ঢাকা, শনিবার 17 March 2018, ৩ চৈত্র ১৪২৪, ২৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশে প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, পৃথিবীতে রক্তের চেয়ে দামি কিছু নেই। রক্ত এবং জীবন এক ও অভিন্ন। রক্তদানের চেতনা সার্বজনীন। এ চেতনা অসাম্প্রদায়িক। রক্তের ঋণ কখনো শোধ হবার নয়। তাই রক্তদাতাদের এ মূল্যবোধকে আরও সম্প্রসারণ করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত রক্তদাতাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয় দেশের প্রতিবছর ৭ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে ২৫-৩০ শতাংশ আসে স্বেচ্ছায় দেয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে।
রক্তদাতাদের সম্মাননা বিষয়ে তিনি বলেন, রক্তদাতাদের প্রতি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের এ সম্মাননা, এ স্বীকৃতি আসলে শুধু রক্তদাতাদেরই অনুপ্রেরণা দিচ্ছে না, এর মাধ্যমে অন্যরাও এমন ভালো কাজে উৎসাহিত হবে। এভাবেই দেশের রক্তের ঘাটতি একদিন পূরণ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে কমপক্ষে ১০ ও ২৫ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন, এমন ২৩২ জন স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে আইডি কার্ড, সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত মনোরোগ ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জহির উদ্দিন আহমাদ। তিনি রক্তদাতাদের এ মহতী কাজের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন মুস্তারী চৌধুরী রিমকী ও নিয়মিত রক্তগ্রহীতাদের মধ্য থেকে অনুভূতি জানান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সুমাইয়া আক্তার সিমি।
সভাপতির বক্তব্যে কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মাদাম নাহার আল বোখারী বলেন, রক্তদাতারা তাদের জীবনের মূল্যবান জিনিস ‘রক্ত’ দান করে যাচ্ছেন। শারীরিক ও বয়সজনিত কারণে অনেকে রক্ত দিতে পারেন না। রক্তদাতাদের তাই শুকরিয়া করা উচিত যে, তারা এমন একটি মহৎ কাজ করতে পারছেন। আর সমগ্র মানবজাতির পক্ষেও রক্তদাতাদের এ দানের ঋণ শোধ হবে না। রক্তদাতাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। এর মধ্যে ২৫-৩০ শতাংশ আসে স্বেচ্ছায়। ৫০-৫৫ শতাংশ আসে রোগীর আত্মীয়-পরিজনের কাছ থেকে। বাকি ২০-২৫ শতাংশ আসে পেশাদার রক্ত বিক্রেতার কাছ থেকে। রক্তের এ চাহিদার পুরোটাই স্বেচ্ছায় পূরণ হোক কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ