ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 July 2018, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কাদেরের কথায় নীলনকশা ফাঁস: মওদুদ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির বর্জনের মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। একাদশ সংসদ নির্বাচনও তারা আগের মতোই করতে চাইছে বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদূদ আহমদ সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন,  “এতদিন আমরা যেটা সন্দেহ করে আসছিলাম, আজকে তারা নিজেরাই সেটা হয়ত অজ্ঞাতে বলে ফেলেছেন।”

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার বলেছিলেন, “শেখ হাসিনার উন্নয়নে, অর্জনে জনগণ খুশি। নির্বাচনে বিজয় একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রকার সংকোচ, কোনো প্রকার ভয় আমাদের নেই।”

মওদুদ বলেন, “নির্বাচনের একটা নীলনকশা সরকার করেছে। সেই নীলনকশাটি কী? বিরোধী দল যাতে না থাকে, তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে। আমরা আবার এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করব, যাতে কোনো দল আর নির্বাচনে না আসে।”

নোয়াখালীতে নিজের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী কাদেরের বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে মওদুদ বলেন, “গতকাল তাদের একজন নেতা বলে দিয়েছেন, তাদের বিজয় এখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

“তার মানে নীলনকশা অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে গেছে।  এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা, এখন শুধু গেজেট নোটিফিকেশন হবে আর শপথ গ্রহণ হবে।”

একতরফা নির্বাচন না করতে সরকারকে হুঁশিয়ার করে বিএনপি নেতা বলেন, “এই নীলনকশা আপনারা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। এটা বাংলাদেশের মাটিতে হতে দেওয়া হবে না।”

বিএনপিকে নাশকতার জন্য দায়ী করে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের জবাবে মওদুদ বলেন, “আজকের প্রধানমন্ত্রীর তখন বলেছিলেন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা উনার ব্রেন চাইল্ড।

“ওই ব্যবস্থা আনার জন্য আপনারা ১৭৪ দিন হরতাল করেছিলেন, কত পেট্রোল পাম্প পুড়িয়েছেন, কত শত মানুষের প্রাইভেট কার পুড়িয়েছেন, কত বাস পুড়িয়েছেন,  এই শেরাটন হোটেলের মোড়ে বাস পুড়িয়ে ১৪ জনকে হত্যা করেছিলেন, এখন আপনারা এসব ভুলে গেছেন। এখন আমাদের দোষ দেন।”

আওয়ামী লীগ নেতাদের মুখে গণতন্ত্রের কথার জবাবে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের নেতাদের মধ্যে যারা সবচাইতে বেশি গণতন্ত্রের কথা বলে, তাদের মধ্যে  ১,২.৩, ৪, ৫ এরা একজনও কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় নাই। আবার গণতন্ত্রের কথা বলেন, বলতে একটু  লজ্জা করে না।”

বিরোধী দলকে সমাবেশ করতে না দেওয়া, মামলা দেওয়া, গ্রেপ্তার করার প্রসঙ্গ তুলে মওদুদ বলেন, “এই যে আমি একথাগুলো বলছি- এটা যদি কেউ অসত্য প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।”

নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামেরউপদেষ্টা নাছির উদ্দিন হাজারীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি ফরিদ উদ্দিন, গাজীপুর জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ভিপি ইব্রাহিম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ