ঢাকা, রোববার 18 March 2018, ৪ চৈত্র ১৪২৪, ২৯ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

১০৯ কোটি টাকার চৌহালী শহর রক্ষা বাঁধে আবারো ধসে ৪০ মিটার বিলীন

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : যমুনার ভাঙ্গন থেকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা সদরকে রক্ষায় ১০৯ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত শহর রক্ষা বাঁধে আবারো ধস নেমেছে। শনিবার ভোর রাত থেকে সকাল ১১টার মধ্যে খাসকাউলিয়া অংশের প্রায় ৪০ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। এ সময় পাথরের বোল্ডসহ জিও টেক্স নদী গর্ভে চলে গেছে। এদিকে শুষ্ক মওসুমে এমন ধস স্থানীয়দের আতঙ্কে ফেলেছে। নির্মাণে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই কাজ প্রায় সমাপ্তির দিকে যাওয়া বাঁধটি অব্যাহত ধসের কারণ বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসীসহ স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুর রহমান। তবে ধস ঠেকাতে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বাঁধটির তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র ও এলাকাবাসী জানায়, চৌহালী উপজেলা সদরের পৌনে ৪ কিলোমিটার এবং টাঙ্গাইলের সোয়া ৩ কিলোমিটার মিলে ৭ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক ১০৯ কোটি টাকার বরাদ্দ গ্রহণ করে। এই টাকা দিয়ে ভাঙ্গনের রশি টেনে ধরতে নদীর পূর্ব পাড়ের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সরাতৈল থেকে দক্ষিণে নাগরপুর উপজেলার পুকুরিয়া, শাহজানীর খগেনের ঘাট, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ঘোরজানের চেকির মোড়, আজিমুদ্দি মোড়, খাসকাউলিয়া, জোতপাড়া পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার গত ২০১৫ সালের ২৪ নবেম্বর সংরক্ষণ বাঁধ শুরু হয়। যার ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে হঠাৎ করে যমুনায় ¯্রােত হীন শুষ্ক মওসুমে চৌহালীর খাসকাউলিয়া অংশে প্রায় ৪০ মিটার জুড়ে শনিবার সকালের দিকে ধসে যায়। বাঁধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় পাথরের বোল্ড ও জিও ব্যাগ। আকস্মিক এ ধসে এলাকা জুড়ে সবার মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত বছর প্রায় ১৫ বার এমন ভাঙ্গনে পুরো বাঁধ এখন বিপর্যস্ত। ধ্বংস স্তূপের মত রয়েছে। নতুন করে আবার ভাঙ্গনের কারণ হিসেবে নির্মাণে স্লপিং কাজে অকার্যকর মাটি নিচে ফেলে ব্লক দেয়াসহ পাথরের চারপাশে ফাকা স্থানগুলো সিমেন্ট দিয়ে পূর্ণ করে না দেয়ায় পানি ঢুকে তা সাধারণ ¯্রােতেই সরে এই ধস দেখা দিয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে। তাই কাজ নিয়ে অসন্তোষ ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। 

চৌহালী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পদক নুর মোহাম্মদ চৌধুরী সঞ্জু জানান, চৌহালী শহর রক্ষা বাঁধের অসময়ে ধস নামায় আমরা আতঙ্কিত। সঠিক তদারকি না থাকা আর নির্মাণ কাজে ত্রুটির জন্যই ১০৯ কোটি টাকার বাঁধে বারবার ধস নামে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরো বলেন, আসন্ন বর্ষা মওসুমের পূর্বেই যদি ধসে যাওয়া স্থানগুলো পরিপূর্ণ সংস্কার করা না হয় তাহলে যমুনায় বিলীন হতে পারে চৌহালীর অবশিষ্ট জনপদ।

এদিকে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে তারা অবহিত হয়েছেন। ধসের পরিধি ঠেকাতে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে এ বিষয়ে চিন্তিত না হতে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ