ঢাকা, রোববার 25 March 2018, ১১ চৈত্র ১৪২৪, ৬ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ক্ষমতার দাপটে চলছে দুর্নীতি

ক্ষমতার দাপট নিয়ে বেশকিছু প্রতিবেদন মুদ্রিত হয়েছে প্রথম আলো পত্রিকায়। অষ্টম প্রতিবেদনটির শিরোনাম ‘অসম্ভবকে সম্ভব করে তার সুপারিশ’। ২৪ মার্চ মুদ্রিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বাস্তবে যে শ্মশানের অস্তিত্ব নেই, সেই শ্মশানের সংস্কারে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে একজন সংসদ সদস্যের সুপারিশে। চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর সুপারিশে এমন কিছু সংগঠন সরকারি টাকা বরাদ্দ  পেয়েছে যেসব সংগঠনের নাম শুধু কাগজে আছে, বাস্তবে নেই। অবশ্য শুধু অস্তিত্বহীন সংগঠনের জন্যই তিনি সুপারিশ করেন না, বাস্তবে আছে এমন সংগঠনের জন্যও তিনি সুপারিশ করে থাকেন। তবে সমস্যা হলো, ওই সংগঠনের লোকেরা তা জানতে পারেন না। ফলে বরাদ্দ হওয়া টাকা সংগঠনগুলো পায় না। কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এবং গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ  (টেস্ট রিলিফ বা টিআর) প্রকল্পের আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাঁশখালীর ৩৬৫ প্রকল্পের জন্য সুপারিশ করেন উক্ত সংসদ সদস্য। এতে বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম আলো উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডের আটটি প্রকল্পের বিষয়ে অনুসন্ধান চালায়। এর মধ্যে ছয়টি প্রকল্পের জন্য জমা দেওয়া স্থাপনা বা সংগঠনের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য যে, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন। তবে তিনি আলোচনায় আসেন ২০১৬ সালে। ওই বছরের ২ জুন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্রহার করে খবরের শিরোনাম হন। আলোচ্য এমপির বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত বছরের নভেম্বরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিল বাঁশখালী আওয়ামী লীগের একটি অংশ। এতে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান এবং ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়। এই দুর্নীতির জন্য এমপি ও তার লোকজনদের দায়ী করেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আবদুল্লাহ কবির। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বাঁশখালী আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রথমে মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। পরে মনোনয়ন দেয়া হয় মোস্তাফিজুর রহমানকে।
বাঁশখালী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রোজিয়া সুলতানা বলেন, ‘বরাদ্দের খুব সামান্য অংশই বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে। অনেক প্রকল্পের অস্তিত্ব নেই। এই সত্য কথাগুলো আমাদের বলতে হবে।’ সত্য প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন, দুর্নীতির বিচার হওয়াও প্রয়োজন। কারণ দুর্নীতির মাত্রা যতটা বাড়বে, জনগণের বঞ্চনার মাত্রাও ততটা বাড়বে। আর জনপ্রতিনিধিরা দুর্নীতি করলে দুঃখের মাত্রাটা বেড়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ