ঢাকা, শনিবার 17 March 2018, ৩ চৈত্র ১৪২৪, ২৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশে নির্বাচন করার মতো কোনো পরিবেশ নেই

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি না হলে আসন্ন ৫ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভেবে দেখবে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মানিকগঞ্জের ঘিওরের পাচুরিয়া গ্রামে বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানান। তিনি বলেন, এ নির্বাচনের অর্থ হচ্ছে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে আরো পোক্ত করা। সুতরাং জনগণের এই ধরনের নির্বাচনের প্রতি খুব একটা সমর্থন থাকবে না। আমরাও এই নির্বাচনগুলোতে অংশ গ্রহণ করবো কিনা- এটা আমাদেরকে ভেবে দেখতে হবে। বর্তমান যে পরিবেশ-পরিস্থিতি আছে ও অবস্থা বিরাজ করছে তাতে বর্তমানে নির্বাচন করার মতো কোনো পরিবেশ নেই।
মির্জা ফখরুলের কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন রাখা হয়েছিলো, নির্বাচন কমিশন পাঁচ সিটি করপোরেশনে জুলাই মাসের মধ্যে নির্বাচন করবে বলে জানিয়েছে। এটা কী সরকার আপনাদেরকে চাপে রাখার জন্য করছে বলে মনে করেন? জবাবে তিনি বলেন, এই সরকার, এই সরকারের তৈরি করা যে নির্বাচন কমিশন- এদের লক্ষ্য একটাই। লক্ষ্যটা হচ্ছে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় বসানো এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করা। এই নির্বাচন কমিশন যে সরকারের ইচ্ছাগুলোর প্রতিফলন ঘটাবে এটাতে আমরা কোনো অবাক হচ্ছি না।
তিনি বলেন, দেশের এখন বড় সংকট কী? সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে দেশে গণতন্ত্র নেই, মানুষের অধিকার নেই, মানুষের মানবাধিকার নেই- এই বিষয়গুলো এড়িয়ে শুধু নির্বাচন করলেই গণতন্ত্র হয় না, গণতন্ত্র হবে না। সেই কারণে আমরা মনে করি, যতক্ষণ পর্যন্ত না নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড তৈরি হচ্ছে, সব দলের সমান অধিকার দেয়া হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এখানে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে বলে আমরা মনে করি না।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মতো বিএনপির মহাসচিবও রাবিশ রাবিশ উচ্চারণ করলেন। আওয়ামী লীগ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে- এ ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া কি?
জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাকচ করে দিয়ে বলেন, রাবিশ। রাবিশ। এটি ডাহা মিথ্যা কথা। এ সময়ে নেতা-কর্মীরা শ্লোগান দিতে থাকে ‘খালেদা জিয়া ছাড়া কী নির্বাচন হবে? নেতা-কর্মীরা সমস্বরে বলতে থাকে ‘না না’।
ওয়ান ইলেভেন এর সেনা সমর্থিত তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়টিকে ‘দুঃসময়’ হিসেবে অভিহিত করে ওই সময়ে খন্দকার দেলোয়ার হোসেন দলের মহাসচিবের দায়িত্ব নেবার কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ওই সময়েও অবৈধ সরকার দেশনেত্রীকে কারারুদ্ধ করেছিলো। তখন খন্দকার দেলোয়ার হোসেন দলের হাল ধরে বিএনপিকে বাঁচিয়েছেন এবং দলকে শক্তিশালী করছিলেন। আজকে বিএনপির পক্ষ থেকে তার কবর জিয়ারত করে তার প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানিয়েছি এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছি।
 দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছেন তাকে এই অনির্বাচিত অবৈধ সরকার একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। এই সময়ে খোন্দকার দেলোয়ার সাহেবের এই মৃত্যুবার্ষিকী এবং এখানে আমাদের আসা নতুন করে  উজ্জীবিত করবে, বিএনপির নেতা-কর্মীদের অনুপ্রেরণা যোগাবে। গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করবার জন্য বিএনপি যে ভূমিকা পালন করছে সেটাকে আরো সুসংহত ও ঐক্যবদ্ধ করে, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করবে এটাই আমাদের প্রত্যয়।
বিএনপির সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ৭ম মৃত্যবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে নেতা-কর্মীদের নিয়ে মির্জা ফখরুল মানিকগঞ্জের পাচুরিয়া যান। কবরের পাশে মসজিদে জুমার নামায আদায় করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। এরপর কবর জিয়ারত করেন বিএনপি মহসচিব।
এ সময়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জেলা সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম শান্ত, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, শামীমুর রহমান শামীম, অর্পনা রায়, রুখসানা খানম মিতু, ইসহাক সরকার, চেয়ারপার্সনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে খোন্দকার আকবর হোসেন বাবুল, খোন্দকার আখতার হামিদ ডাবলু, খোন্দকার আবদুল হামিদ পবন ও মেয়ে দেলোয়ারা হোসেন পান্নাসহ আত্মীয়-স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
২০১১ সালের ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। শুক্রবার ছিল তার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী খোন্দকার দেলোয়ারের জন্ম ১৯৩৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি এলএলবি ডিগ্রিও অর্জন করেন। রাজনীতির শুরু মওলানা ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি দিয়ে পরে ১৯৭৯ সালে খোন্দকার দেলোয়ার বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১/১১ এর সময়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার সময়ে আবদুল মান্নান ভুঁইয়াকে বহিষ্কার করে খোন্দকার দেলোয়ারকে মহাসচিব নিয়োগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক খোন্দকার দেলোয়ার মানিকগঞ্জ- ১ আসন থেকে পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সংসদের ক্ষমতাসীন দল বিএনপি চীফ হুইপ ও বিরোধী দলেরও চিফ হুইপ নির্বাচিত হয়েছিলেন। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স হলে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ