ঢাকা, শনিবার 24 March 2018, ১০ চৈত্র ১৪২৪, ৫ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মর্মান্তিক!

পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বা দেশে প্রায়শ ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, সুনামি ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগদুর্বিপাক ছাড়াও যুদ্ধবিগ্রহের কারণে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। যেমন এখন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষ সেখানে সেনাবাহিনী ও রাখাইন বৌদ্ধদের হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সিরিয়াতেও যুদ্ধ চলছে। বিপর্যয়ের শিকার অনেক সিরীয় নাগরিক এখন পাশের বিভিন্ন দেশে শরণার্থী। এই বিপন্ন-বিপর্যস্ত মানুষকে মানবিক ত্রাণ দেবার জন্য জাতিসংঘসহ আরও কিছু সংস্থা এগিয়ে আসে। সম্প্রতি বিপন্নদের ত্রাণপ্রদানকারী এসব সংস্থার কোনও কোনওটির বিরুদ্ধে যৌনকেলেঙ্কারির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন ও অক্সফামের মতো সংস্থাও এ অভিযোগের বাইরে নয় বলে প্রকাশ। গত ২০ মার্চ ঢাকার একটি দৈনিক এমনই ন্যক্কারজনক ঘটনার খবর ছেপেছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশ হাইতিতে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। বিভিন্ন দাতাসংস্থা মানবিক সাহায্য ও ত্রাণ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সেখানে বৃটিশ দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনও ছিল। এবার সংস্থাটির সদস্যদের বিরুদ্ধে ত্রাণ দেবার বিনিময়ে ভূমিকম্পে সর্বস্ব হারানো নারীদের শয্যাসঙ্গিনী করবার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। আর এমন হতবাক করা কেলেঙ্কারি ফাঁস করেছেন সংস্থাটিরই একজন কর্মকর্তা। এর আগে প্রায় একই রকম অভিযোগ ওঠে আরেকটি বৃটিশ দাতাসংস্থা অক্সফামের বিরুদ্ধেও। ওই অভিযোগে ইতোমধ্যে অক্সফামের উপ-প্রধান ও বিশেষ দূত পদত্যাগ করেন। এবার অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ল্ড ভিশনের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ভিশনের সাবেক এক কর্মকর্তা জানান, হাইতিতে সংস্থাটির কর্মীরা ত্রাণ ও অন্যান্য সহায়তার বিনিময়ে দুর্যোগকবলিতদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেন। অনেক কর্মী অর্থের বিনিময়েও অসহায় নারীদের তাদের শযাসঙ্গিনী হতে বাধ্য করাতেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল অবধি এ দাতব্য সংস্থার ব্র্যান্ড এম্বাসেডর ছিলেন বৃটিশ রাজকুমার হ্যারির বাগদত্তা হলিউড তারকা মেগান মার্কেল। সংস্থাটির বিরুদ্ধে যৌনতার অভিযোগ ওঠায় অন্যদের মতো তিনিও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে এতেও বিতর্ক শেষ হয়নি। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হয়েও মেগান কি এসব কেলেঙ্কারির কথা অবহিত ছিলেন না? ওয়ার্ল্ড ভিশন গতবছর বৃটিশ সরকার থেকে ১৭ মিলিয়ন পাউন্ড সাহায্য পেয়েছে। উল্লিখিত অভিযোগ প্রকাশ হওয়ায় বৃটিশ সরকারের তরফ থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরও কমবেশ সাহায্য-সহযোগিতা করছে কয়েকটি বিদেশি সংস্থা। অভিযোগ পাওয়া গেছে, রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা বিদেশিদের লালসার শিকার হচ্ছে। যৌনলালসা চরিতার্থ করতে নানা কৌশলে এবং প্রলোভন দেখিয়ে এদের কক্সবাজার থেকে ঢাকা আনাসহ কোলকাতা ও কাঠমান্ডু নেয়া হচ্ছে। তাই এখানেও যাতে হাইতির মতো কেলেঙ্কারি না ঘটে সে ব্যাপারে এখনই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। অন্যথায় রোহিঙ্গাদের যেমন অমর্যাদা হবে, তেমনই আমাদের সরকারেরও মানসম্মান ও দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। কারণ বিদেশি দাতাসংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকের দৃষ্টিতেই অবাধ যৌনাচার যেমন অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না; তেমনই সামাজিকভাবে খুব একটা আপত্তিকরও নয়। কিন্তু শরণার্থী রোহিঙ্গারা যেমন মুসলিম; আমাদের দেশটিও প্রায় ৯০% ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত। এখানে হাইতির মতো অবাধ মেলামেশা বা শরণার্থীদের কোনও কূটকৌশলে কিংবা বাধ্যতামূলকভাবে কেউ যৌনসঙ্গিনী করাতে চাইলে তা কেবল সামাজিকভাবে আপত্তিকরই হবে না; আইনের চোখেও হবে মারাত্মক অপরাধ। আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সময় থাকতেই হুঁশিয়ার করতে চাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ