ঢাকা, মঙ্গলবার 20 March 2018, ৬ চৈত্র ১৪২৪, ১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জমি দখলতো পুলিশের কাজ নয়

সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ-বিসংবাদের খবর কোন নতুন বিষয় নয়। তবে এবার পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিপদে পড়েছেন যশোর বিএএস শাহীন কলেজের শিক্ষক কাজী লুৎফুন্নেসা। তাঁর জমি দখল করে যশোর পুলিশ সুপারের বাসভবনের সীমানা প্রাচীর উঠছে। কিশোর ছেলেকে কোন অভিযোগে ফাঁসানো হয় কিনা এই ভয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন এই নারী শিক্ষিকা।
১৭ মার্চ মুদ্রিত প্রথম আলোর প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যশোর শহরে কমপক্ষে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বিমানবন্দর সড়কে কাজী লুৎফুন্নেসার জমি ছাড়াও শহরের গাড়িখানা সড়কে ১০টি দোকান ও ৩১টি পরিবার উচ্ছেদ করে জমি দখল করেছে পুলিশ। আর জেলা পরিষদের জায়গায় দোকান বরাদ্দ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল যশোর পুলিশ।
মানুষের জমি দখলের কাজ তো পুলিশের সাথে মানায় না। বরং এটি অপরাধমূলক কাজ। এদিকে শহরবাসী অনেকে এবং ভুক্তভোগীরা বলছেন, যশোর পুলিশের এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, “সাধারণ  মানুষ যে সব অভিযোগ করছে তা মিথ্যা নয়।” অভিযোগের তির মূলত পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালে তিনি এই জেলায় বদলি হয়ে আসেন। পুলিশ যা করছে তা পুলিশ সুপারের ইচ্ছাতেই হচ্ছে বলে মানুষের অভিযোগ। এসব অভিযোগের ব্যাপারে পুলিশ সুপারের বক্তব্য জানতে এক সপ্তাহ ধরে নানাভাবে চেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ তিনি প্রথম আলোর কাছে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
লুৎফুন্নেসার প্রতিবেশী এক মহিলা প্রথম আলোকে বলেন, “আপা এই শহরের সম্মানীয় ব্যক্তি। তিনি এই পাড়াতেই মানুষ হয়েছেন। শহরে তার বহু ছাত্রছাত্রী। খুব খারাপ লাগে যখন দেখি আপার আব্বা-আম্মার কবরও এসপি সাহেবের বাংলোর মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।” আর লুৎফুন্নেসা প্রথম আলোকে বলেন, “এসপি আমারই ছাত্র। আমি বহুবার তার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছি, অপেক্ষা করেছি। এসপি কথা বলেননি। অন্যদের মাধ্যমে চেষ্টা করেছি, লাভ হয়নি। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি।”
ভুক্তভোগী লুৎফুন্নেসার আবেদনের কোন সুরাহা হয় কিনা তা দেখার মতো একটি বিষয়। আমরা তো জানি, পুলিশের কর্তব্য হলো দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন। কিন্তু আলোচ্য ঘটনায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিপরীত চিত্র। এখানে পুলিশের আচরণে শিষ্টজনের অধিকার রক্ষিত হচ্ছে না। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করা হলেও এসপি মহোদয় ঘটনার ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হলেন না। তা হলে রহস্যটা কোথায়? কোন যৌক্তিক বক্তব্য থাকলে এসপি মহোদয় তা ব্যক্ত করতে পারেন। এতে হয়তো পুলিশের ইমেজ ক্ষুণœ হবে না। ঘটনার ব্যাপারে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ