ঢাকা, শনিবার 17 March 2018, ৩ চৈত্র ১৪২৪, ২৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ওয়াটারলু যুদ্ধ

আখতার হামিদ খান : পলাশীর যুদ্ধে যদি নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় না ঘটতো তাহলে নিশ্চয়ই ভারতের ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা না ঘটলে ঘটনাপ্রবাহের গতি কোন দিকে মোড় নিতো তার চিত্র আঁকতে অনেকের ভাল লাগে। ইতিহাসে এরকম  যতগুলো স্মরণীয় ঘটনা আছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান ঘটনাটি হলো ওয়াটারলুর যুদ্ধে ফ্রান্সের স¤্রাট এবং বিশ্বজয়ী সমরবিদ নেপোলিয়ন বোনাপার্টের পরাজয়। এই যুদ্ধে মহানবীর নেপোলিয়ন যদি ইংরেজ শক্তি ও তার সহযোগীদের হাতে বন্দি না হতেন তাহলে কেবল ইংল্যান্ত নয়, ইউরোপের অনেক দেশের ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত। সবাই জানে একদা স¤্রাট নেপোলিয়নের ভয়ে গোটা বিশ্ব কাঁপতো। সেই মহাবীরকে পরাজিত ও বন্দি করেই ইতিহাসের পাতায় যিনি ঠাঁই করে নিয়েছিলেন তিনি হলেন ইংরেজ সেনাপতি আর্থার ওয়েলেসলি, ডিউক অব ওয়েলিংটন। আজো তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সেনাপতি বলে স্বীকৃত।
১ মে যেমন সারা দুনিয়ায় মে দিবস পালিত হচ্ছে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে এ দিনটি একটি মাইল ফলক। তেমনি ১ মে অত্যন্ত খ্রিস্টাব্দে ১ মে আর্থার ওয়েলেসলি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছিলেন প্রথম আল অব মরনিংটন। বাল্যকালে তার নাম ছিল আর্থার ওয়েসলে। পরে বড় হয়ে ওয়েসলের পরিবর্তে নাম হলো ওয়েলেসলি।
ওয়েলেসলি তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন ডাবলিনের ইটন স্কুলে। সমরবিদ্যার পরে তার সহজাত আগ্রহ ছিল। স্কুলের পড়া শেষ হলেই তাঁকে ভর্তি করা হয় ফ্রান্সের সামরিক বিদ্যালয়ে। অবশ্য তখন এ ভবিতব্য কেউ কি জানতো যে ফ্রান্স থেকে শেকা বিদ্যা দিয়ে এ বালক একদিন ফ্রান্সের মুখেই এঁকে দেবে পরাজয়ের তিলক।
ওয়েলসলির জন্মের কিছুকাল পরেই তার বাবাকে হারান। তাঁর মা ছিল শক্তির পূজারী এবং প্রচ- আত্মবিশ্বাসী।
ওয়েলেসসির বিধবা মা কেবল উচ্চাকাক্সক্ষীই ছিলেন না, বড় হওয়ার যে প্রত্যাশা তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, তিনি সন্তানের মধে সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য উঠেপড়ে লাগেন। ওয়েলেসলির মা প্রায়ই বলতেন, ‘খাবার জোগাড় করার জন্য চাই শক্তি, অন্য কিছু নয়।’ বাস্তবিক ওয়েলেসলির মা’র দর্শন ছিল বীর ভোগ্র বসুন্ধরা। তাই সন্তানকে তিনি বীর পুত্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন। পুত্রকে অসীম সাহসী এবং সামরিক বিদ্যালয়ে।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে ওয়েলেসলি আইরিশ ভাইসরয় আর্মিতে কমিশন র‌্যাংকে যোগদান করেন। রাজ পরিবারের একজন হিসেবে ১৭৯০ থেকে ১৭৯৭ পর্যন্ত তিনি আইরিশ পার্লামেন্টের সদস্যও হয়েছিলেন।
ওয়েলসলির নাম শুধু আয়ারল্যা- বা ইংল্যান্ড নয় ভারতের ইতিহাসের সাথেও যুক্ত হয়ে আছে। ১৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে ওয়েলেসলি ব্রিটিশ অধিকৃত ভারতে বদলি হয়ে আসেন। ভারতে একচ্ছত্র ব্রিটিশ আধিপত্য বিস্তারের পথ বাধা মুক্ত করেন। টিপুকে পরাজিত করতে তিনি যে কৌশল অবলম্বন করেন নৈতিকতার মানদন্ডে তাকে বড় করে দেখা না গেলে যুদ্ধে জয়ই বড় কথা। জয়ের জন্য যে কোন কৌশল যে অবলম্বন করা যায় ইউরোপকে এ শিক্ষা দিয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক মেকিয়াভেলী। বলাবাহুল্য, নৈতিকতার সাথে মেকিয়াভেলির আদর্শের মিল না থাকলেও আজ এ কথা প্রায় সার্বজনীন স্বীকৃতি পেয়েছে যে, যুদ্ধের ক্ষেত্রে কোন নৈতিক মানদন্ড অনুসরণের দরকার হয় না। ওয়েলেসলি পরে ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে মহিশূরের গভর্নরও নিযুক্ত হয়েছিলেন। শুধু কি মহিশূর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতর সা¤্রাজ্য বিস্তারে আর একটা বড় আধা ছিল মারাঠা শক্তি। মারাঠাদের বিরুদ্ধেও ওয়েলেসলি কঠিন যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং স্বাধীনতাকামী মারাঠাদের পর্যুদস্ত করেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সাথে বেশ কয়েকটি বড় বড় যুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বেই ব্রিটিশ বাহিনী জয়লাভ করে। ব্রিটিশ রাজকীয় বাহিনীতে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা হিসেবে। ওয়েলেসলি ভারত ছেড়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করলে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য তাঁকে ‘নাইট’ উপাধি দেয়া হয়।
১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগীজরা ফ্রান্স স¤্রাটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে ইংরেজ বাহিনী ওয়েলেসলির নেতৃত্বে পর্তুগীজদের পক্ষাবলম্বন করেন। এ যুগটা ছিল নেপোলিয়নের বিজয়ের যুগ। নেপোলিয়নের দাপটে গোটা ইউরোপ যখন কম্পমান তখন ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীকে দাঁড় করানোর জন্য ওয়েলেসলি ধীরে ধীরে একটি সুসংবদ্ধ বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
ওয়েলেসসি প্রথমে যুদ্ধ পরিচালনা করেন স্পেনের বিরুদ্ধে। ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে ওয়েলেসলি ৪০ হাজার ফরাসী সৈন্যকে মাত্র ৪০ মিনিটের যুদ্ধে পরাজিত করে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ দখল করে নেন।
এরপর নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয় সামরিক অভিযান। এই যুদ্ধই ইতিহাসে বিখ্যাত পেনিন সেলার যুদ্ধ নামে পরিচিত। ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এ যুদ্ধের বিশাল সামরিক অভিযানেও মিত্র বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন আর্থার ওয়েলেসলি। যুদ্ধে নেপোলিয়ন বন্দি হন এবং তাঁকে বন্দি করে পাঠানো হয় ইলবা দ্বীপে। এই সাফল্য ওয়েলেসলিসকে ডিউক অব ওয়েলিংটন উপাধি দেয়া হয় এব নগদ পুরস্কার দেয়া হয় ৫০০০০০ পাউন্ড।
যুদ্ধ জয়ের পর ওয়েলেসলির উপর পড়ে আরেকটি দায়িত্ব। নেপোলিয়ন পরাজিত হওয়ার পর ফ্রান্সের সিংহাসনে বসানো হয় তাঁবেদার রাজা অস্টাদশ লুইকে।
অষ্টাদশ লুইকে রক্ষণাবেক্ষণ এবং ইলবা দ্বীপে বন্দি পাহারা দেয়ার দায়িত্বও পড়ে ওয়েলেসলির ওপর। তিনি ফ্রান্সে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধিও মনোনীত হন। কিন্তু এরই মধ্যে এক মহা অঘটন ঘটে যায়। বন্দি হওয়ার কিছু দিনের মধ্যে ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দের ১ মার্চ স¤্রাট নেপোলিয়ন ইলবা দ্বীপ থেকে পালিয়ে আসেন এবং ফ্রান্সে এসে দখল করেন নিজের সিংহাসন। আগেই বলা হয়েছে নেপোলিয়নের অবর্তমানে ফ্রান্সে বসানো হয় তাঁদের বুরবোঁ রাজবংশের অষ্টাদশ লুইকে।
তাঁবেদার সরকারের সময় দেশের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক গোলযোগ। ইলবা দ্বীপে নির্বাসনকালে ফ্রান্সের এই অবস্থার কথা শুনে গোপনে দেড় হাজার সৈন্য নিয়ে নেপোলিয়ন উপস্থিত হলেন প্যারিসে। এই সংবাদ শুনে রাজা লুই তার সৈন্য বাহিনীকে পাঠালেন নেপোলিয়নকে বন্দি করার জন্য। সৈন্যবাহিনী এসে তাঁকে যখন চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেললো, নেপোলিয়ন বীর দর্পে তাদের সামনে এসে বললেন, তোমরা যদি আমাকে হত্যা করতে চাও, তবে স্বচ্ছন্দ মনে তা করতে পার। আমি তোমাদের সম্রাট, তাই তোমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। পেনোলিয়নের ব্যক্তিত্ব, সাহস আর আকর্ষণীয় শক্তিতে মুগ্ধ হয়ে সৈনিকরা লুই এর পক্ষ ত্যাগ করে তাঁকে সমর্থন করে। ফরাসী সেনাপতি বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে নেপোলিয়নের পক্ষে যোগ দেন।
রাজা লুই বুঝতে পারেন যে, তার পক্ষে আর প্যারিসে থাকা নিরাপদ নয়। সৈন্যবাহিনী প্রাসাদ অবরোধ করার আগেই পালিয়ে গেলেন তিনি। সিংহাসনে বসলেন নেপোলিয়ন।
ঘটনায় একেবারে বিমূঢ় হয়ে যান ওয়েলেসলি। সমস্ত গ্লানি এসে পড়ে তারই ওপর। এ সময় ওয়েলেসলি রাগে অভিমানে বলেছিলেন, ঈশ্বরের নামে শপথ করে বলছি, এটাই তবে আমার জীবনের শেষ যুদ্ধ। আবেগে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন। অবশ্য তার এই আশা ও শপথ পূরণ হয়েছিল দ্বিতীয়বার যখন তিনি সম্মিলিত বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালান। এটাই ছিল তাঁর জীবনের শেষ যুদ্ধ।
নেপোলিয়নের এই প্রত্যাবর্তনে ইউরোপের সমস্ত দেশ আবার একত্রিত হয়ে তাকে বিতাড়নে বিশাল সৈন্য বাহিনী নিয়ে আক্রমণ করে। নেপোলিয়ন বুঝতে পারেন এই বিশাল সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব হবে না। আলাদা আলাদাভাবে লড়াই করতে হবে। প্রথম আক্রমণ করে বেলজিয়াম। তাঁর প্রচন্ড আক্রমণের মুখে পরাজিত হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয় বেলজিয়াম বাহিনী।
প্রুসিয়া বাহিনীও যুদ্ধে পিছু হটতে বাধ্য হয়। ইংরেজি বাহিনীর অধিনায়ক ওয়েলিংটন প্রুসিয়ান বাহিনীর সাথে মিলিত হয়ে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এ দু’টি সেনাদল যখন একত্রিত হবার জন্য এগিয়ে চলেছে তখন তাদের বাধা দেবার কোন চেষ্টাই করলেন না নেপোলিয়ন। এবং এটাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।
ওয়েলিংটন ওয়াটারলু নামক এক জায়গায় জমায়েত হলেন সৈন্যবাহিনী নিয়ে। নেপোলিয়নের সেখানে পৌছাতে একদিন বিলম্ব হয়ে গেল। ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুন শুরু হলো দুই পক্ষের তুমুল যুদ্ধ। ওয়েলিংটনের বাহিনী যখন পরাজয়ের মুখোমুখি এসে পড়েছে, জয় যখন প্রায় নিশ্চিত, প্রুসিয়ার বাহিনী এসে তখন যোগ দিল ইংরেজদের সাথে। সম্মিলিত বাহিনী নতুন উদ্যোগে শুরু করলো যুদ্ধ। একটানা যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল ফরাসী বাহিনী। তারা আর সম্মিলিত বাহিনীর প্রতিরোধ করতে পারলো না। প্রবল যুদ্ধ করে পরাজিত হলেন নেয়োলিয়ন। নেপোলিয়ন যখন প্যারিসে এসে পৌঁছিলেন তখন তিনি যুদ্ধের পরিশ্রমে দারুণ ক্লান্ত। তবুও তিনি মন্ত্রীদের সাথে আলোচনায় বসলেন। তিনি বললেন অবশিষ্ট আট হাজার সৈন্য সম্মিলিত বাহিনীকে বাধা দিক। কিন্তু মন্ত্রিসভা রাজি হল না। তারা নেপোলিয়নকে পদত্যাগের জন্য চাপ দিতে লাগলো। অবশেষে ২২ জুন নেপোলিয়ন চাপের মুখে পদত্যাগ করলেন। সম্মিলিত বাহিনীর নেতারা নেপোলিয়নকে সুদূর আফ্রিকার এক নির্জন দ্বীপ সেন্ট হেলেনায় নির্বাসন দিল। ১৮২১ সালের ৫ মে মাত্র বায়ান্ন বছর বয়সে ক্যান্সার রোগে স¤্রাট নেপোলিয়ান পরলোকগমন করেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ইউরোপের সর্বশ্রেষ্ঠ বীর খাঁচার পাখির মত বন্দি জীবনে প্রাণ ত্যাগ করলেও নেপোলিয়ন কোড রচয়িতা ইউরোপের ইতিহাস এক যুগান্তকারী পুরুষ।
অপরদিকের যুগান্তকারী বিজয়ী পুরুষ হলেও ওয়েলেসটি। ব্রিটিশ সেনাপতি ওয়েলেসলি বিশ্বাস করতেন, সর্বক্ষণ যুদ্ধে লিপ্ত থাকা সবচেয়ে খারাপ কাজ। সমরনায়ক হলেও যুদ্ধকে তিনি সত্যি সত্যি অপছন্দ করতেন। ওয়াটারলুর যুদ্ধে বিজয়ের পর তিনি বিজিত দেশসমূহে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। তাঁর কথামতো ওয়াটারসু যুদ্ধের পর মাত্র তিন বছরের মধ্যেই ফ্রান্স অন্যান্য অধিকৃত দেশ থেকে ব্রিটিশ বাহিনী প্রত্যাহার করে।
বিরাট বিজয় এবং সম্মান অর্জন শেষ করে ছয়টি দেশের মার্শাল হিসেবে ছয় তারকার প্রতীক ধারণ করে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে ওয়েলেসলি সগৌরবে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। সামরিক বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করে ওয়েলেসলি রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি কখনো দলীয় রাজনীতি করতেন না। তবু তিনি লিভারপুলের টরি ক্যাবিনেটের সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি আয়ারল্যান্ডে আসেন রাজনৈতিক অসন্তোষ নিরসন ও শান্তি স্থাপনের জন্যে। ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি কমন্স সভার নেতা নির্বাচিত হন। এরপর তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলরও নির্বাচিত হয়েছিলেন। অবশ্য ইতিহাসে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন ওয়াটারলু যুদ্ধে নেপোলিয়নকে পরাজিত করার জন্য। ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর এই মহান সৈনিকের মৃত্যু হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ