ঢাকা, সোমবার 19 March 2018, ৫ চৈত্র ১৪২৪, ৩০ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তাড়াশে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষকরা বিপাকে

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ): তাড়াশে গর্তে নলকূপ বসিয়ে পানি তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে

শাহজাহান তাড়াশ সিরাজগঞ্জ থেকে: তাড়াশ উপজেলায় ইরি-বারো চাষাবাদের ভরা মৌসুমে ফাল্গুনের শুরু থেকে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক। গভীর নলকূপ স্থাপনের পরেও সেচ কাজে আশানুরূপ পানি না পেয়ে গর্তে নলকূপ বসিয়ে পানি  তোলার  চেষ্টা করছেন অনেকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১০ ফুট পর্যন্ত মাটি গর্ত করে  সেচযন্ত্র বসিয়ে পানি তোলার প্রাণান্তর চেষ্টা করছেন কৃষক। আটটি ইউনিয়নের মধ্যে নওগাঁ, মাগুরা বিনোদ ও সগুনা ইউনিয়নে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠেই নয়, এ তিনটি ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামের নলকূপে পানি সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেকেই বাড়ির আঙিনা থেকে ১৮-২০ ফুট নীচে গভীর নলকূপ বসিয়ে পানি তোলার চেষ্টা করছেন।
কৃষক আজগর আলী, রহিচ উদ্দিন, জমশের প্রামাণিক, আতাহার হোসেন, চান মিঞাসহ অনেকে জানান, ১০০-১২০ ফুট গভীরে পাইপ বসিয়ে ঠিকঠাক মত পানি পাচ্ছেন না তারা। প্রতিবছর আশঙ্কাজনকহারে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে। ১৫-২০ বছর আগেও ৭০-৮০ ফুট মাটির নীচ থেকে এসব এলাকায় বেশ পানি পাওয়া যেত। এ সময় তারা আরো জানান, সেচযন্ত্রে পানি কম ওঠায় ইরি-বোরো চাষাবাদে তাদের জ্বালানি খরচ বেড়ে গেছে। প্রতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে পূর্বে ১৫-১৬ লিটার জ্বালানি তেল খরচ হলেও বর্তমান সময়ে তা ২৪-২৮ লিটারে গড়িয়েছে। আগের তুলনায় সময়ও লাগছে বেশি। আর বসতবাড়িতে পানি সমস্যায় প্রতিবছরই তাদের নলকূপ আলাদা-আলাদা স্থানে স্থাপন করে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদী মৃতপ্রায়। অসময়ে শুকিয়ে যাচ্ছে ডোবা-নালা ও খাল-বিল। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় কৃষকের সেচ কাজে সমস্যাটি সাম্প্রতিক সময়ে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে ভারী বৃষ্টি হলে পানির স্তর আবার উপরে উঠে আসবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ