ঢাকা, রোববার 18 March 2018, ৪ চৈত্র ১৪২৪, ২৯ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রতিক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, (ফটিকছড়ি): প্রতীক বরদ্দের পরপরই জমে উঠেছে ফটিকছড়ি নাজিরহাট পৌরসভা নির্বাচনের প্রচার প্রচারনা। মেয়র,সাধারন কাউন্সিলর, মহিলা কাউন্সিলর সকলেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফটিকছড়ি নাজিরহাট পৌরসভা নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে ১৩ মার্চ। নির্বাচন কমিশন মেয়র,সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও সাধারন কাউন্সিলরদের স্ব স্ব প্রতীক বরাদ্দ প্রদান করেন। উপজেলা পরিষদের শফিকুল নূর মওলা হলে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী, সাধারণ মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ও সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক নির্ধারণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ মহিলা কাউন্সিলর পদে ১১ জন ও সাধারন ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৬৪  জনের প্রতীক ঘোষণা করেন তিনি। বি এন পি মনোনীত প্রার্থী সাবেক দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা এস.এম. সিরাজ উদ-দ্দৌলা (ধানের শীষ), তরীকত ফেডারেশনের মনোনীত প্রার্থী নাজিরহাট পৌরসভা নেতা শাহ্ জালাল (ফুলের মালা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জারীয়া কমিউনিটি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী আলী আজম ছাদেক (মোবাইল ফোন), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশিষ্ট বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার আনোয়ার পাশা মেম্বার (নারকেল গাছ), স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম হায়াত (জগ),স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট মোহাম্ম সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী(কম্পিউটার) প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরপরই নির্বাচনে পুরোদমে মাঠে নেমে পড়েছেন প্রার্থীগণ। প্রার্থীগণ ছাড়াও প্রার্থীদের পক্ষে দলীয় নেতাকর্মী,নিকট আত্মীয়রাও গ্রুপ করে প্রচারনা চালাচ্ছেন। বাজার থেকে শুরু করে  গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে নিজেদের জন্য ভোট খুঁজছেন প্রার্থীরা। নাজিরহাট পৌরসভার প্রথম নির্বাচন এবং দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিধায় অন্যরকম নির্বাচনি আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রার্থীদের প্রতিক সম্বলিত নানা ধরনের পোষ্টার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অলি গলি ছেয়ে গেছে। চলছে নানা মুখরোচক শ্লোগান সম্বলিত মাইকিং। প্রচারণাকারীরা সাধারন ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নানা ধরনের রসালো শ্লোগানও দিচ্ছেন।
এদিকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে অনেক প্রার্থীই নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন না। আঠা দিয়ে দেয়ালে এবং গাড়ীতে পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ হলেও অনেক প্রার্থীর তা বেমালুম ভূলে গেছেন। অনেক দিচ্ছেন গাড়ীবহর নিয়ে শোডাউন। নির্বাচনী প্রচারণায় এবার নতুন যোগ হয়েছে সমাজের বিভিন্ন বিয়ে শাদী, মৃত ব্যক্তির জানাযা, ওয়াজ মাহফিল,পুজাসহ সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান। প্রার্থীরা এসব সামাজিক অনুষ্ঠানের খবর পেলে ছুটে যাচ্ছেন। কোন মৃত ব্যক্তির জানাযার খবর পেলেই সেখানে ছুটে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।
উপস্থিত হয়ে শোক জানানোর পাশাপাশি নিজেরে জন্য ভোট চাইতেও ভুল করছেননা। নির্বাচিত হলে কি ধরনের উন্নয়ন কর্মকান্ড করবেন এ নিয়ে নানা ধরনের কথার ফুলঝুড়িও ছুড়ছেন সবাই। উপজেলার চা দোকান ও বাজার গুলোতে সাধারন মানুষের মাঝেও চলছে আলোচনা সমালোচন। কে নির্বাচিত হলে ভাল হবে। কে নির্বাচিত হবেন। কোন দলের প্রার্থী বেশি নির্বাচিত হবেন মূলত এসব বিষয় নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচন। প্রার্থীদের বাড়ি ঘরও ভোটারও নেতা কর্মীদের পদচারনায় সরব হয়ে উঠেছে। এককথায় নির্বাচনী আমেজে মুখরিত  নাজিরহাট পৌরসভা নির্বাচনী এলাকা।
আওয়ামীগের নৌকার মনোনিত প্রার্থী মুজিবুল হকের প্রার্থীতা ঝৃণখেলাপীর দায়ে বাতিল হয়ে যাওয়ায় অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন রয়েছেন মেয়র প্রার্থীগণ। আওয়ামী সমর্থিত ভোটাদের মনোযোগ আকষর্ণে দিনরাত কৌশলী প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীগণ। 
তবে দোদেল্যমান অবস্থায় রয়েছেন আওয়ামী দলের নেতাকর্মীগণ। শেষ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবেন কিনা? বা তারা কোন প্রার্থীর পক্ষ হয়ে কাজ করবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে উক্ত দলের নেতা কর্মীগণ।
বি এন পি প্রার্থীদের পক্ষেও দলের নেতাকর্মীরাও চালাচ্ছেন আলাদা প্রচারনা। তারা বলেছেন এ নির্বাচনের প্রতিটি ভোট হবে আওয়ামী দুঃসাশনের জবাব। জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের সকল শক্তিকে ইসলাম বিরোধী  আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে এ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আগামী ২৯ মার্চ নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে এ সরকারের সকল অপকর্মের জবাব দেওয়ার আহ্বান করছেন তারা।
চলতি মাসের ২৯ তারিখ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ