি কখনো বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা করেননি। নির্লোভ এই রাজনীতিবিদ জীবনে বহু অত্যাচার সহ্য করেছেন। তার সন্তানকেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তারপরও তিনি থেমে থাকেননি।

 বিএনপির আজকের দুঃসময়ে খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মতো মহান নেতা খুবই বেশি প্রয়োজন ছিল। তিনি ৫২’র ভাষাসৈনিক, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং জাতীয়তাবাদী দলের গঠনকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

নেতাকর্মীদের সমাবেশের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে ১৯ মার্চ আমাদের সমাবেশ সেই সমাবেশের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে আমাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন। যদিও তারা বরাবরই অনুমতি দেয় তারই ধারাবাহিকতায় এবারও দিয়েছে।

কিন্তু রাষ্ট্র কারা চালাচ্ছে বোঝা মুসকিল। তারা যে সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই হয়ে থাকে। তার পরও এটার জন্য আপনারা প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন। এর মধ্যে যদি নেত্রী মুক্তি পান তাকে দেখার জন্য সমাবেশে লক্ষ লক্ষ জনসমাগম হবে। আর যদি বের হতে না পারেন তাকে সহানুভূতি জানানোর জন্য আরও বেশি লোক উপস্থিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ