ঢাকা, শনিবার 17 March 2018, ৩ চৈত্র ১৪২৪, ২৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকায় দৌড়ঝাঁপ 

 

খুলনা অফিস : গত ৩রা মার্চ সার্কিট হাউজ মাঠের জনসভা সফল হওয়ায় খুলনায় আওয়ামী লীগ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভায় বক্তৃতাকালে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক নেতারা নির্বাচনী এলাকায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সময় বেশি না থাকায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা লবিং গ্রুপিং করেছেন ঢাকায়। 

এদিকে দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠের জনসভায় বক্তৃতা শেষ করে মঞ্চ থেকে নেমে খুলনার নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সবাইকে নির্বাচনে জয়ের জন্য কাজ করতে হবে। পাশাপাশি যে সকল জেলায় দলীয় কোন্দল রয়েছে সেগুলো দ্রুত নিরসন করতে হবে। 

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। ফলে যাকে মনোনয়ন দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসবে তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর সংসদ সদস্যরা নড়েচড়ে বসেছেন। খুলনার এমপিরা এখন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন। বর্তমান এমপিসহ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা, কর্মীসভাসহ বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। কদর বাড়তে শুরু করেছে ত্যাগী নেতাকর্মীদের।

এদিকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এবং খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন স্থানীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- জনগণের কাছে তুলে ধরতে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশও দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী বাছাই এর কাজ শুরু করা হয়েছে। গত জানুয়ারি মাস থেকে খুলনা বিভাগের আসনগুলি কেন্দ্রীয় প্রার্থী বাছাই কমিটি নজরদারীতে রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সাবেক আমলা এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্যের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি টিম প্রতিমাসে গোপনে খুলনা বিভাগ সফর করছেন। টিমের সদস্যরা কবি, সাহিত্যিক, গণমাধ্যমকর্মী ও প্রগতিশীল সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের সাথে পৃথক পৃথক ভাবে দফায় দফায় বৈঠক করছেন।

কেন্দ্রীয় প্রার্থী বাছাই কমিটির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। কোন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি বা নেতার কর্মকা-ে এ ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হোক তা কোন অবস্থায়ই সহ্য করা হবে না। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যাদের কর্মকা-ে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে তাদেরকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হবে না। যাদের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ নয় এবং ভোটারদের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তারাই আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়নের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

সূত্র বলছে, বিভাগওয়ারী প্রার্থী বাছাই কমিটির প্রতিবেদন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দফতরে জমা দেয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দফতরে চলে যাচ্ছে।

এদিকে খলনার ৬টি আসনে আসন্ন নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, খুলনা-১ (বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা) : বর্তমান সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য ননী গোপাল মন্ডল, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ এবং দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবুল হোসেন।

খুলনা-২ (সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা) : বর্তমান সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান, খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সাইফুল ইসলাম এবং তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও সাবেক ফুটবলার সালাম মুর্শেদী। খুলনা-৩ (খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা) : বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন ও বিজেএ’র চেয়ারম্যান এবং দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী।

খুলনা-৪ (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া) : খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক হুইপ, বর্তমান সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য মোল্লা জালাল উদ্দিন, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও সাবেক ফুটবলার সালাম মুর্শেদী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল।

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া ও ফুলতলা) : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল ইসলাম।

খুলনা-৬ (কয়রা ও পাইকগাছা) : বর্তমান সংসদ সদস্য এডভোকেট শেখ মো. নুরুল হক, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট সোহরাব আলী সানা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবু।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ