ঢাকা, শনিবার 17 March 2018, ৩ চৈত্র ১৪২৪, ২৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জমে উঠেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনী প্রচারণা

স্টাফ রিপোর্টার: জমে উঠেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনী প্রচারণা। প্রার্থীদের গণসংযোগ, সমর্থকদের মিছিল, লিফলেট ও কার্ড বিতরণে জমজমাট হয়ে উঠেছে আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণ। এছাড়া আদালতের বাইরেও
বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, ক্লাবে আইনজীবীদের সঙ্গে আলাদা আলাদা মতবিনিময় সভা করছেন প্রার্থীরা। আগামী ২১ ও ২২ মার্চ এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে সভাপতি সম্পাদকসহ ১৪টি পদে মোট ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নির্দলীয় হলেও বরাবরের মতো এবারো আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত দুটি আলাদা প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এ দুটি প্যানেলের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ দুটি প্যানেল ছাড়াও বিভিন্ন পদে আরো পাঁচজন আইনজীবী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।
নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (নীল) হয়ে সভাপতি পদে লড়ছেন বর্তমান সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক পদে লড়ছেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অপরদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের (সাদা) প্যানেলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। সম্পাদক পদে লড়ছেন শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলে সহসভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, এম গোলাম মোস্তফা, কোষাধ্যক্ষ পদে নাসরিন আক্তার, সহসম্পাদক কাজী জয়নুল আবেদীন, আনজুমানারা বেগম। সদস্য পদে লড়ছেন ব্যারিস্টার সাইফুর আলম মাহমুদ, মো. জাহাঙ্গীর জমাদ্দার, মো. এমদাদুল হক, মাহফুজ বিন ইউসুফ, সৈয়দা শাহীনারা লাইলী, মো. আহসান উল্লাহ ও মোহাম্মদ মেহদী হাসান।
সরকার সমর্থক প্যানেলে সহসভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এডভোকেট আলালউদ্দীন ও ড. মোহাম্মদ শামসুর রহমান, ট্রেজারার পদে ড. মোহাম্মদ ইকবাল করিম, সহসম্পাদক মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক ও ইয়াদিয়া জামান। সদস্য পদে লড়ছেন ব্যারিস্টার আশরাফুল হাদী, হুমায়ুন কবির, চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, শাহানা পারভীন, রুহুল আমিন তুহিন, শেখ মোহাম্মদ মাজু মিয়া, মোহাম্মদ মুজিবর রহমান সম্রাট।
এই দুই প্যানেলের বাইরে আরো পাঁচজন বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হচ্ছেন, সভাপতি পদে এডভোকেট ইউনুস আলী আকন্দ ও শাহ খসরুজ্জামান, সহসভাপতি পদে মো. আব্দুল জব্বার ভুইয়া, সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল বাসার, ও সদস্য পদে তাপস কুমার দাস। এবারের নির্বাচনে মোট ছয় হাজার ১৫২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি প্রার্থী এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় বর্তমান সরকার কাজ করছে। আইনজীবীদের সব উন্নয়নে আমি অতীতেও কাজ করেছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকব।
তবে সরকার সমর্থক এই প্রার্থীর দাবি নাকচ করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান সম্পাদক ও নির্বাচনে সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সংগ্রামকে বলেন, বিচার বিভাগের কেউ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। মর্যাদার দিক দিয়ে বিচার বিভাগ তলানিতে এসে গেছে। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে যেভাবে সরানো হয়েছে তাতে সবার মাঝে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। কোনো বিচারক সাহসের সঙ্গে কাজ করতে পারছেন না। ভীতি কাজ করছে। বিচার প্রার্থীরা ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না। বিচারকদের সাহস যোগাতে হবে। সেই সাহসের জন্য আইনজীবী সমিতি কাজ করবে।  খোকন বলেন, রাষ্ট্র বিচারপতিদের জন্য বৈরি হয়ে উঠেছে। বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। আমাদের প্রথম কাজ হবে বিচার বিভাগের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা। সুপ্রিম কোর্টে ৯১০০ আইনজীবী। তাদের সবার বসার জায়গা নেই। তা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইনজীবী তৈরি করা। রাষ্ট্র সেটি করতে ব্যর্থ। নতুন আইনজীবীদের কমপক্ষে তিন বছর ভাতা দিতে হবে। এ দাবি আমরা তুলেছি। নারী আইনজীবীদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এই আইনজীবী নেতা বলেন, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগে নীতিমালা করতে হবে। অযোগ্য দলবাজদের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সৎ, সাহসী ও মেধাবীদের নিয়োগ দিতে হবে। সর্বোপরি নির্বাচিত হওয়ার পর আবারো আমরা অতীতের মতো গণতন্ত্র,আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ