ঢাকা, বৃহস্পতিবার 22 March 2018, ৮ চৈত্র ১৪২৪, ৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে করতোয়া নদীর পানি সূতা প্রসেসিং বর্জ্যে দূষিত

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : তাঁত কারখানার বিষাক্ত পানি করতোয়া নদীতে ফেলা হচ্ছে

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে: শাহজাদপুর শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী করতোয়া নদীর পানি সূতা প্রসেসিং বর্জ্যে দূষিত হয়ে উঠেছে। সূতা রং করা বিষাক্ত পানির নির্গত বর্জ্যে নদীর মাছ যেমন মারা যাচ্ছে ঠিক তেমনিভাবে নদীতে গোসল করা নারী-পুরুষ,শিশুর শরীরে নানা রকম চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে শাহজাদপুরের সুশিল সমাজ ও সচেতন মহল দারুন উদ্বীগ্ন। সরে জমিনে ঘুরে করতোয়া নদীর উপর নির্মিতকরতোয়া সেতুর উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের বেশ কয়েকটি তাঁত শিল্প কারখানার সূতা প্রসেসিং বর্জ্য নিয়মিতভাবে পাইপ দিয়ে করতোয়া নদীতে ফেলার দৃশ্য লক্ষ করা গেছে। সূতা রং করা নানা ক্যামিক্যালের বিষাক্ত বর্জ্য দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে প্রকাশ্যে পাইপ স্থাপন করে নদীতে ফেলে পরিবেশ দূষন করলেও যেন কোন প্রতিকার ছিলনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তাই তো দেখার কেউ না থাকায় সহসাই বন্ধ হচ্ছেনা বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার কাজ। অথচ করতোয়া নদীর নদীর চলন্ত পানিতে নদীর তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন গোসল করা সহ এর পানি দিয়ে বিভিন্ন কাজ করছে। নদীতে গোসল করার কারণে নানা রকম পানি বাহিত রোগ   যেমনটা মানুষকে তেমিন জেলেরা আশানুরুপ মাছ পাচ্ছেনা নদীতে। মাঝে মধ্যেই জেলেদের জালে রোগাক্রান্ত মাছ ধরা পড়ছে। এসব রোগাক্রান্ত মাছ খেয়েও অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ। যার ফলে দ্রুত নদীর চলন্ত পানিতে মিলের বিষাক্ত নির্গত বর্জ্য ফেলা বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবী হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল। পরিবেশবিদরাও এটাকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকী বলে উল্লেখ করেছেন। নদী তীরবর্তী দু পাড়ের হাজার হাজার মানুষের প্রাণের দাবী সূতা প্রসেসিং বর্জ্য যেন নদীর পানিকে আর বিষাক্ত করতে না পারে। নদীর জীব বৈচিত্র মাছ সহ সকল প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। তাছাড়া নদী তীরবর্তী তাঁত শিল্প কারখানার মালিকগণ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছেনা সাধারণ মাুনষও।
এজন্য জনস্বাস্থ্যের স্বাথে কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেহেলী লায়লা  জানান, যেহুতু অভিযোগ পাওয়া গেছে তাই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। করতোয়া নদীর পানি দূষন রোধ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ