ঢাকা, মঙ্গলবার 20 March 2018, ৬ চৈত্র ১৪২৪, ১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রকাশ্য ভাষণ বাতিল সু চি’র

১৯ মার্চ, এএফপি, এবিসি নিউজ : রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞ ও নির্যাতনের ঘটনায় সমালোচনা ও নিন্দার মুখে থাকা মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি অস্ট্রেলিয়া সফরের একমাত্র প্রকাশ্য ভাষণ বাতিল করেছেন। বিস্তারিত কারণ উল্লেখ না করে শুধু জানানো হয়েছে, সুস্থবোধ না করায় ভাষণটি বাতিল করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সিডনিতে একটি অনুষ্ঠানে মূল ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল সোমবার তা বাতিল করা হয়েছে। শনিবার অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে এখনও জনসম্মুখে কোনও কথা বলেননি তিনি। তবে মঙ্গলবারে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার কথা তার।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পালিয়ে আসা বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হলেও তা কার্যকরের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন। প্রত্যাবাসনকৃত রোহিঙ্গাদের জন্য অভ্যর্থনা কেন্দ্র ও ট্রানজিট ক্যাম্প স্থাপন করেছে মিয়ানমার। তবে এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসিত হয়নি। এর মধ্যেই নতুন করে মিয়ানমারে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার আলামত মিলছে। সম্প্রতি মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জমি অধিগ্রহণ করেছে মিয়ানমারের সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব গ্রাম থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনে রোহিঙ্গারা পালিয়ে গেছেন সেসব গ্রামেই ওই রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা জমি ও ভিটেবাড়ির ওপর ঘাঁটি তৈরি করছে সেনাবাহিনী।

অস্ট্রেলিয়ায় আসিয়ানের বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিতে সিডনিতে অবস্থান করছেন সু চি। সফরে তিনি সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন এবং অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। সম্মেলন ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সু চির বক্তব্যের বিস্তারিত জানা যায়নি। ফলে লোয়ে ইনস্টিটিউট আয়োজিত অনুষ্ঠানে সু চি’র একমাত্র প্রকাশ্য ভাষণ নিয়ে আগ্রহ ছিল অনেকেরই।  সফরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বেশ বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। অনুষ্ঠানটিতে ভাষণের পাশপাশি দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার কথা ছিল সু চির।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লোয়ে ইনস্টিটিউটকে মিয়ানমার দূতাবাস জানিয়েছে সুস্থবোধ না করায় অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিতে পারছেন না রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা। তাই অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে।

এবিসি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটিতে সু চি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। অস্ট্রেলিয়া সফরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সু চিকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। সু চিসহ ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইনের নিপীড়ক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে উত্তাল বিক্ষোভ হয়েছে। আসিয়ান সম্মেলনস্থলের বাইরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।  সিডনিতে নিপীড়ক নেতাদের বিরুদ্ধে মিছিলে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীরা  ফিলিপাইনে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, ভিয়েতনামের রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, কম্বোডিয়ায় মানব হুন সেনের সীমাহীন বলপ্রয়োগ ও স্বেচ্ছাচার এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সামরিক নিধনযজ্ঞ বন্ধের দাবি জানান। বিক্ষোভ মিছিলের এক ব্যঙ্গাত্বক প্ল্যাকার্ডে সু চির আদলে হিটলারকে জীবন্ত করা হয়েছে। 

বিক্ষোভকারীরা নানান ধরনের ব্যাঙ্গাত্বক চিত্র সম্বলিত প্ল্যাকার্ড আর ব্যানার নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। প্ল্যাকার্ডগুলোর একটিতে দেখা যায়, অং সান সু চির মুখে হিটলার জীবন্ত হয়েছে তার গোঁফ আঁকার মধ্য দিয়ে। আরেকটি ছবিতে দাবি জানানো হয়েছে নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার। এই নোবেল বিজয়ী নেতার বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই নির্যাতনের মাধ্যমে তাদেরকে নিষ্ঠুরভাবে রাখাইন রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আসিয়ান সম্মেলনের আলোচনাতেও উঠে এসেছে রোহিঙ্গা সংকটের প্রশ্ন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তিন দিনের সম্মেলনের সমাপনী দিনের একটি দীর্ঘ সময় এই সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আসিয়ান দেশগুলো রোহিঙ্গা সংকটে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ