ঢাকা, মঙ্গলবার 20 March 2018, ৬ চৈত্র ১৪২৪, ১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পার্বতীপুরে দাদন ব্যবসায়ীর খপ্পরে শতাধিক মানুষ সর্বস্বান্ত

আমজাদ হোসেন পার্বতীপুর: পার্বতীপুরে হামিদপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শতাধিক নিরীহ মানুষ এলাকার দাদন ব্যবসায়ী আনারুলের কাছে জিম্মি হয়েছে পড়েছে। সুদসহ আসল টাকা পরিশোধ করার পরেও ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর থাকার সুযোগ নিয়ে দাদন ব্যবসায়ী ঋণ গ্রহিতাদের কাছে লাখ লাখ টাকার দাবি করে ক্ষুদ্র পান দোকানদার, শ্রমিক, ভ্যানচালক, প্রান্তিক চাষীসহ কমপক্ষে ১২জনের নামে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে। ভুক্তভুগিরা নোটিশ পেয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। তারা স্থানীয় প্রশাসন, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনীতিক নেতাদের কাছে দাদন ব্যবসায়ীর বিচার চেয়েও সুবিচার না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন।
পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের দক্ষিন পলাশবাড়ী গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে আনারুল হক (৪০)। ১৫-১৬ বছর আগে সে এলাকায় শ্যালোমেশিন চালিত ভটভটি চালিয়ে সংসার নির্বাহ করতো। সে আনারুল চড়া সুদে দাদন ব্যবসা করে এখন গাড়ি বাড়ীসহ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। পোষেন একটি নিজেস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকার কোন মানুষ আনারুলের বিরুদ্ধে টু শব্দটি পর্যন্ত করতে পারেননা এ সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে।
দাদন ব্যবসায়ী আনারুলের কাছে চড়া সুদে টাকা নিয়ে যারা সর্বস্বান্ত হয়েছেন তাদের একজন মোঃ মজমুল হক (৫০)। সে হামিদপুর ইউনিয়নের ধুলাউদাল বাজারের একজন ক্ষুদ্র পান ব্যবসায়ী। দুই পা হারানো পঙ্গু এ মানুষটি ব্যবসার প্রয়োজনে আনারুলের কাছে ৩০হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। মজমুল হক বলেন আমি ঋণ নেওয়া ৩০হাজার টাকা ও সুদ ২৪হাজার টাকা এলাকার লোকজনের সামনে পরিশোধ করে দিয়েছি। ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া কাগজটি ফেরৎ চাইলে সে পরের দিন তার দোকানে দিয়ে যাওয়ার কথা বলে। সে আনারুল গত নভেম্বর মাসে তাকে একটি উকিল নোটিশ পাঠায়। নোটিশে সে ৫লাখ ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলে মজমুল উল্লেখ করেন।
খলিদপুর সরদারপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল মজিদের ছেলে খনি শ্রমিক মাহমুদ আলী বলেন, ‘আমি আনারুলের কাছে ৫৩ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলাম। ২৪মাসে সুধ বাবদ ৬২ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করেছি। আর আসল ৫৩হাজার টাকা লোকজনের সামনে পরিশোধ করে দিয়েছি। তা সত্বেও আনারুল আমার কাছে ৪লাখ ১০হাজার টাকা দাবি করে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে।’ অনুরূপ কথা বলেছেন সরদার পাড়া গ্রামের মেনাজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ এনামুল হক, করতোয়াপাড়া গ্রামের আজিবারের ছেলে আব্দুল রাজ্জাক, খলিলপুর সরদার পাড়া গ্রামের ছেলে আব্দুল মজিদুলের পুত্র মোঃ মামুন। এব্যপারে মোবাইল ফোনে জানতে চেয়ে আনারুলের কাছে কল দিলে সে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর লাইন কেটে দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ