ঢাকা, শনিবার 17 March 2018, ৩ চৈত্র ১৪২৪, ২৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

র‌্যাবের সাথে গুলী বিনিময়ে জলদস্যু ইব্রাহীম মাঝি নিহত

চট্টগ্রাম অফিস : র‌্যাবের সাথে গুলী বিনিময়ে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন চর এলাহী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দুর্গম চর আমজাদ এলাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী/জলদস্যু ইব্রাহীম মাঝি নিহত হয়েছে। এ সময় ১৩টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে।
র‌্যাব ৭ সূত্রের খবর, বংগোপসাগরে গভীর সমুদ্রে জেগে ওঠা চর ও দ্বীপগুলো বাংলাদেশের মূল ভূ-খন্ড থেকে দূরবর্তী ও সাগর বেস্টিত হওয়ায়, বহুদিন ধরে জলদস্যু এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী গ্রুপ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি এবং আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে ইলিশ মাছ আহরণের মওসুমে এদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অংশ হিসেবে র‌্যাব জোরালো ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০১৪/২০১৫/২০১৭ এর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী/জলদস্যু ও তাদের দলের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয় ও বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় এলাকায় নদীর মোহনাগুলোতে জেলেদের মৎস্য আহরণ নির্বিঘ্ন ও নিশ্চিতকরণ এবং অপহরণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে জলদস্যু প্রবণ এলাকায় র‌্যাবের নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৫ মার্চ   র‌্যাব-৭ এর একটি   দল জানতে পারে যে, নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন চর এলাহী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দুর্গম “চর আমজাদ” এলাকায় সমুদ্রে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে একটি কুখ্যাত জলদস্যু বাহিনী অবস্থান করছে। এ সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭ এর  দলটি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানাধীন মুসাপুর স্লইজ গেইট এলাকা থেকে গভীর সমুদ্র পাড়ি দিয়ে   ১৬ মার্চ ভোর ৪টায় সেখানে  জলদস্যু বাহিনীর অবস্থান নিশ্চিত করে। এ সময় জলদস্যু বাহিনী র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে র‌্যাবকে লক্ষ করে এলোপাথারিভাবে গুলী বর্ষণ করে। আত্মরক্ষা ও সরকারি জানমাল রক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলী বর্ষণ করে। প্রায় ৩০ মিনিট গোলাগুলীর এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে একজনকে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিকে নোয়াখালী জেলার মাইজদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে সর্বমোট ১৩টি অস্ত্র (১টি ৭.৬৫ মিঃ মিঃ বিদেশী পিস্তল, ১টি .৩০৩ রাইফেল, ৬টি ওয়ানশুটার গান, ৫টি এসবিবিএল), ২টি ম্যাগাজিন, ৩১ রাউন্ড গুলী/কার্তুজ (২ ী ৭.৬৫ মিঃ মিঃ পিস্তল, ৯ ী . ৩০৩ মিঃ মিঃ এবং ২০ ী ১২ বোর), ৩টি চাপাতি এবং ৭ রাউন্ড খালি খোসা উদ্ধার করে।
 এ সময় স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায় যে, নিহত ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০১৪/২০১৫/২০১৭ তালিকাভুক্ত শীর্ষ জলদস্যু মোঃ ইব্রাহীম মাঝি (৪৫), পিতা- মৃত সেরাজ কামাল,  গ্রামঃ উড়ির চর,  ৩নং ওয়ার্ড, থানাঃ সন্দ্বীপ, জেলাঃ চট্টগ্রাম। উল্লেখ্য, তার বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, অপহরণ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন থানায় ৯ (নয়) টির অধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। উক্ত ঘটনায় ২ জন র‌্যাব সদস্য আহত হলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। নিহত ব্যক্তি, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ