ঢাকা, সোমবার 19 March 2018, ৫ চৈত্র ১৪২৪, ৩০ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-------১৬৬/৮ (২০ ওভার)

ভারত----------১৬৮/৬ (২০ ওভার)

ভারত ৪ উইকেট জয়ী। 

রফিকুল ইসলাম মিঞা : আরো একবার স্বপ্ন ভঙ্গ বাংলাদেশের। কূলে এসেই ডুবল তরী টাইগারদের। শিরোপার কাছে এসেও জয় করা হলোনা বিদেশের মাটিতে কোন টুর্নামেন্টের প্রথম শিরোপা। স্বাগতিক শ্রীলংকাকে হারিয়ে নিদাহাস ট্রফিতে ফাইনালে উঠে হারতে হলো ভারতের কাছে। তবে ফাইনালে হারলেও শেষ বল পর্যন্ত জয়ের আশায় লড়াই করেছে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য শেষ বলে ৫ রান বাকি থাকায় জয়ের পাল্লাটা ভারী ছিল বাংলাদেশের পক্ষেই। কিন্তু সৌম্যর করা শেষ বলটা কার্তিক হাওয়ায় ভাসিয়ে ছক্কা না বানালে জয়ের উল্লাস করতে পারত বাংলাদেশই। আর শেষ পর্যন্ত কঠিন লড়াই করেই নিদাহাস ট্রফির শিরোপা জিততে হয়েছে ভারতকে। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত হারলেও এমন উত্তেজনাকর ফাইনাল ম্যাচ উপহার দিয়ে ভক্তদের মন ঠিকই জয় করেছে টাইগাররা। কারণ এমন হারের মধ্যেও শান্তনা খুজে পাওয়া যায়। গতকাল আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে হারিয়ে করে ১৬৬ রান। জয়ের জন্য ভারতের সামনে টার্গেট ছিল ১৬৭ রান। ব্যাট করতে নেমে ভারত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৮ রান করে ম্যাচে জিতে ৪ উইকেটে। 

জয়ের জন্য ভারতের সামনে ১৬৭ রানের টার্গেটটা খুব বড় না হলেও একেবারে সহজ ছিলনা। আর ব্যাট করতে নেমে ভারত দলীয় ৩২ রানেই হারায় প্রথম দুই উইকেট। সাকিবের বলে ধাওয়ান ১০ রানে বদলী ফিল্ডার আরিফুলের হাতে ক্যাচ আউট হওয়ার পর সুরেশ রায়নাকে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় করেন রুবেল হোসেন। আম্পায়ার ওয়াইড দিলেও মুশফিক রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত যায় বাংলাদেশের পক্ষে। ফলে ফিরতে হয় রায়নাকে। তবে অপর ওপেনার রোহিত শর্মা আর লোকেশ রাহুল মিলে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেস্টা করেন। এই জুটি ভাংগার আগেই ভারত পৌছে যায় ৮৩ রানে। দলীয় ৮৩ রানে রাহুলের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। রুবেলের বলে সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে রাহুল করেন ১৪ বলে ২৪ রান। রাহুলের বিদায়ে পান্ডেকে নিয়ে জুটি করে রোহিত ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি তুলে নেন। দলীয় ৯৮ রানে বাংলাদেশ তুলে নেয় নেয় গুরুত্বপূর্ন রোহিত শর্মার উইকেটটি। নাজমুলের বলে আউট হওয়ার আগে রোহিত শর্মা করেন ৫৬ রান। ৪২ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় সাজানো ছিল শর্মার ৫৬ রানের ইনিংস। শতরানের আগে রোহিত ফিরে গেলেও দলকে ঠিকই এগিয়ে নেন পান্ডে। শঙ্করকে নিয়ে পান্ডে জুটি করে দলকে নিয়ে যায় ১৩৩ রানে।  মোস্তাফিজের বলে আউট হওয়ার আগে ২৭ বলে করেন ১৮ রান। অবশ্য দলের ১৮তম ওভারে মোস্তাফিজ ১ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ভালো একটা সুযোগ করে দেন। কিন্তু কার্তিক ব্যাট করতে নেমে রুবেলের ওভারে (১৯তম) নেন ২২ রান। আর এখানেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। জয়টা হাতছাড়া হয় তখনই। ফলে জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ছিল ১২ রান। আর সৌম্যর করা শেষ ওভারের পঞ্চম বলে শঙ্করকে ১৭ রানে বিদায় করলে শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৫ রান। ম্যাচটা তখনও বাংলাদেশেরই পক্ষে ছিল। কিন্তু  সৌম্যর করা শেষ বলে কার্তিক ছক্কা মেরে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করে দেন। কারন ভারত শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৬৮ রান করে ম্যাচ জিতে ৪ উইকেটে। ভারতের জয়ের নায়ক কার্তিক ৮ বলে দুই চার আর তিন ছক্কায় ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে রুবেল নেন ২ উইকেট। 

এর আগে, টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। কারণ ব্যাটিংয়ের শুরুতেই বাংলাদেশ হারায় প্রথম তিন উইকেট। ব্যাট করতে নেমে তামিম ইকবাল-লিটন দাস মিলে উদ্বোধনী জুটিটা বড় করতে পারেনি। কারণ দলীয় ২৭ রানে দু-ওপেনার লিটন দাস আর তামিম ইকবালের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আর দলীয় ৩৩ রানে আউট হন সৌম্য সরকার। ফলে ব্যাটিংয়ের শুরুতেই চাপে পড়ে টাইগাররা। ১১ রান করে ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে সুরেশ রায়নার ক্যাচ হন লিটন।  পরের ওভারে লং অনে ছয় মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে দাঁড়ানো শারদুল ঠাকুরের অসাধারণ ক্যাচ হয়ে ১৫ রানে মাঠ ছাড়েন তামিম। ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৩৩ রানে আউট হস সৌম্য সরকার। তামিম আর সৌম্য সরকারের উইকেট নেন চাহাল। সৌম্য করেন মাত্র ১ রান। দলীয় ৬৮ রানে বাংলাদেশ হারায় মুশফিকের উইকেট। চাহালের বলে আউট হওয়ার আগে মুশফিক করেন ৯ রান। সাব্বির রহমানের সঙ্গে ক্রিজে থেকে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টায় ছিলেন মুশফিক। কিন্তু চাহালের বলে শঙ্করকে ক্যাচ দেন এ উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে সাব্বিরের সাথে ৩৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। দলীয় ৬৮ রানে প্রথম চার উইকেট হারানোর পর দলকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব ছিল সাব্বির-মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের উপর। এই জুটি দলকে এগিয়ে নিতে প্রানপণ চেস্টা করেছেন। তবে বেশিদূর যেতে পারেনি এই জুটি। দলীয় ১০৪ রানে সাব্বিরের ভুলে রান আউট হতে হয়েছে রিয়াদকে। আউট হওয়ার আগে রিয়াদ করেন ১৬ বলে ২১ রান। ফলে বড় স্কোর গড়ার পথ প্রায় বন্ধ হয় টাইগারদের। ব্যাট করতে নেমে রান আউটের ফাদে পড়েন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও। দলীয় ১৩৩ রানে আউট হওয়ার আগে সাকিব করেন মাত্র ৭ রান। দলীয় ১৪৭ রানে আউট হন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করা সাব্বির রহমান। উনাড়কাট এর বলে বোল্ড হওয়ার আগে সাব্বির করে ৭৭ রান। ৫০ বলে ৭ চার আর ৪ ছক্কায় সাজানো ছিল সাব্বিরের ৭৭ রানের ইনিংস। সাব্বিরের ব্যাটিংয়েই স্কোর কিছুটা বড় করতে পারে বাংলাদেশ। সাব্বিরের বিদাযের পর ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই রানের খাতা খোলার আগে উইকেট হারান রুবেল হোসেন। ফলে ১৪৮ রানে বাংলাদেশ হারায় অস্টম উইকেট। তবে শেষ পর্যন্ত মিরাজের ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ করতে পারে ১৬৬ রানের স্কোর। মিরাজ ৭ বলে ২ চার আর এক ছক্কায় ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। ভারতের পক্ষে জুজবেন্দ্র চাহাল তিনটি আর উনাড়কাট দুটি করে উইকেট নেন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ