ঢাকা, শনিবার 17 March 2018, ৩ চৈত্র ১৪২৪, ২৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্কুলকমিটির সভাপতি বটে

সাগরমেখলা কক্সবাজার জেলার উখিয়া থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ন্যক্কারজনক খবর প্রকাশ হয়েছে গত মঙ্গলবার। খবরটি হচ্ছে : পরনের লুঙ্গি খুলে শিক্ষিকাকে শরীর প্রদর্শনের দায়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি দীনেশ বড়ুয়াকে ৬ মাসের কারাদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উখিয়া উপজেলার জালিয়া পালং ইউনিয়নের পূর্ব-পাইন্যাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটে।
গত ১৩ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একরামুল ছিদ্দিক এ সাজা প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত দীনেশ বড়ুয়া জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাইন্যাশিয়া গ্রামের উদয় বড়ুয়ার ছেলে। স্কুল শিক্ষিকা জানান, গত ১১ ফেব্রুয়ারি ক্লাস চলাকালে স্কুলআঙিনার উন্মুক্ত নলকূপে স্কুল সভাপতি দীনেশ বড়ুয়া অর্ধনগ্ন হয়ে স্নান করছিলেন। এতে শিক্ষার্থীসহ শিক্ষিকারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষিকা দীনেশকে অর্ধনগ্ন হয়ে স্নানে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন দীনেশ। এমনকি এ সময় লুঙ্গি খুলে ফেলে শরীর প্রদর্শন করে অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও আপত্তিকর কথাবার্তা বলতে থাকেন তিনি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে পাইন্যাশিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্কুল সভাপতি দীনেশ বড়ুয়াকে আদালত উল্লিখিত সাজা প্রদান করে বলে জানা যায়।
উখিয়ার আলোচ্য ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে সামান্য মনে হলেও নগণ্য নয়। আজকাল অনেক স্কুল-কলেজের পরিচালনা কমিটির লোকজন যথেচ্ছ আচরণ করেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে বসেন। অনেকে শিক্ষকদের চাকরবাকর ভাববার মতো ধৃষ্টতা পর্যন্ত দেখান। আলোচ্য ঘটনার খলনায়ক দীনেশ বড়ুয়াও হয়তো মনে করেছিলেন, যেহেতু তিনি ওই স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি, তাই তিনি সেখানে যা ইচ্ছে তাই করবেন। নাচবেন, গাইবেন, ছাইভস্ম পান করবেন। স্কুলের উন্মুক্ত নলকূপ প্রাঙ্গণে পরনের কাপড় খুলে নৃত্য করবেন। এতে স্কুলশিক্ষক-শিক্ষিকাদের কী? কিন্তু স্কুল চালাতে কিংবা শিক্ষার্থীদের শেখাতে যে একরকম পরিবেশ প্রয়োজন হয় এবং শিক্ষকদেরও নিয়ম-কানুন মানতে ও সভ্যতার মানসিকতা ধারণ করে চলতে হয় তা হয়তো দীনেশ বাবুর মনে ছিল না। তাই তিনি স্কুলের উন্মুক্ত নলকূপে ‘লুঙ্গিড্যান্স’ অবস্থায় ক্লাসচলাকালে স্নানপর্ব সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন। অথবা কোনও ছাইভস্ম পান করে মাথাগরম অবস্থায় স্নান করতে গিয়েছিলেন। অন্যথায় কোনও ভদ্রলোক স্কুলের খোলা নলকূপে ক্লাসচলাকালে প্রায় নগ্ন হয়ে স্নান করতে যাবেন কেন?
আমরা মনে করি, আলোচ্য স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি দীনেশ বড়ুয়া যে কর্ম করেছেন তা আমাদের সমাজব্যবস্থায় নিঃসন্দেহে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকারা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে দীনেশ বাবুকে যে গণধোলাই দেননি এজন্য তাকে ভাগ্যবানই বলতে হয়। আমরা শিক্ষিকাদের সাধুবাদ জানাই। তারা যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির বিবেকবোধহীন সভাপতিকে আইনের হাতে সোপর্দ করবার ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে ৬ মাসের সাজা খুব বেশি নয়। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি কী মূর্তিধারণ করেন কে জানে! তাই সময় থাকতে কা-জ্ঞানহীন লোকটিকে স্কুল পরিচালনা কমিটি থেকে ঝেড়ে ফেলা দরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ