ঢাকা, শুক্রবার 23 March 2018, ৯ চৈত্র ১৪২৪, ৪ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবির দাফন সম্পন্ন

 

সিলেট ব্যুরো : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা লক্ষীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবি ওরফে নূর জাহান বেগমের জানাজা ও দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় লক্ষীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশের মাঠে তার জানাজা হয়। এ সময় পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে কাকন বিবিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান, দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতিক, দোয়ারা বাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ, দোয়ারা বাজার উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালেহা বেগম, সহকারী পুলিশ সুপার দোলন মিয়া, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ খসরু প্রমুখ। এছাড়াও উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাসহ হাজার হাজার মানুষ নামাজের জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে কাকন বিবির মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধ কমান্ড ইউনিট, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষেদের চেয়ারম্যান গণ এবং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

এ সময় জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম  গণমাধ্যমকে জানান, স্বাধীনতার মাসে আমরা একজন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়েছি। তার খেতাবটি গেজেট আকারে হয়নি। গেজেট আকারে প্রকাশ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক শোনার পর আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবগত করেছি।

গত বুধবার রাত ১১টায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শতবর্ষী কাকন বিবি ইন্তিকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় একশ’ বছরেরও ওপরে। দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে ভুগছিলেন কাকন বিবি। এ অবস্থায় গত সোমবার তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়। ১৯৭১ সালে কাকন বিবি তিন মাসের কন্যা সন্তান সখিনাকে রেখে যুদ্ধে চলে যান। তিনি কেবল মুক্তিবাহিনীর গুপ্তচর হিসেবেই কাজ করেননি, সেই সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধেও অংশ নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ