ঢাকা, শনিবার 17 March 2018, ৩ চৈত্র ১৪২৪, ২৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে -ব্যারিস্টার মওদুদ

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন আয়োজিত নাগরিক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা একদিকে বলে নির্বাচনে আসুন, অন্যদিকে বিরোধী দলকে কোনো কথা বলতে, সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। এটা কেমন প্রতারণা? আসলে প্রতারণা বলতে যা বোঝায়, আওয়ামী লীগ তার চ্যাম্পিয়ন।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক নাগরিক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এই সভার আয়োজন করে।
ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বললেও তার পরিবেশ তৈরি করছে না। বিরোধী দলগুলোকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সরকারি খরচে নৌকায় ভোটের প্রতিশ্রুতি চাইছেন, যা নির্বাচনী আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, বিএনপি একমাত্র বিরোধী দল, যারা আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী। যতই কৃত্রিম বিরোধী দল তৈরি করেন না কেন, কাজ হবে না। সবার অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। নিজেদের মতো ভোটের চেষ্টা আর সফল হবে না।
মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা ষড়যন্ত্র করে নির্বাচন চাই না। আমরা চাই, গণতান্ত্রিক পরিবেশে জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। কারণ, দেশের জনগণই আমাদের একমাত্র শক্তি। কিন্তু আমাদের সব গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। কোথাও সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ বলা হচ্ছে, সরকার চায় সব দল নির্বাচনে আসুক।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, দেশের মানুষ শান্তি ও গণতন্ত্রপ্রিয়। তারা স্বৈরাচার, একদলীয় শাসন পছন্দ করেন না। আমার বিশ্বাস করি, জনগণের বিজয় নিশ্চিত হবে। খালেদা জিয়া জামিনে মুক্ত হয়ে আসবেন, কোনো ষড়যন্ত্র তাঁকে আটকে রাখতে পারবে না।
ব্যারিস্টার মওদুদ আরও বলেন, বাংলাদেশে এখন সংবাদপত্রের শান্তিপূর্ণ স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই। তাঁরা চাইলে সব কথা তুলে ধরতে পারেন না। বিএনপির নিউজ একটু বেশি দিলেই তাদের কাছে ফোন আসে।
সাবেক এই আইনমন্ত্রী, নিম্ন আদালত সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর গেজেট প্রকাশ করে পুরোটাই সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। আগে যেটি ছিল সুপ্রিম কোর্টের হাতে, কিন্তু এখন সেটি নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে।
মওদুদ আরো বলেন, এখন আর কোনো ভয়-ভীতি ও শঙ্কামুক্ত রায় দেওয়া সম্ভব নয়। সেটা আমি নিজে হলেও পারতাম না। কারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খাতা-কলমে আছে, কিন্তু বাস্তবে নেই। কোনো বিচারক মুক্তমনে বিচার করতে পারেন না।
বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বেরিয়ে আসবেন- এমন অভিমত ব্যক্ত করে মওদুদ বলেন, যতই কলাকৌশল করেন না কেন, বেগম জিয়ার কারামুক্তি যতই আপনারা বিলম্বিত করেন না কেন, বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে আসবেই এবং বাংলাদেশে আবার তারই নেতৃত্বে গণতন্ত্র ফিরে আসবে।
ব্যারিস্টার মওদুদ আরও বলেন, সরকার বলছে, আমরা চাই সকল দল নির্বাচনে আসবে। বিএনপি নির্বাচন করবে। খুব ভালো কথা, সুন্দর কথা। কিন্তু কাজে কর্মে কী হচ্ছে ? মাঠ পর্যায়ে কী হচ্ছে? হাত-পা শক্ত করে বেঁধে বিএনপিকে বলছেন, এখন আপনারা সাঁতার কাটুন। আমাদের সাঁতার কাটতে বলছেন। আমাদের নেত্রী জেলখানায়। আমাদের বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলা দেয়া হয়েছে। ১১ লাখ আমাদের নেতাকর্মী আসামী। হাজার হাজার নেতাকর্মী জেলখানায়। বেছে বেছে আমাদের মিড লেবেলের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
এই আইনজীবী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অধিকার আছে তার দলের জন্য নির্বাচনী প্রচারণা করতে পারেন। কিন্তু তা পারেন দলের সভানেত্রী হিসাবে। তিনি কোন মতেই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে, সকল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে, জনগণের খরচে উন্নয়নমূলক কাজ করে দেবেন বলে, দলের নির্বাচনী প্রচারণা করতে পারেন না। তিনি যাবেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে, দলের জন্য ভোট চাইবেন তাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে তার পাশাপাশি অন্য দলকেও একই সুযোগ-সুযোগ সুবিধা দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনকে পদলেহী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের কোনো জোর নেই। তাদের কোমড়ে জোর নেই। এর কোনো সাহস নেই। চোখের সামনে তারা দেখছে, একটি দল সরকারি খরচে, নিজের অফিসিয়াল পদকে ব্যবহার করে এক একটি জেলায় গিয়ে উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করছে। নির্বাচন আচরণ বিধিতে আছে কোনো প্রকার লোভ ভোটারদের দেখাতে পারবেন না। এটি সম্পূর্ণ নীতি বিরোধী। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কিছুই করছে না।
বিচার বিভাগের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, উচ্চ আদালত খালেদা জিয়ার জামিন দিয়ে দিলেন। উচ্চ আদালতের আর কোনো সম্মান থাকে, যদি নিম্ন আদালত নোটিশ দিয়ে বলে তুমি বের হতে পারবা না। জেলাখানা অথোরটি বলবে দেখেন ওয়ারেন্ট এসে গেছে। উচ্চতম আদালত বললো আপনি মুক্ত, আর কোথাকার একটা চুনোপুটি বললো আপনি শোন অ্যারেস্ট। এই পদ্ধতি বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই সরকারের আমলে বাংলাদেশের সব থেকে বড় ক্ষতি হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয়া।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিমসহ অনেকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ