ঢাকা, শনিবার 24 March 2018, ১০ চৈত্র ১৪২৪, ৫ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শালিখার সার্ভেয়ার ঘুষ না পেয়ে  দুই শতাংশ জমি করে দিল অর্ধ শতাংশ 

মাগুরা সংবাদদাতা : ঘুষ দিতে সম্মত না হওয়ায় শালিখায় উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার শেখ মতিয়ার রহমান  ক্ষুব্ধ হয়ে দুই শতক জমির স্থলে অর্ধশতক জমি দেখিয়ে বানোয়াট রিপোর্ট করেছে বলে  অভিযোগ করেছে একটি অসহায় সংখ্যালঘু পরিবার। পরিবারটির অভিভাবক পুলুম গ্রামের রঞ্জন রজক জানায়, শালিখা থানার ৯০ নং পুলুম মৌজার সাবেক দাগ ৫৫৫ ও হাল ১০৫৯ নং দাগে দুই শতাংশ জমি নিয়ে মো: কামরুজ্জামান মোল্যার সাথে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের এক পর্যায়ে তাকে হয়রানির জন্য ১৮/৭/ ২০১৭ তারিখে মোকাম মাগুরার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মো: কামরুজ্জামান মোল্যা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত বিরোধীয় স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করে ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেন। ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতে সরেজমিন তদন্ত করে ২৮/০৮/ ২০১৭ তারিখে আদালতে রিপোর্ট প্রেরণ করেন এবং বিরোধীয় স্থানে আমার ২ শতাংশ জমি রয়েছে মর্মে উল্লেখ করেন। পরে বাদী তদন্ত প্রতিবেদনে নারাজি দিলে আদালত উপজেলা ভূমি অফিসকে তদন্তের নির্দেশ দেন। গত ০৬/০৩/ ২০১৮ তারিখে সার্ভেয়ার শেখ মতিয়ার রহমান বিরোধীয় স্থানে তদন্তে যান। তিনি রঞ্জন রজক ও তার পুত্র রমেন রজককে গোপনে ডেকে তদন্ত রিপোট  পক্ষে দেওয়ার বিনিময়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। তখন রমেন রজক  সঠিক তদন্ত রিপোর্ট  যা হয় তাই দেয়ার জন্য বলে। সে গরিব মানুষ কোন টাকা পয়সা দিতে পারবেনা বলে জানায়। এ ঘটনায়  সার্ভেয়ার রেগে গিয়ে বলেন  তদন্ত  রিপোর্ট  সঠিকই হবে বলে চলে যায়। পরবর্তীতে  গত ১৩/০৩/২০১৭ আদালতে যে প্রতিবেদন পেশ করেন,সেখানে তার ২ শতাংশ জমির স্থানে অর্ধ শতাংশ জায়গা রয়েছে বলে তার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। যা সম্পূর্ন বানোয়াট। অভিযোগের ভিত্তিতে সার্ভেয়ার মতিয়ার রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে  জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ন  মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে জানান। এব্যাপারে গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ ফিরোজ হোসেন বলেন, বিরোধীয় স্থানে একাধিক বার পরিমাপ করা হয়েছে। সেখানে গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে  রনজনদের ২ শতক জমিও বুঝে দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে বিরোধীয় ঐ স্থানে মামলা হয়েছে এবং নায়েব সাহেব আদালতে যে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেন সেখানে রমেন রজকদের ২ শতাংশ জমি উল্লেখ আছে। যাহার সার্টিফাইড কপিও তিনি দেখেছেন বলে জানান।  এব্যাপারে রনজন রজকের পরিবারসহ এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা এই বানোয়াট প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য সার্ভেয়ার শেখ মতিয়ার রহমানের শাস্তি ও পূনরায় সঠিক তদন্তের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ