ঢাকা, রোববার 18 March 2018, ৪ চৈত্র ১৪২৪, ২৯ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিহত প্রিয়কের শ্রীপুরের বাড়িতে এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিরা

গাজীপুর সংবাদদাতা : নেপালে গত ১২ মার্চ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ফারুক হোসেন প্রিয়কের স্বজনদের সমবেদনা জানাতে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের কয়েক কর্মকর্তার একটি প্রতিনিধিদল শনিবার গাজীপুরের শ্রীপুরে নিহতের গ্রামের বাড়ি গিয়েছেন। এসময় তারা নিহতের পরিবারকে জানান আগামীকাল সোমবারের পর বলা যাবে নিহতদের লাশগুলো কবে দেশে আসবে।
নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত সোমবার (১২ মার্চ) ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগর হাওলা গ্রামের ফারুক হোসেন প্রিয়ক ও তার শিশুসন্তান প্রিয়ংময়ী তামারা নিহত হন। একই ঘটনায় প্রিয়কের স্ত্রী অ্যালমুন নাহার এ্যানি এবং প্রিয়কের মামাতো ভাই স্থানীয় ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান ও মেহেদীর স্ত্রী সাঈদা কামরুন নাহার স্বর্ণা আহত হন। শুক্রবার আহত ৩ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও নিহতদের লাশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। নিহত ফারুক হোসেন প্রিয়কের স্বজনদের সমবেদনা জানাতে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষে কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক এয়ার কমান্ডার (অবঃ) গোলাম তাওহীদ ও জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল হাসান গাজীপুরের শ্রীপুরে নিহতের গ্রামের বাড়ি যান। তারা প্রায় ঘন্টা খানেক প্রিয়কের বাড়িতে অবস্থান করেন। এসময় প্রিয়কের মা ফিরোজা খাতুন বাড়িতে ছিলেন না। তিনি বিমান বিধ্বস্তে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রিয়কের স্ত্রী এ্যানি, প্রিয়কের মামতো ভাই মেহেদী হাসান ও মেহেদীর স্ত্রী স্বর্ণাকে দেখতে গিয়েছিলেন। এসময় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা মেহেদী হাসানের বাবা তোফাজ্জল হোসেন, এ্যানির বাবা (প্রিয়কের শশুর) সালাহ্ উদ্দিন মাহমুদ খসরুর সঙ্গে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান।
ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম নিহতদের স্বজনদের জানান, নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত প্রিয়ক ও তার ছোট্ট শিশুকন্যা প্রিয়ংময়ী তামাররা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে এসেছি। ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনায় হতাহত সকল যাত্রী, পাইলট ও ক্রুদের বাড়ীতে গিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে সমবেদনা জানাবে। তিনি আরো বলেন, ওই দুর্ঘটনায় আহত সবার যাবতীয় সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করবে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।
তিনি জানান, নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে গত সোমবার (১২ মার্চ) ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। তবে আগামীকাল সোমবারের  পর বলা যাবে লাশগুলো কবে দেশে আসবে। লাশগুলোর যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নেপালের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই দেশের ( নেপাল) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে। পরে পুলিশ নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাসে লাশগুলো বুঝিয়ে দিলে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে। এরপর বাংলাদেশের পুলিশ নিহতদের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করবে।
প্রিয়কের চাচাতো ভাই লুৎফুর রহমানসহ স্বজনরা জানান, পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতটি দেখা ও বিদেশ ভ্রমণের জন্য গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগর হাওলা গ্রামের আলোকচিত্রী এফএইচ প্রিয়ক ওরফে ফারুক হোসেন তার তিন বছরের একমাত্র সন্তান প্রিয়ংময়ী তামাররা ও স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানিকে নিয়ে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজে চড়ে গত সোমবার  নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। একই বিমানে চড়ে ফারুকের মামাতো ভাই ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান অমিত ও অমিতের স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তারও নেপাল যাচ্ছিলেন। তাদের পাঁচ দিনের সফর শেষ করে শুক্রবার দেশে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু তাদের সেই আনন্দ সফর পরিণত হয়েছে বিষাদে। সোমবার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নেপালেই নিহত হন ফারুক ও তার মেয়ে প্রিয়ংময়ী। শুক্রবার প্রিয়কের স্ত্রী এ্যানী, মেহেদী ও মেহেদীর স্ত্রী স্বর্ণাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তবে ফিরে আসেনি প্রিয়ক ও তার শিশু কন্যা প্রিয়ংময়ী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ