ঢাকা, শনিবার 24 March 2018, ১০ চৈত্র ১৪২৪, ৫ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সুপ্রিম কোর্টে নীল প্যানেলের বিজয় বিচারালয়ে সরকারি নগ্ন হস্তক্ষেপের দ্ব্যর্থহীন প্রতিবাদ -রিজভী

গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের সবোর্চ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নিবার্চনে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেল বিজয়কে দেশের বিচারাঙ্গনে সরকারি নগ্ন হস্তক্ষেপের দ্ব্যর্থহীন প্রতিবাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া বন্দী করার পর এখন তার জামিন বিলম্ব করতে ওকালতনামায় স্বাক্ষর নিতে পর্যন্ত বাধা প্রদান করা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী তথা বিএনপি- জামায়াত সমর্থিত প্যানেলে সভাপতি সম্পাদকসহ ১০টি পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে সরকারপন্থী সাদা দলের ভরাডুবি হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে রিজভী তাদের এবং তাদেরকে যারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন তাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, এ বিজয় দেশের বিচারঙ্গনে সরকারি নগ্ন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ। দেশের বিচার বিভাগের এই চরম সংকটে সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীরা সঠিক রায় দিয়ে বিচারালয়ে সরকারি নোংরা খেলার দ্ব্যর্থহীন প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলায় সরকার একের পর এক হস্তক্ষেপ করে যে নোংরা খেলা তারা খেলছে, তা দেখে গোটা জাতি শুধু বিস্মিত নয় ঘৃণায় ধিক্কার জানাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, কয়েকদিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্টের রক্ষণশীল সদস্য এনথিয়া ম্যাকলনটায়ার বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতার নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে আমার আগ্রহ বাংলাদেশ নিয়ে, আমি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দীত্ব ও মামলার বিষয়টি অনুসরণ করছি। দেশের প্রতিটি নাগরিকের ন্যায্য বিচার-প্রক্রিয়ার অধিকার থাকতে হবে। বিচার বিভাগকে অবশ্যই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে। অভিযুক্ত প্রতিটি নাগরিকেরই নিরপেক্ষ আদালতের কাছে নিজেদেরকে ডিফেন্ড করার অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আমাদের বিচার বিভাগ সরকারি প্রভাবমুক্ত নয়। বরং বিচার বিভাগ সরকারের ইচ্ছা-পূরণেরই হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। প্রহসনের বিচারের মাত্রা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। সরকার মিথ্যা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সাজা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বন্দী করার পর এখন তাঁর জামিন বিলম্ব করতে ওকালতনামায় স্বাক্ষর নিতে পর্যন্ত বাধা প্রদান করা হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসনকে জেলে বন্দী করার পর তাঁকে আরও চারটি মিথ্যা, সাজানো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অনেকবার চেষ্টা করেও আইনজীবরা ওকালতনামায় বেগম খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর নিতে পারেননি কারা কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতায়। গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি মামলার ওকালতনামায় বেগম খালেদা জিয়ার সই নিতে গিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পেয়ে আইনজীবীরা ফিরে এসেছেন। এ জন্য এসব মামলায় আইনি পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রেখে যে এক ভয়ানক ফন্দী আঁটছে সেটা এখন সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে। আগামী নির্বাচন নিয়ে ভোটারদেরকে ধোঁকা দিতে, প্রধানমন্ত্রীর একদলীয় রাজত্ব কায়েম করতে, নিজেকে সম্ঘাজ্ঞী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে, জাতীয় অর্থনীতি লুটপাট করে দলের সোনার টুকরো ছেলেদের পেট ভরাতে তিনি সেই ফন্দী করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতটাই বেপরোয়া যে, গণতন্ত্রকে গুম করার পরে নিজের ক্ষমতাকে এখন প্রলম্বিত করার জন্য দেশের স্বাধীনতাকে বিক্রি করতেও দ্বিধা করছেন না।
রিজভী আরও বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার তাদের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু কোন ষড়যন্ত্র কাজে আসবে না। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে এবং বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সর্বব্যাপী তীব্র থেকে তীব্রতর করা হবে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আমাদের প্রধান কর্মসূচি হচ্ছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। আমরা সেটিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তাঁর নেতৃত্বে সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করব।
খালেদা জিয়া ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না বলেও জানান রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে অংশ নিয়ে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। সরকার তাঁকে বাইরে রেখে ভোটের যে ষড়যন্ত্র করছে, তা কখনো সফল হবে না।
রিজভী আরো বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছে, তাতে ভীত হয়ে সরকার তাঁকে জেলে আটকে রেখেছে। কিন্তু আমরা সরকারকে বলতে চাই, জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের প্রিয় নেত্রীকে মুক্ত করে আনবে। আর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অচিরেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ