ঢাকা, বৃহস্পতিবার 22 March 2018, ৮ চৈত্র ১৪২৪, ৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গত পাঁচদিনেও নিখোঁজ খুলনা জেলা বিএনপি’র সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলামের সন্ধান মেলেনি

খুলনা অফিস : গত পাঁচ দিনেও নিখোঁজ খুলনা জেলা বিএনপি’র সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলামের সন্ধান মেলেনি। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। রয়েছে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায়। একই সাথে নজরুল ইসলামের অবস্থান এবং নিখোঁজের বিষয়ে কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
গত ১৭ মার্চ রাত সাড়ে ৭টার দিকে আটলিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের বাড়ির সামনে থেকে জেলা বিএনপি’র সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম নিখোঁজ হয়। ঘটনাস্থলে তার ব্যবহৃত টুপি, মোটরসাইকেল ও চাবি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে নজরুলের স্ত্রী ডুমুরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এদিকে ঘটনার পরদিন রোববার এক সাংবাদিক সম্মেলনে নজরুলকে প্রশাসনের সাদা পোশাকের সদস্যরা মোটরসাইকেলযোগে তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করে বলেন জেলা বিএনপি’র নেতারা। তাকে অত অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ারও দাবি জানান বিএনপি নেতারা। নজরুল ইসলাম আঠারোমাইল দাখিল মাদরাসার শিক্ষক, সাবেক ইউপি সদস্য বেতাগ্রামের মৃত মানিক মোড়লের ছেলে।
এদিকে গত মঙ্গলবার ডুমুরিয়া উপজেলার বেতাগ্রামে নজরুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন জেলা বিএনপি নেতারা। তারা নজরুলের মা, স্ত্রী, দুই সন্তানসহ পরিবারের সকলকেই সান্তনা দেন এবং ধৈর্য্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার পরামর্শ দেন। এরপর নজরুল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেছেন নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মন্টু, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান খান আলী মুনসুর, সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ, আশরাফুল আলম নান্ন, শামছুল আলম পিন্টু, মুর্শিদুর রহমান, প্রভাষক জাহিদুর রহমান রাজু, রফিকুল ইসলাম বাবু, ডাক্তার আলম, প্রভাষক মনিরুল হক, খান ইসমাইল হোসেন, শেখ দিদারুল হোসেন দিদার, বি এম মনিরুজ্জামান, গাজী আব্দুল হালিম, শেখ সরোয়ার হোসেন, হাবিবুর রহমান হবি, ঈমান আলী মোড়ল, এম এ সালাম, সরদার আব্দুল মালেক, সরদার দৌলত হোসেন, মাওলানা নজরুল ইসলাম, শাহাদাৎ হোসেন, শেখ সেলিম, আবু বকর সিদ্দিক, আমিনুর রহমান, মশিয়ার রহমান, আইয়ুব আলী, আঃ গাফ্ফার, প্রভাষক মঞ্জুর রশিদ, কামাল হোসেন, বোরহান উদ্দিন, সাত্তার মোড়ল, শহিদুল ইসলাম, আশরাফুল আলম ও আবুল কালাম প্রমুখ।
বটিয়াঘাটায় কিশোরী ধর্ষিত দুই ধর্ষক গ্রেফতার
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালীর ভগবতীপুর গ্রামে ১৩ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সে সুরখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। গত রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার ভগবতীপুর গ্রামে তার বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ব্যাপারে থানায় সোমবার দুইজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। পুলিশ জানায়, ধর্ষিতা ছাত্রীর বাড়ি জেলার পাইকগাছা উপজেলার বামনেরাবাদ গ্রামে। তার আপন বড় বোনের বাড়ি থেকে সে লেখাপড়া করতো। স্কুলে যাওয়া আসার পথে রায়পুর গ্রামের নাছির উদ্দিন সরদারের বিবাহিত ছেলে বাহউদ্দিন সরদার (২১) প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো। এ নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে গণধোলাই দিয়ে তার পিতার নিকট হস্তান্তর করে। এর জের ধরে বাহাউদ্দিনের ঘরে স্ত্রী ও সন্তান থাকা অবস্থায় গত রোববার রাত দুইটার দিকে ওই একই এলাকার জলিল শেখের ছেলে রবিউল শেখ (১৮) সহ অজ্ঞাত ৪/৫ জন ভগবতীপুর গ্রামে ধর্ষিতার বাড়িতে প্রবেশ করে। ধর্ষিত ছাত্রী লেখাপড়া সেরে বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়ে। এ সুযোগে তারা প্রথমে তার মুখ চেপে ধরে হাত-পা বেঁধে ফেলে। বাহউদ্দিন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ দৃশ্য তার সহযোগী রবিউলসহ অন্যান্যরা ভিডিও ধারণ করে। ধর্ষিতার গোঙানির শব্দ শুনে ঘর থেকে তার বোন ও ভগ্নিপতি বের হয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা ধর্ষিতাকে কাউকে না বলার জন্য শাসিয়েও যায়। পরবর্তীতে তারা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোতাহার রহমান শিমুকে জানায়। বিদ্যালয়ের এসএমসির সদস্য ও শিক্ষকমন্ডলীর সাথে আলোচনা করে নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।
এসএমসির সভাপতি মোতাহার রহমান শিমু জানান, ছাত্রীটি খুবই মেধাবী। এর আগেও আসামীরা তাকে স্কুলে আসার পথে উত্ত্যক্ত করতো।
প্রতারক বেল্লাল গ্রেফতার
চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়ার অভিযোগে খুলনায় বেল্লাল হোসেন (৩২) নামের এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক বেল্লাল হোসেন নিজেকে ১৮তম বিসিএস (ভুয়া) ক্যাডার বলে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি উপ-সচিব ও যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার। তিনি এনএসআইতে কর্মরত। তিনি একজন ডাক্তার। এছাড়া আবোল তাবোল আরো অনেক কথা। বেল্লাল খুলনা জেলার পাইকগাছার বাতিখালি গ্রামের শহর আলীর ছেলে। তিনি একজন সাংবাদিক বলেও পরিচয় দেন।
ভুক্তভোগী মো. কামরুজ্জামান জানান, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে তার ছেলেকে এনএসআইতে চাকরি দেয়ার কথা বলে ওই প্রতারক দু’দফায় টাকা নিয়েছে। পরে টালবাহানা শুরু করলে খোঁজখবর নিতে গেলে তার প্রতারণা ফাঁস হয়। খুলনা থানায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এম মিজানুর রহমান বলেন, গত মঙ্গলবার পুলিশের এক এ এস আই এর নিকট বেল্লাল নিজেকে যুগ্ম সচিব ও উপ-সচিব হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। তখন সেখানে উপস্থিত লোকজন থানায় ফোন দিয়ে আবোল তাবোল কথা বলছে বলে জানান। তখন জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নিকট নিয়ে গেলে তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন বেল্লাল ভুয়া পরিচয় দিচ্ছেন বলে প্রমাণিত হয়। তখন তাকে থানা হেফাজতে রাখা হয়। এ ব্যাপারে এখনও কোন মামলা হয়নি। তবে তার বিষয়ে কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তা সংশ্লিষ্ট এএসআই এর সাথে কথা বলে জানা যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ