ঢাকা, মঙ্গলবার 20 March 2018, ৬ চৈত্র ১৪২৪, ১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে খিরার বাম্পার ফলন দাম ভাল থাকায় কৃষকরা খুশি

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) : চলনবিলের বিস্তীর্ন মাঠে খিরার জমি পরিচর্যা করা হচ্ছে

শাহজাহান  তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ): চলনবিলে ঔষধিগুন সম্পুন খিরার বাম্পার ফলন দাম ভাল থাকায়  কৃষকরা খুশি কৃষিনির্ভর চলনবিলের নয়, উপজেলার কৃষকরা খিরা চাষে এ বছর ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন। বিশেষ করে ফলনে মল্লিকা জাতের খিরার ফলনে বাজিমাত হয়েছে। বর্তমানে চলনবিলের ফসলি মাঠে খিরা তোলার ধুম পড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় কুলি, কৃষক, কৃষাণী, গাড়ির চালক, হেলপারদের হাঁকডাকে সরব হয়ে উঠেছে খিরার বাজার। এক অর্থে খিরার আবাদে এ বছরও বাম্পার ফলন হওয়ায় এলাকার কৃষকের চোখেমুখে হাসি ফুটে উঠেছে। কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলনবিলের তাড়াশ, সিংড়া, চাটমোহর, গুরুদাসপুর, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ ও আত্রাই উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে মল্লিকা ঝুমকা, রায়হান, ইউনিক, লালতীর, বারি খিরা-১, ২সহ বিভিন্ন জাতের খিরার চাষ করা হয়েছে। এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এবং বীজ, সার ও কীটনাশক সুলভ মূল্যে পাওয়ায় খিরার বাম্পার ফলন হচ্ছে। সান্দ্রা গ্রামের কৃষক এনামুল হক ও হোসেন আলী জানান, বর্তমানে এক বিঘা জমিতে মল্লিকা জাতের খিরার আবাদ করে খরচ বাদে তারা ৪০-৪৫ হাজার টাকা লাভ করেছেন। চলনবিলে ব্যাপক খিরা উৎপাদন হওয়ায় শুধুমাত্র চলনবিলের তাড়াশের দিঘুরিয়া, সান্দ্রা, মনোহরপুর, সান্দুরিয়া, বারুহাঁস, পোওতা, পালাশী, রানীরহাট, কোহিতসহ ১৫-২০টি গ্রামে গড়ে উঠেছে খিরা বিক্রির অস্থায়ী আড়ত। প্রতি মণ খিরা বর্তমানে জমি ও আড়ত থেকে ১২০০-১২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শুধু চলনবিলের তাড়াশ ও সিংড়া উপজেলায় প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে নিবির খিরার আবাদ হয়েছে। স্থানীয় কৃষক আলামিন হোসেন (৫০) জানান, গত এক দশকে চলনবিল অধ্যুষিত কোহিত, সাচানদীঘি, সান্দুরিয়া, সড়াবাড়ি, বারুহাঁস, দিঘুরিয়া, দিয়ারপাড়া, তালম সাতপাড়া, নামো সিলট, খাসপাড়া, বড় পওতা, তেঁতুলিয়া, ক্ষীরপোতা, খোসালপুর, বরগ্রাম, বিয়াস আয়েস ও পিপুলসোন গ্রামে মাঠের পর মাঠজুড়ে খিরার আবাদ হচ্ছে, যে দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। কৃষক আবু বক্কার জানান, এ এলাকার অনেক কৃষক খিরা চাষে অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভ হওয়ায় নিজের জমি না থাকলেও অন্য কৃষকের জমিতে খিরার আবাদ করছেন। তিনি আরও জানান, এলাকায় খিরা চাষের জন্য জমি লিজ পাওয়াই যায় না এখন আর। দিঘুরিয়া খিরার আড়তের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মন্টু ও শামসুল জানান, তাড়াশের দিঘুরিয়া খিরার আড়ত থেকে মৌসুমের সময় স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর প্রতিদিন গড়ে শতাধিক খিরাবোঝাই ট্রাক, পিকআপ দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে চলে যাচ্ছে। তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, চলনবিলে খিরা চাষে কৃষকরা ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। কৃষকরা খিরা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ