ঢাকা, বৃহস্পতিবার 22 March 2018, ৮ চৈত্র ১৪২৪, ৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মংলায় হচ্ছে দ্বিতীয় জ্বালানি তেল স্টেশন

খুলনা অফিস : সরকারি প্রকল্পের আওতায় মংলা সমুদ্রবন্দরে নির্মিত হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল স্টেশন কেন্দ্র। এ কেন্দ্রে সকল প্রকার জ্বালানি তেল মজুদ ও সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজসহ সকল প্রকার নৌযান এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এখান থেকে জ্বালানি তেলের সুবিধা পাবে।
তেল স্টেশনের প্রকল্প কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন জানান, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জ্বালানি তেলের সঙ্কট নিয়ে চলমান বিড়ম্বনা দূর হবে।
মংলা বন্দর সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে জ্বালানি তেল স্টেশনের ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনে এ তেল স্টেশনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। পরবর্তীতে এ জ্বালানি তেল স্টেশন থেকে দেশের সর্বত্র সকল প্রকার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এর আগে ২০১৩ সালে এই জ্বালানি তেল স্টেশনের কাজ শুরু করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল স্টেশন সূত্র জানায়, মোংলা ওয়েল ইনস্টলেশন নামে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে দুইশ’ কোটি টাকা। বিপিসির তত্ত্বাবধানে এ প্রকল্পের অধীনে এক লাখ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ১৪টি ট্যাংক, পাইপলাইন ও পাম্প হাউজ, ফায়ার ফাইটিংস, অটোগেজিং, সাব স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
মংলা বন্দর ব্যবহারকারী এইচ এম দুলাল জানান, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাণিজ্যিক জাহাজে তেল সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘদিনের চলমান ভোগান্তি দূর হবে। একই সঙ্গে তেল সরবরাহ নিশ্চিত হলে বন্দরে জাহাজের আগমন বৃদ্ধি ও আমদানি রফতানি পণ্যের চাপসহ কাজের গতিও বৃদ্ধি পাবে।
তেল স্টেশনের প্রকল্প কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন জানান, দেশি-বিদেশি জাহাজসহ নৌযান সমূহে সরাসরি জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য ডলফিন অয়েল জেটি নির্মাণের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের ৯০ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১০ ভাগ কাজ চলতি মাসে শেষ হবে। তিনি আরও জানান, এখানে কেরোসিন, মোবিল, লুবওয়েল, পেট্রোলসহ সকল প্রকার জ্বালানি তেল সংরক্ষণ ও মজুদ করা হবে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক সেমিনার : অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গতকাল বুধবার সকালে খুলনার স্কুল হেলথ ক্লিনিকে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। খুলনা সিভিল সার্জন অফিস স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহ (২০-২৫ মার্চ) উপলক্ষে এ সেমিনার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. রওশন আনোয়ার। সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডা. এএসএম আব্দুর রাজ্জাক। সেমিনারে হৃদরোগ এবং এ রোগ প্রতিরোধে বিস্তারিত ধারণা দেন শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডা. বিধান চন্দ্র গোস্বামী। অসংক্রামক রোগ সম্পর্কে আলোচনা করেন খুলনা সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. উৎপল কুমার।
বক্তারা বলেন, প্রায় ৭০ ভাগ লোকের মৃত্যু হয় অসংক্রামক ব্যাধিতে। প্রতি বছর বিশ্বে ১ কোটি ৭০ লাখ লোক হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়। আমাদের দেশে ৫ লাখ লোক মারা যায় এ রোগে। বক্তারা অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। এগুলো হলো প্রচুর সবজি ও ফলমূল খাওয়া, অতিরিক্ত লবণ, চিনি, চর্বিযুক্ত খাবার থেকে বিরত থাকা। ধূমপান, তামাকজাত দ্রব্য পরিহার করা, প্রতিদিন কমপক্ষে এক ঘন্টা হাঁটা। সেমিনারে পুলিশ বিভাগ, কৃষি, তথ্য,স্বাস্থ্য বিভাগ সহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ