ঢাকা, শুক্রবার 16 March 2018, ২ চৈত্র ১৪২৪, ২৭ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় আলিফের বাড়িতে শোকের মাতম

 

খুলনা অফিস : নেপালে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় খুলনার আলিফুজ্জামান আলিফের ভাগ্যে কি ঘটেছে- সেটি জানতে পেরিয়ে গেছে দুইদিন। এ সময়টুকু তার পরিবারের সদস্যদের আশা-নিরাশার মধ্যেই কেটেছে। কিন্তু বুধবার মিডিয়ায় তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করায় শোকে পাথর হয়ে গেছে আলিফের পরিবার। স্তব্ধ হয়েছে আলিফের মমতাময়ী মায়ের কণ্ঠস্বরও। কথা বলতে পারছেন না তিনি। বাকরুদ্ধ হয়ে অসহায়ের মতো ছেলের পথের দিকে চেয়ে আছেন তিনি। আর ঘুরে ফিরে খুঁজছেন তার আদরের ছেলেকে। আলিফুজ্জামানের বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোল্লা আসাদুজ্জামান বিলাপ করে ‘বাবা তুমি কোথায় চলে গেলে, আল্লাহ আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দাও, আমি আর কিচ্ছু চাইনা’ ইত্যাদি বলছেন। সরেজমিনে আলিফদের বাসায় গেলে এ সব দৃশ্য চোখে পড়ে।

আলিফকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান তারা। একাধারে কেঁদেই চলেছেন, আর আলিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্মৃতির কথা আওড়াচ্ছেন। সময় যতই গড়িয়ে যাচ্ছে ততই স্বজনদের ভিড় বাড়ছে। বাড়ছে শোকের মাতম।

আলিফের বড় ভাই আশিকুর রহমান হামিম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টার ফ্লাইটে তার খালু শাহাবুর রহমান নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি সেখানে পৌঁছালেও তাকে কোন কফিন দেখানো বা হাসপাতালে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। যে কারণে তার খালুসহ বন্ধুরাও সঠিক কোন তথ্য দিতে পারছে না। তবে, মিডিয়ায় প্রকাশিত নিহতদের তালিকায় আলিফের নাম তারা দেখেছেন বলে জানান।

আলিফের দুলাভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, ৬ মাস আগে আলিফের বড় ভাই বিয়ে করেছে। ও ঠিকাদারী ব্যবসা করে। আলিফকে বিয়ে দেয়ার কথা চলছিল।

১২ মার্চ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত আরোহীদের মধ্যে আলিফ ছিলেন একজন। আলিফুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি গ্রামে। খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা ও বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন তিনি। খুলনার বিএল কলেজ থেকে এবার মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। ৩ ভাইয়ের মধ্যে আলিফুজ্জামান ছিলেন মেঝ।

আলিফ রূপসার বেলফুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং খুলনার আহসান উল¬াহ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। এরপর ২০০৭ সালে তিনি কাজের সন্ধানে সৌদিতে যান। সেখান থেকে ২০১০ সালে ফিরে খুলনা সিটি কলেজে ভর্তি হয়ে ডিগ্রি পরীক্ষা দেন। সর্বশেষ তিনি খুলনার বিএল কলেজ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এখনও কয়েকটি পরীক্ষা বাকি রয়েছে।

আলিফের বন্ধু জিয়াউল হক মিলন বলেন, আলিফ তার বাল্যবন্ধু ও সহপাঠী ছিলো। ওর সাথে দেখা হলে সব সময় হেসে কথা বলতো। ওর মাস্টার্স পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার মধ্যে ১০ দিনের গ্যাপ থাকায় সেই সময়ে নেপাল যাচ্ছিল। ও ঘোরাঘুরি খুব পছন্দ করতো। ফেরুয়ারির মাঝামাঝি ইন্ডিয়ায় গিয়েছিলো।

নেপালে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার দুই দিন পর খুলনার আলিফের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত হয়েছে তার পরিবার। এ দুই দিন আলিফের পরিবারে সময় কেটেছে উৎকণ্ঠায়। বুধবার আলিফের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ায় শোকের মাতম নেমে আসে পরিবারে।

আলিফের ভগ্নিপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৬ মাস আগে আলিফের বড় ভাই বিয়ে করেছেন। আলিফের বিয়েরও কথা চলছিল।’

জানা যায়, আলিফের মৃত্যুর খবর জানার পর খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি গ্রামজুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার আলিফের খালু শাহাবুর রহমান নেপালে পৌঁছান। কিন্তু তাকে কোনও কফিন দেখানো বা হাসপাতালে ঢুকতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আলিফের বড় ভাই আশিকুর রহমান হামিম।

জিয়াউল হক মিলন নামে আলিফের এক বাল্যবন্ধু বলেন, ‘আলিফের মাস্টার্স পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার মধ্যে ১০ দিনের বিরতি থাকায় আলিফ সময় কাটাতে নেপাল যাচ্ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে আলিফ ভারতে ছিল।’

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ