ঢাকা, শনিবার 24 March 2018, ১০ চৈত্র ১৪২৪, ৫ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দুর্নীতির আঘাতেই মশা নিধন ব্যর্থ

ডাঃ মোঃ মুহিব্বুল্লাহ : ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়া সহ হরেক রকম রোগের জীবাণুবাহি এক রক্ত ভোজি পতঙ্গের নাম মশা। অর্ধপরিস্কার ও স্যাঁতসেঁতে নর্দমা বা অপরিস্কার অপরিচ্ছন্য স্থানে এদের বসবাস ও বংশবিস্তার।এডিস মশার মোতো একএক ধরনের পরিবেশে একএক প্রজাতির মশা বেশী জন্মে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়াসহ এ প্রাণীর আহার প্রহণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের এক দেহ থেকে অন্য দেহে এইচ আই ভি ভাইরাস (এইডস) সংক্রামিত হওয়া ও অসম্ভব কিছু নয়।অবশ্য মশার মাধ্যমে এইচ আই ভি (এইডস) এর সংক্রমণের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে।তবে মশা মানবদেহ থেকে শুধু রক্তই খাচ্ছেনা সাথেসাথে মরণ ব্যাধির সংক্রামক ও ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে একথার উপরে সবাই একমত।তাছাড়া ঘুম নষ্ট সহ জীবনযাত্রাকে তিক্ততায় পর্যবসিত করে তুলছে তা আর অস্বীকার করার কে আছে।মশা মানুষের দেহে কোনো ক্ষতি করুক আর না করুক তার বিষাক্ত কামড় থেকে মুক্তি পেতে শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-দরিদ্র সকলেই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ভাবে চেষ্টা করে থাকে।
মশারি ব্যবহার ও মশার কয়েল জ্বালিয়ে হলেও মানুষ মশার কামড় থেকে আত্মরক্ষা করে।তবে এ আত্মরক্ষা শুধু রাতেরবেলা নিদ্রা যাপনের সময়টাকে নির্দৃষ্ট করে। দিন রাতের বাকিটা সময়ের কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যক্তি ও পরিবার গ্রহন করতে পারেনা। কেননা বিছানার বাহিরে মশার আক্রমণ থেকে নিজেকে হেফাজত করার মতো ব্যয়বহুল ব্যবস্থা গ্রহণ করা ব্যক্তির পক্ষে আদৌ সম্ভব না।
মশার প্রজনন বা তার বংশবিস্তার এবং তাদের বসতির ব্যাপারেও আজ মানুষের সুস্পষ্ট  ধারনা রয়েছে। মাঝেমাঝে মশা নিধনের ব্যক্তিগত, সামাজিক, সরকারি ও বেসরকারি পদক্ষেপ ও গ্রহণ করা হয়ে থাকে। তবে পার্থিব কিছু বিপর্যয় ব্যক্তি জীবনে ব্যক্তির অসচেনতায় ও অপতৎপরতার কারণে আসে। কিছু আসে সমাজ ও রাষ্ট্রশক্তির অবহেলা ও অনুদ্যোগের কারণে।তবে যেভাবেই আসুক আর যে-ই ক্ষতিগ্রস্ত হোকনা কেনো রাষ্ট্র দায় এড়ানোর সুযোগ পায়না। যেকারণে জাতীর জন্য ক্ষতিকর জনতার সাধ্যাতিত কোন দুর্যোগ,দুর্বিপাক বা মহামারী মোকাবেলা করা সরকারের উপরই বর্তায়। এজন্য মশার মতো এক ভয়ংকর মহামারীর থেকে জাতিকে রক্ষা করা অবশ্যই সরকারের কাজ।
বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ মশার কামড় ঘটিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারায়। অসংখ লোক মর্মান্তিক রোগে রোগাক্রান্ত হয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের উপর বুঝা এবং রোগ বংশবিস্তারের প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়ে পড়ে।যার মোকাবেলা বা ধ্বংস সাধন করা  ব্যক্তি ও সমাজের জন্য দুর্জেয়ো ব্যাপার।একমাত্র সরকারি উদ্যোগ ও কার্যকরী পদক্ষেপ ছাড়া যার সফল মোকাবেলা কল্পনার ও উর্ধ্বে।
 আজ এক দুই দিনের কথা নয়।বছরের পর বছর মশার উৎপাতে এদেশের মানুষ অতিষ্ঠ।দিশাহারা ও দেউলিয়া মশা দংশনজনিত রোগাক্রান্ত জীবনের দুর্বিষহ ঘানি টানতে টানতে।গ্রাম,গঞ্জ,শহর কোথাও মশার অসহনীয় উপদ্রবের বর্ননা হয়না। তবে তুলনামূলক গ্রামের জীবনযাত্রার তুলনায় শহুরে জীবন বেশী বিষময়। গ্রামের বসতিগুলোর থেকে শহরের বসতি অতি ঘন।তাছাড়া শহরের দুটি প্রাসাদের মাঝের জায়গাটুকু এবং এমনকি বিল্ডিং এর ছাদের উপরেও সামান্যতম  স্বাস্থ্যসম্মত নয়।বরং একেবারে মশার রাজ্যপোযোগি। শহরের প্রতিটি অলিগলি, নর্দমা, ড্রেন, ডাস্টবিনসহ পুরা নগরীর প্রতিটি প্রান্তরই  আজ যেনো মশার খামারে পরিনত হয়ে গেছে।যেখানে চলতে মনে হয় নিশ্চয়ই এটা মশা উৎপাদনকেন্দ্র বা মশার চাষাবাদ।যেকারণে সেখানকার মশার রাজত্বের কাছে জনজীবন যেন একপ্রকার জিম্মি দশায় বিপর্যস্তের পথে।  
তবে মশার এমন আলোচিত অত্যাচার চলমান মুহুর্তে মাঝেমাঝে মশা নিধনের কিছু সরকারি উদ্যোগ জনগনের নজরে পড়ে। দায়িত্বেরতদের মুখে মশা নিধনের ব্যাপারে সাড়াঁশি আক্রমণের বুলি বাজতেও শুনাযায়।যারা নানা পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা মঞ্চেমঞ্চে উপস্থাপন করে জনসমর্থন জোগাড় করে নেয়।মনেহয় যেন জনগনের সব চাওয়া এবার না চাইতেই পেয়ে সকলেই ছন্দময়ী জীবনে পদার্পণ করবেই করবে।কিন্তু তার সুফল পরিলক্ষিত হয়না।আর এমন অবস্থায় জনমনে প্রশ্নের জন্ম হওয়া একেবারে স্বাভাবিক। এটাকি মশা নিধনের কীটনাশকই ছিটিয়ে গেল, নাকি জনগণকে ধােঁকা দিতে পানি ছিটিয়ে কীটনাশকের টাকা পকেটে নিলো? এমন প্রশ্ন উঠবেই - বা - না কেনো। বাস্তবে দেখাযায় মশা মরাতো দুরে মশা আরো বেশী হয়েছে।এযেন নিধন নয় বরং বংশবিস্তার সাধনে সার সামগ্রী ছড়িয়ে গেছে।নতুন উদ্যমে মশারা আজ নিজেদের আনন্দমেলায় গর্জন করে বেড়াচ্ছে। কামড়ের ধরনে মনেহয় এ মশা গুলো সিটি কর্পোরেশনের ছিটান পুষ্টিশক্তি থেকে নবউদ্যম অর্জন করে প্রজনন ক্ষেত্র বর্জন করে মানব আক্রমণে নেমেছে।
এমনভাবে দূর্নীতিবাজদের চোখে ধুলা দেওয়ার  কবলে দেশবাসীকে আর কতোকাল জীবন চালাতে হবে? ক্ষমতার মসনদওয়ালাদের এভাবে আত্মস্বার্থে মত্ত হয়ে দেশবাসিকে ভোগান্তির  মধ্যে নিমজ্জিত করে রাখার অন্তঃই বা কোথায়? অসহায় জনতা মশার ছড়ান দুরারোগ্য ব্যাধির হাত থেকেও কি রক্ষা পাওয়ার অধিকার টুকু পাবেনা? রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকী সুবিধা থেকেও যদি বঞ্চিৎ হতে হয় তাহলে সে নাগরিকদের মনের ব্যথা আর কোথায় রাখা যায়?  আশ্রয়ের জন্য কোথায় যেয়ে তারা মাথা গুঁজতে পারে? বিপদেআপদে রাষ্ট্র তাদের পাশে না থাকলে বিশ্বে সে জাতীর চেয়ে অবহেলিত এবং কপালপোড়া জাতি আর খুঁজে পাওয়া যায়না। ক্ষমতাসীনদের আপন পেটপুজার সার্থে সজাতির সাথে এমন ছলনা গঞ্জনার কোনো প্রতিকার হচ্ছেনা। এজন্য জাতিকে দুর্নীতিবাজ কর্মচারী কর্মকর্তাদের লালনপালনকারী দেশও জাতীর ক্ষতিসাধকদেরকে চিহ্নিত করে তাদেরকে বর্জনের মাধ্যমে মশা নিধনের দ্বারা দেশের মানুষকে স্বাচ্ছন্দ্যশীল জীবন উপহার দেয়ার দিকে এগিয়ে আসতে হবে।
sordarhomeo@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ