ঢাকা, শনিবার 24 March 2018, ১০ চৈত্র ১৪২৪, ৫ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হাইকোর্টের জামিন আদেশ জালিয়াতির ঘটনায় খুলনায় বিচারকের মামলা

 

খুলনা অফিস : হাইকোর্টের জামিন আদেশ জালিয়াতির ঘটনায় খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (ভারপ্রাপ্ত) মো. রেজাউল করিম মামলা দায়ের করেছেন। এ জামিন জালিয়াতির সাথে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে সদর থানায় তিনি মামলাটি দায়ের করেছেন (নং-৩০)। কলেজ শিক্ষক মো. রবিউল ইসলামের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে বিচারক ২১ মার্চ এজাহার দাখিল করেন। 

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, কয়রা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার এজাহার ও চার্জশীটভুক্ত আসামি। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাইকোর্টের একটি জামিন আদেশসহ তার আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। সেদিনই ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. রেজাউল করিম হাইকোর্টের আদেশ শুনানী অন্তে আসামিকে পরবর্তী ধার্য্য গত ১৩ মার্চ পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন। পরে হাইকোর্টের ওই জামিন আদেশ ক্রিমিনাল মিস ২৯৩৯/১৭ জালিয়াতি করা হয়েছে বলে আদালতে প্রমানিত হয়। 

বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মাসুদুর রহমান জানান, হাইকোর্টের জাল জালিয়াতি জামিন আদেশ নামার প্রেক্ষিতে নিম্ন খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে দুই মাসের অধিক সময় ধরে জামিনে ছিলেন কলেজ শিক্ষক (আসামি) রবিউল ইসলাম। জালিয়াতি চক্রের সাথে জড়িত প্রাথমিকভাবে কয়েক) শ্রেণীর বেশ কয়েকজনের নাম শোনা গেছে। 

গত ১৩ মার্চ ধার্য্য তারিখে আসামি পক্ষ একই আদালতে কলেজ শিক্ষক মো. রবিউল ইসলামের স্থায়ী জামিন আবেদন করা হয়। অপরদিকে বাদীপক্ষ হাইকোর্টের ওই জামিন আদেশের নকল কপি (জবেদা নকল) দাখিল করেন। এতে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। হাই কোর্টের ক্রিমিনাল মিস ২৯৩৯/১৭নং জামিন আদেশের বলে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি কলেজ শিক্ষক রবিউল ইসলাম অস্থায়ী যে জামিন নিয়েছিলেন। তা জালিয়াতি করে বানানো হয়েছে। আদালতের বিচারক বিষয়টি প্রতিয়মান হয়ে আসামি কয়রা সরকারি মহিলা কলেজের (আইসিটি) বিভাগের সহকারী প্রভাষক মো. রবিউল ইসলামকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, লায়লা বেগম নামের একজন বাদী ২০১৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি কয়রা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (খ) ধারায় শিক্ষক মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন (নং-২৫)। ওই মামলায় তিনি পলাতক থেকে হাই কোর্টের ক্রিমিনাল মিস ২৯৩৯/১৭ নং জামিন আদেশ চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে অস্থায়ী জামিন নেন। পরবর্তীতে হাই কোর্টের ক্রিমিনাল মিস ২৯৩৯/১৭ নম্বরের সূত্র ধরে খোঁজ খবর নেন বাদি পক্ষ। হাইকোর্টে এই নম্বরের তল্লাশীতে সত্যতা সামনে আসে। নম্বরটি সঠিক হলেও এটি রংপুর বিভাগের একটি মামলার ক্রিমিনাল মিস কেস নম্বর বলে হাই কোর্টের জবেদা নকলে পাওয়া যায়। 

এডভোকেট মাসুদুর রহমান জানান, হাই কোর্টের ক্রিমিনাল মিস ২৯৩৯/১৭ নম্বরের আদেশটি রংপুর জেলার শিবপুর থানার বদরগঞ্জ এলাকার আনারুল নামের একজন আসামির জামিন আদেশ। এই চক্রটি ওই আদেশের জাল জালিয়াতি করে খুলনার কয়রা থানার মামলায় কলেজ শিক্ষক রবিউলের জামিন নিয়েছেন। এর সাথে আদালত সংশ্লিষ্ট অনেকেই জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করেন তিনি। 

খুলনা জেলা বারের বর্তমান সভাপতি ও জেলা পিপি কাজী আবু শাহীন বলেন, এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোন ভাবে যাতে এ চক্র পার পেয়ে না যায় সে দিকে সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে আহ্বান জানান তিনি। 

খুলনার বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট এম এম মুজিবর রহমান বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশ জাল-জালিয়াতির ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। এদের প্রতিহত করে আইনের আওতায় না আনলে বিচার প্রার্থীরাসহ বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শিশু কন্যাকে হত্যায় মা শারমিনকে যাবজ্জীবন : খুলনা মহানগরীর খালিশপুর পিপলস্ কলোনীতে ১১ মাসের শিশু কন্যা সুমাইয়াকে হত্যার অপরাধ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মা মোসা. শারমিন (২০) কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাস সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোসাম্মাৎ দিলরুবা সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেছেন। রায় ঘোষণাকালে দন্ডপ্রাপ্ত আসামি শারমিন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। সে খালিশপুর পিপলস্ ৫ম তলা কলোনীর ৩নং বিল্ডিংয়ের নিচতলার ভাড়াটিয়া মো. সুমনের স্ত্রী। 

বেঞ্চ সহকারী সুভেন্দ্র রায় চৌধুরী নথীর বরাত দিয়ে জানান, ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খালিশপুর পিপলস্ ৫ম তলা কলোনীর ৩নং বিল্ডিংয়ের নিচতলার ভাড়া বাসায় ১১ মাসের নিজ শিশু কন্যা সুমাইয়াকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে মা শারমিন। গ্রেফতারের পর শারমিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, আগের দিন শাশুড়ী জরিনা খাতুনের সঙ্গে সংসারের অভাব-অনাটন নিয়ে ঝগড়া হয়। তার স্বামী সুমন ইজিবাইক চালক। ঘটনার দিনে সকাল ৬টার দিকে তার শাশুড়ী জরিনা খাতুন ক্রিসেন্ট জুট মিলে শ্রমিকের কাজে যায়। সকাল ৮টার দিকে স্বামী সুমন ইজিবাইক চালাতে চলে যায়। এ সুযোগে স্বামীকে কষ্ট দিতে সে নিজ শিশু কন্যা সুমাইয়াকে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার স্বামী মো. সুমন বাদী হয়ে স্ত্রী মোসা. শারমিন ও তার সৎ পিতা দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামের মোসলেম মোল্লার ছেলে মিজান (৪৫)’র বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (নং-২০)। একই বছরের ৪ নবেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. তৌহিদুর রহমান মিজানকে বাদ দিয়ে আদালতে মোসা. শারমিনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌশুলী ছিলেন অতিরিক্ত পিপি বীরেন্দ্রনাথ সাহা ও এপিপি সাব্বির আহমেদ।

ছাদ থেকে ফেলে কাজের মেয়েকে হত্যার চেষ্টা : খুলনার মুজগুন্নি মেইন রোড এলাকায় পুলিশ দম্পতির বাসার ছাদ থেকে ফেলে হাফিজা খাতুন (১৪) নামের এক কাজের মেয়েকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে খুলনার কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেয়া হলেও ভর্তি নিয়ে ফের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, মেয়েটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইনজুর হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার ছাদ থেকে মেয়েটিকে নিচে ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে খালিশপুর থানার ওসি সরদার মোশাররফ হোসেন হাসপাতালে এসে মেয়েটির খোঁজ নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ