ঢাকা, সোমবার 19 March 2018, ৫ চৈত্র ১৪২৪, ৩০ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রথমবারের মতো সুপার লিগে খেলাঘর

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে প্রথমবাবের মতো সুপার লিগ নিশ্চিত করেছে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। গতকাল প্রাইম ব্যাংকে হারিয়ে সুপার লিগে উঠল খেলাঘর। দিনের অপর ম্যাচে শাইনপুকুরকে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে আবাহনী। আর প্রাইম দোলেশ্বরকে হারিয়ে সুপার লিগ নিশ্চিত করেছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার। সাভারের বিকেএসপিতে সুপার লিগের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে জিততেই হতো খেলাঘরকে। দলটির সামনে ছিল জিতে ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবার সুপার লিগে খেলার সুযোগ। জিতেছে শেষ পর্যন্ত খেলাঘরই। শেষ বলে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়ে সুপার লিগ নিশ্চিত করেছে গত আসরেই প্রিমিয়ারে খেলতে আসা দলটি। ১১ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থানে আছে তারা। আর এ হারে সমান সংখ্যক ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে আছে প্রাইম ব্যাংক। সুপার সিক্সে খেলা হচ্ছে না তাদের। গতকাল টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে প্রাইম ব্যাংক। ২১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ৮৫ ও তৃতীয় উইকেটে ৬১ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় দলটি। কিন্তু এ জুটি ভাঙার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকলে ১ বল বাকি থাকতে ২৬১ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি। ৯৬ বলে ৯৪ রানের ইনিংস খেলেন আল-আমিন জুনিয়র। এছাড়া মেহরাব হোসেন জুনিয়র ৩৭ ও নাহিদুল ইসলাম ২৮ রান করেন। খেলাঘরের পক্ষে ৫৮ রানের খরচায় ৪টি উইকেট পান মোহাম্মদ সাদ্দাম। ৩টি উইকেট নেন তানভীর ইসলাম। জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি খেলাঘরের। ২৩ রানে ২টি উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ৭৪ ও তৃতীয় উইকেটে ৭৯ রানের জুটিতে জয়ের ভিত পায় দলটি। তবে এরপর দ্রুত ৫টি উইকেট হারিয়ে পড়া দলকে উদ্ধার করেন মাসুম খান। শেষদিকে ২৩ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৬ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন তিনি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন অমিত মজুমদার। অশোক মেনারিয়া ৬৩ ও রাফসান আল মাহমুদ ৪০ রান করেন। প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে ৫০ রানের খরচায় ৪টি উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। ফতুল্লাহ খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে জয় পেয়েছে আবাহনী লি:। শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে হারিয়ে আবার ব্যবধান গড়েছে আবাহনী। প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে ৫৬ রানের জয় পায় দলটি। এ জয়ে প্রথম পর্বের ১১ ম্যাচ শেষে শীর্ষে থাকা আবাহনীর সংগ্রহ ১৬ পয়েন্ট।  আর আবাহনীর বিপক্ষে হেরে সুপার লিগে খেলার স্বপ্ন কঠিন হয়ে গেছে শাইনপুকুরের। ১১ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকলেও সুপার লিগ নিশ্চিত নয় তাদের। নিজেদের শেষ ম্যাচে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব কিংবা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব জিতলেই সুপার লিগে  খলার আশা শেষ হয়ে যাবে তাদের। এমনকি ব্রাদার্স ইউনিয়নও বড় ব্যবধানে জিতলে তাদের ওপরে উঠে যাবে। গতকাল টসটা জিতেছিল শাইনপুকুরই। বেছে নেয় ফিল্ডিং। ব্যাটিং স্বর্গে তার ফায়দা ষোলো আনা তুলে নেয় আবাহনী। সাইফ হাসান ও নাজমুল হাসান শান্তর ১৮৫ রানের জুটিতে ৩৩৫ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় দলটি। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ১৫০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন শান্ত। এবারের লিগে এটা তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ১২০ বলে সমান ৯টি করে চার ও ছক্কায় এ ইনিংস গড়েন তিনি। ১১৪ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৯৪ রানের ইনিংস খেলেন সাইফ। অধিনায়ক নাসির হোসেন করেন ৪৫ রান। শাইনপুকুরের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও নাঈম ইসলাম জুনিয়র। জবাবে ওপেনিং ও প্রথম উইকেটে দারুণ জুটির পরও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি শাইনপুকুর। সাদমান ইসলামের সঙ্গে ওপেনিংয়ে ১২৫ ও তৌহিদ হৃদয়ের সঙ্গে ১৪৪ রানের জুটি গড়েন ফারদীন হাসান অনি। তবে ধীর গতিতে রান তোলার কারণে শেষ পর্যন্ত কুলিয়ে উঠতে পারেনি দলটি। ১১৮ বলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কায় লিস্ট এ ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে ১০৪ করে ফারদীন আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন।  হৃদয় ৮৩ ও সাদমান ৫৬ রান করেন। ফলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭৯ রানের বেশি করতে পারেনি দলটি। আবাহনীর পক্ষে ৩৫ রানের খরচায় ২টি উইকেট নিয়েছেন মাশরাফী।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার। ফলে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়ে শেষ ছয়ে পা রাখে গেলবারের চ্যাম্পিয়ন দলটি। মাঠে নামার আগে গাজী গ্রুপের একটাই ভাবনা ছিলো, কিভাবে রেলিগেশন এড়ানো যায়। পয়েন্ট তালিকার তলানিতে ছিল দলটি।  সেই দলটিই কি না প্রথমপর্বের শেষ ম্যাচ খেলে নিশ্চিত করেছে সুপার লিগ। গতকাল প্রাইম দোলেশ্বর  স্পোর্টিং ক্লাবকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে তারা। ফলে ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে চতুর্থ স্থানে থাকা দোলেশ্বরের পয়েন্ট ১১ ম্যাচে ১৩। গতকাল টস জিতে প্রাইম দোলেশ্বরকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় গাজী গ্রুপ। ৪২ রানে ২ উইকেট তুলে শুরুটা ভালো করে তারা। এরপর তৃতীয় উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়ে মার্শাল আইয়ুব ও ফজলে মাহমুদের প্রতিরোধ। কিন্তু এ জুটি ভাঙার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৮৬ রান স্কোরবোর্ডে জমা করতে পেরেছে দোলেশ্বর। সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেন ফজলে মাহমুদ। মার্শাল করেন ২৮ রান। গাজীর পক্ষে ৩৯ রানে ৩টি উইকেট নেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার ফাওয়াদ আলম। ২টি উইকেট টিপু সুলতানের। জবাবে শুরুটা ভালো হয়নি গাজী গ্রুপেরও। জোহাইব খানের দুর্দান্ত বোলিং তোপের মুখে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১১১ রানেই ৫ উইকেট হারায় তারা। তবে পঞ্চম উইকেটে জাকের আলীকে নিয়ে ফাওয়াদের ৬২ রানের জুটিতে ৩৮.৫ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় দলটি। সর্বোচ্চ ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন মেহেদী হাসান। ৪৬ রান আসে ফাওয়াদের ব্যাট থেকে। জাকের করেন ৩১ রান। দোলেশ্বরের পক্ষে ৩৪ রানের খরচায় একাই ৫টি উইকেট তুলে নিয়েছেন জোহাইব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ