ঢাকা, শনিবার 24 March 2018, ১০ চৈত্র ১৪২৪, ৫ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুশনারকে আমি পকেটে রাখি-সৌদি যুবরাজ

২৩ মার্চ, নিউইয়র্ক টাইমস/ ইন্টারসেপ্ট/ আল জাজিরা : সৌদি আরবের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিনিয়র উপদেষ্টা ও তার জামাতা জারেড কুশনার।

সে সময় কাতারের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে সৌদি যুবরাজ গর্বভরে বলেছিলেন কুশনার তার পকেটে থাকেন। সৌদি ও আমিরাতের রাজ পরিবারের ঘণিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এই খবর জানিয়েছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগানো মার্কিন সংবাদমাধ্যম।

তবে কুশনারের আইনীজীবী এই খবরকে ‘মিথ্যা ও হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে অভিযোগটি ‘জবাব দেওয়ার যোগ্য’ নয় বলে দাবি করেছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন সৌদি যুবরাজ।

২০১৭ সালের নভেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে বেশ কয়েকশো সৌদি প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীকে আটক করে রিয়াদের রিৎজ কার্লটন হোটেলে আটকে রাখেন সৌদি যুবরাজ। এই অভিযানকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিদের বিরুদ্ধে অভিযান হিসেবে দেখে থাকেন অনেকে। সৌদি আরব দাবি করে থাকে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার বিনিময়ে মুক্তি হয়েছে তাদের। এই অভিযান শুরুর এক সপ্তাহ আগে সৌদি আরব সফর করে ফেরেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার। সে সময় তিনি সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা ট্রাম্পের প্রাত্যহিক ব্রিফিং দেখার সুযোগ পেতেন।

হোয়াইট হাউসের সাবেক এক কর্মী ও দুই সরকারি কর্মকর্তার বরাতে ইন্টারসেপ্ট বলছে, এসব ব্রিফিংয়ে সৌদি আরবের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বর্ণনা থাকতো। সম্প্রতি নিরাপত্তা ছাড়পত্র না পাওয়ায় কুশনারের ওই ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সৌদি ও কাতারের রাজপরিবারের ঘণিষ্ঠ তিনটি সূত্রের বরাতে ইন্টারসেপ্ট জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিদের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছিলেন কুশনার। আলাদা আরেকটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, আবু ধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে গর্ব করে সৌদি যুবরাজ বলেছিলেন, কুশনার তার পকেটে থাকেন। তবে কুশনারের আইনীজীবী অ্যাবে লোয়েল এই খবরকে ‘মিথ্যা ও হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে অভিযোগটি ‘জবাব দেওয়ার যোগ্য’ নয় বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম মাঝে মাঝে এমন সব প্রশ্ন হাজির করে যা চূড়ান্তভাবে মিথ্যা ও হাস্যকর। এসব প্রশ্ন জবাব দেয়ার যোগ্যও নয়। এটা তার একটা। ইন্টারসেপ্টই ভালো বলতে পারবে।’

নিরাপত্তা অনুমোদন না পাওয়ায় কয়েক সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনারের গোপন গোয়েন্দা নথি দেখার সুযোগ কেড়ে নেয়া হয়। এরমধ্যেই ইন্টারসেপ্ট তার তথ্য ফাঁসের খবর প্রকাশ করলো। আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের খবর বলছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ইসরাইল ও মেক্সিকোর কর্মকর্তারা, জারেড কুশনারকে দোষী প্রমাণ করার উপায় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ করেছেন।

ট্রাম্পের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সৌদি যুবরাজ ও কুশনারের মধ্যে ঘণিষ্ঠ ও জোরালো সম্পর্ক রয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির খবরে জানানো হয়, গত বছরের অক্টোবরে কুশনার রিয়াদ সফরে গিয়ে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে কোনও কোনও দিন ভোর চারটা পর্যন্তও বৈঠক করেছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ৩৭ বছরের কুশনার ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকেরই চক্ষুশূল হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন হোয়াউট হাউসের চিফ অব স্টাফ জন কেলি। কেলি প্রায়শই কুশনার ও তার স্ত্রী ইভাঙ্কাকে হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার রাস্তা খোঁজেন। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের এক খবরে জানিয়েছে কুশনারের বিষয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাক মাস্টার। তারা বলেছিলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিকে বিক্রি করে বেড়াতেন কুশনার। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, হতাশ হয়ে একবার টিলারসন তার কর্মীদের বলেছিলেন, ‘এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আসলে কে?’ দুই সপ্তাহের সফরে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এই সফরে এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কুশনারের সঙ্গেও তার বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপত্তা অনুমোদন না থাকা কুশনারের সঙ্গে এবারের বৈঠকে সৌদি যুবরাজ কতটা তথ্য পাবেন তা নিয়ে এরইমধ্যে সংশয় প্রকাশ করেছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ