ঢাকা, শনিবার 17 March 2018, ৩ চৈত্র ১৪২৪, ২৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মন্ত্রীরা সকাল-বিকাল মিথ্যাচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে -নজরুল ইসলাম খান

স্টাফ রিপোর্টার : খালেদা জিয়া ছাড়া সমাবেশে এত লোক হতে পারে তা দেখে আওয়ামী লীগ লজ্জিত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকার হিটলারের কৌশল ব্যবহার করছে তারা মিথ্যাকে হাজার বার বলে জনগণের কান বারি করে মানুষকে বিশাস করতে বাধ্য করছে। সরকারের মন্ত্রীরা সকাল-বিকাল মিথ্যাচার করে মানুষ বিভ্রান্ত করছে।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডক্টর্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাব আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা-ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাজা দেয়ার প্রতিবাদ ও সকল রাজবন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
নজরুল ইসলাম খান ক্ষোভের সাথে বলেন, আমরা যে সপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সে সপ্ন এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হলো না আমাদের আবার একসাথে যুদ্ধ করতে হবে। সবচেয়ে দুঃখ লাগে আমরা যে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলাম সেই শেখ মুজিব ও তার পরিবার গণতন্ত্র নষ্ট করেছে তাদের কারণে সাধীনতা আজ হুমকির মুখে। ধরা যাবে না ছৌঁয়া যাবে না বলা যাবে না কথা, রক্ত দিয়ে পেলাম এমন সাধীনতা।
খুলনায় বিএনপির সমাবেশের কথা উল্লেখ করে নজরু ইসলাম খান বলেন, আমরা বলেছি, আমাদের নেত্রী জেলে, এরপরও আমরা সার্কিট হাউজে সমাবেশ করবো। কিন্তু এরপরও আমাদের অনুমিত দিতে সাহস পায়নি। কারণ বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া এত লোক হতে পারে, এতে তারা লজ্জিত হয়ে পড়েছে। পরে রাস্তায় মধ্যে দেড়টার সময় অনুমতি দিয়েছে, ২টায় আমরা ব্যানার লাগিয়েছি এবং আড়াইটায় মিটিং শুরু। এরপরও হাজার হাজার লোক হয়েছে খুলনায় রাজপথের মিটিংয়ে।
৯ বছরে বিএনপি ৯ মিনিটও আন্দোলন করতে পারে নাই- আওয়ামী লীগ নেতাদের এ বক্তব্যে পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, বিএনপি তো আন্দোলন করতে পারে না তাহলে বিএনপিকে একটি মিটিং এর অনুমতি দিতে ভয় পান কেনো ? সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ ও অন্যন্যা রাজনৈতিক দল সমাবেশ করছে। আর গ-গোল হবে বলে আমাদের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না।
বিএনপির মরা গাঙ্গে আর জোয়ার আসবে না- আওয়ামী লীগ নেতাদের এ বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম বলেন, আপনাদের যে দল, সেই দল ২১ বছর ক্ষমতায় বাইরে ছিল। তারপরে আপনাদের জোয়ার আসলো। তাদের যদি ২১ বছর পরে আসতে পারে, তাহলে বিএনপির আসবে না কেনো? সমস্যাটা কি?
বিএনপির এত বছর দেরী করতে হবে না, কাল একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দেন। দেখুন, আওয়ামী লীগের লোকেরাই বলবেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন,  যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। সেই স্বপ্নটা এখনও পূরণ হলো না! বারবার চেষ্টা করা হয়েছে। বারবার মানুষ জীবন দিয়েছেন। ডা. মিলন জীবন দিয়েছেন। এই রকম অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন। আমি জানি না, আরও কত বছর আমাদের এবং আমাদের পরবর্তী মানুষদের জীবন দিতে হবে। কিন্তু গণতন্ত্র অধরা থেকে যাবে! এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। এত মানুষ জীবন দিয়েছেন, মা, বোন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছের। সেই গণতন্ত্রের জন্য আবার লড়াই করতে হবে? এতবড় দুর্ভাগ্য আর কিছু হতে পারে না।
আরও বড় দুর্ভাগ্য এই যে, যার নামে আমরা লড়াই করলাম। এটা সত্য কথা শেখ মুজিবুরের ডাকে আমরা লড়াই করেছি। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের নামও বলেছেন। আমরা কখনো বলি না শেখ মুজিবুর রহমানের থেকে জিয়াউর রহমান বড় নেতা। অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধে ও স্বাধীনতা যুদ্ধের লড়াইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নামটাই ছিল বড়। কিন্তু সেই মানুষটা নিজের হাতে গণতন্ত্রকে জবাই করে একদলীয় স্বৈরশাসন কায়েম করলেন। কার পরামর্শে এবং কেনো করলেন তা জানি না। 
নজরুল ইসলাম উল্লেখ করেন পত্রিকায় এসেছে মানবাধিকার সূচকে বিশ্বে আমরা ৪ ধাপ নিচে নেমে গিয়েছি। স্বাভাবিক, ভদ্র লোকে সেটা করেছে বলে ৪ ধাপ। আর যদি ছাত্রনেতা মিলনের ঘটনা দেখতো তাহলে আরো কয়েক ধাপ নামিয়ে দিতো।
ড্যাবের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ