ঢাকা, শনিবার 17 March 2018, ৩ চৈত্র ১৪২৪, ২৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্টোর গুলো সিনেমা হলের ন্যায় দশা বাগমারায় আলু নিয়ে বিপাকে চাষিরা

বাগমারা(রাজশাহী) সংবাদদাতা: রাজশাহীর বাগমারায় আলুচাষিরা আলুর কম দাম ও স্টোরজাতে বাড়তি ভাড়ায় আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। চলতি মওসুমে শ্রমিকের বাড়তি মজুরীতে মাঠে  আলু রয়ে  গেছে। গত বছর আলুতে ব্যাপক লোকসান গুণে স্বর্বশান্ত্ব কৃষক এ বছর ধার দেনা করে পূর্বের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাপক উৎসহ উদ্দীপনা নিয়ে আলু চাষ শুরু করে। প্রতিকুল আবহাওয়া, সার ও বীজের ব্যাপক মূল্য বৃদ্ধির কারণে এবার আলু চাষ করতে কৃষকের ব্যাপক খরচ বেড়ে যায়। বর্তমানে আলু তোলা পুরা দুম চলছে। জমি থেকে আলু তুলে সেই আলু হাটে নিয়ে গিয়ে দেখছে এবারও আলুর দাম পড়ে গেছে। কম দামেও কৃষক আলুর ক্রেতা না পেয়ে ডবল পরিবহন খরচ বাঁচাতে স্বল্প দামেই তারা আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এদিকে ভবিষ্যতে আলুর দাম বাড়তে পারে এমনটিতে তারা স্টোরজাত করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন।
জানা গেছে, এ অঞ্চলের কৃষকরা অর্থকারী ফসল হিসেবে আলুচাষ বেশী করে। এ বছর দীর্ঘ মেয়াদী কুয়াশা ও শীতের কারণে আলু ক্ষেতে পচন দেখা দেয়। আর এই রোগ সারাতে কৃষককে হিমসিম খেতে হয়। উৎপাদন খরচ বহুগুন বেড়ে যায়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এছর এই উপজেলায় ৫ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৫শ হেক্টর কম।
বালানগর গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন জানান, এ বছর আলুর ফলন কম। প্রতি বছর যেখানে প্রতি শতক জমিতে ২৫ থেকে ৩০ বস্তা আলু হতো সেখানে ১৫ থেকে ২০ বস্তা হারে আলু হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ উঠছে না।
গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান জানান, তিনি এ বছর তিন একর জমিতে আলু লাগিয়েছে। আলু তোলার সময় হলেও ক্রেতা না থাকায় কারণে তুলতে পারছেন না। একই ভাবে গোপালপুর গ্রামের কৃষক ফিরোজ উদ্দিন জানান, এ বছর কোল্ড  স্টোরেজ গুলোতে ৫০ কেজি বস্তা ছাড়া আলু গ্রহণ করবে না। এতে করে কৃষকদের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। গড়ে দুই মন আলু স্টোরে রাখতে আগের তুলনায় তাদের একশ থেকে দেড়শ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এ জন্য অনেক কৃষক স্টোরে আলু রাখতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। আলু ব্যবসায়ী শিকদারী বাজারের রফিকুল জানান, বর্তমান বাজারে আলু প্রতি মণ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, বার্মা ২২০ থেকে ২৫০ ও কার্ডিনাল ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান, তুলনামূলক ভাবে এ বছর আলুর উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। সে তুলনায় ন্যায্য মূল কৃষক বঞ্চিত হচ্ছে। তবে আলুর দাম আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি জানান।
এদিকে আলু স্টোরজাতে বিগত দিনে প্রতি বস্তা (৮৫) কেজি আলু শ্রমিকের দাবিতে বস্তায় এবারে ৫৫ কেজি আলু তোলার নিয়ম করেছে স্টোর এ্যাসিসিয়েশন। এতে নাগালের বাইরে ভাড়া ও অতিরিক্ত বস্তা গুনতিতে স্টোরজাত করতে আগ্রহ হারিয়ে  ফেলছে কৃষকরা। এলাকায় স্টোর গুলোতে আলু জমা না হওয়ায় স্টোর মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। হাটে বাজারে চলছে স্টোর গুলোর চুল চেরা বিশ্লেষণ কেউ কেউ মনে করছেন, স্টোর গুলো যেন অকেজো সেনামা হলের অবস্থায় দাঁড়িয়ে যাবে। আলুর এহেন অবস্থাতে আলুর ব্যবহার বৃদ্ধির সচেতনাকরণ ও সরকার ব্যবস্থাপনায় বাইরের দেশে রপ্তানীর জন্য এলাকাবাসী সরকারের নিকট আবেদন জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ