ঢাকা, শনিবার 24 March 2018, ১০ চৈত্র ১৪২৪, ৫ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অনৈতিক কাজের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ৬ পুলিশ ক্লোজ

 

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : নিজের এরিয়া পার হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত সাদা পোশাকে আসামী ধরতে গিয়ে নারী ও সাধারণ মানুষের সাথে ধস্তাধস্তির ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশের ৬জনকে ক্লোজ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। 

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে- বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে সদর থানা পুলিশের ৫ কর্মকর্তাসহ ৬ জন জীবননগর উপজেলার সিংনগর গ্রামে সাদা পোষাকে আসামি ধরতে গেলে এলাকাবাসীর সাথে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরেই অভিযুক্ত ৬ পুলিশকে রাতেই চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনে ক্লোজড

 করে নেয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের ক্লোজড হওয়া পাঁচ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং একজন কনস্টবেলা হলেন- সহকারী উপ-পরিদর্শক রমেন কুমার সরকার, সহকারী উপ-পরিদর্শক ইন্দ্রোজিত কুমার, সহকারী উপ-পরিদর্শক কামরুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক কামরুজ্জামান, সহকারী উপ-পরিদর্শক ইউসুপ আলী এবং কনেস্টবল জসিম উদ্দীন। 

এলাকাবাসী জানায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের রাঙ্গিয়ারপোতা ও আকন্দবাড়িয়া গ্রামের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান জীবননগর উপজেলার সিংনগর গ্রামের। সদর থানার ৬ পুলিশ সাদা পোশাকে আসামি ধরতে সিংনগরে ঢুকে পড়ে। এ সময় সাদা পোশাকধারী পুলিশ পলাশ নামের একজনকে ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। গ্রামের কতিপয় লোক পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় একদল নারী পলাশকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য চেষ্টাকালে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে ওঠে। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ৬ পুলিশকে উদ্ধার করে। তবে সিংনগর গ্রামের মানুষের দাবি, সাদা পোশাকধারী পুলিশ গ্রামের সাধারণ মানুষকে মারধর করে এবং বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে ও বাড়ি ঘরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। তবে পুলিশ বলেছে, নিজেদের ঘরে নিজেরাই ভাঙচুর ও কোপাকুপি করে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।

চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, যেহেতু সদর থানা এলাকাধীন কয়েকটি গ্রামের পাশেই জীবননগর উপজেলার সিংনগর গ্রাম। পুলিশ সদস্যরা চুয়াডাঙ্গায় নতুন। তাই তারা ভালোভাবে গ্রাম চিনতে না পেরে আসামি ধরতে অন্যগ্রামে ঢুকে পড়েন। এছাড়া তাদের গায়ে পুলিশের পোশাক ছিল না। এতে পুলিশ বাহিনীর মর্যাদাহানি হয়েছে, এতে আমরা বিব্রত। এ কারণেই অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ