ঢাকা, সোমবার 26 March 2018, ১২ চৈত্র ১৪২৪, ৭ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মিয়ানমার নেত্রী সু চি’র সমালোচনায় অস্কারজয়ী অভিনেত্রী ব্লানচেট

২৫ মার্চ, ভাইস নিউজ/মিয়ানমার নিউজ এজেন্সি/সিনহয়া : রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের ঘটনায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি’র নীরবতায় হতভম্ব হয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী কেট ব্লানচেট। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনের (ইউএনএইচসিআর) শুভেচ্ছাদূত হিসেবে অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী গত সপ্তাহে কয়েকজন বিতাড়িত রোহিঙ্গার সঙ্গে দেখা করেছেন। অস্ট্রেলিয়ান এই তারকা সতর্কতা জানিয়ে বলেন, সামনের বর্ষাকালে কয়েক লাখ শরণার্থী রোগ ও ক্ষুধার ঝুঁকিতে থাকবে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পালিয়ে আসা বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হলেও তা কার্যকরের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন। প্রত্যাবাসনকৃত রোহিঙ্গাদের জন্য অভ্যর্থনা কেন্দ্র ও ট্রানজিট ক্যাম্প স্থাপন করেছে মিয়ানমার। তবে এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসিত হয়নি। এর মধ্যেই নতুন করে মিয়ানমারে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার আলামত মিলছে। 

 রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কোনও কথা না বলায় ইউএনএইচসিআর’র শুভেচ্ছা দূত ব্লানচেট মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এটা বিস্ময়কর, যে ব্যক্তি ভঙ্গুর রাজনীতির জন্য লড়াই করতে পারে, যে কিনা মানবাধিকারের বিষয়টি সবার মধ্যে তুলে ধরেছে, সেই ব্যক্তির অধীনেই পরিষ্কার নিপীড়নের ঘটনায় তাকে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে না। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো বর্ষাকালের দুর্যোগের হাত থেকে শরণার্থীদের রক্ষায় তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেয়া। আর বিষয়টির রাজনৈতিক সমাধান সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আসিয়ান সম্মেলন উপলক্ষে এই মাসেই অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন অং সান সু চি। সেখানে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের সমালোচনার মুখে পড়েন। অস্বাভাবিক কড়া ভাষায় নাজিব রাজাক বলেন, রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমারের আচরণ তাদের চরমপন্থীদের মৌলবাদের দিকে ঝুঁকাতে পারে। কারণ ভবিষ্যতে তাদের কোনও আশা নেই। অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল বলেন, সিডনিতে দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়ার নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপের সময় সু চি রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলেছেন।

সু চি’র অস্ট্রেলিয়া সফরের আগেই অস্ট্রেলীয় আইনজীবী ও অ্যাকটিভিস্টদের একটি দল মেলবোর্নের আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলার উদ্যোগ নেন। সু চির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগের বর্ণনার বড় অংশই প্রস্তুত করেছেন ‘হিউম্যান রাইটস ফর অলের’ প্রধান পরিচালক অ্যালিসন ব্যাটিসন। মামলা দায়ের করার উদ্যোগ নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াতে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আগে থেকেই কাজ করা সিডনিভিত্তিক আইনজীবী ড্যানিয়েল টেইলর এ বিষয়ে কাজ করতে ব্যাটিসনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আর্জিতে কোনও রোহিঙ্গার নাম না থাকার প্রসঙ্গে ব্যাটিসন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভাইস নিউজকে বলেছেন, ‘অভিযোগনামায় কোনও রোহিঙ্গার নাম থাকলে পরবর্তীতে তাদের বা তাদের পরিবারের ওপর প্রতিশোধ নেয়া হতে পারে, এই ভয়ে রোহিঙ্গাদের কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি।’ ব্যাটিসন মনে করেন, সফল হলে এই মামলাটি অস্ট্রেলিয়া ও পুরো বিশ্বের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

মানবাধিকার ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান: মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৈরি করা একটি সমাধান প্রস্তাবের খসড়া প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। দেশটির দাবি, প্রস্তাবের কয়েকটি অনুচ্ছেদ অনধিকার প্রবেশমূলক এবং তা সরাসরি মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে। গতকাল রোববার (২৫ মার্চ) মিয়ানমার নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে চীনা বার্তা সংস্থা সিনহুয়া খবরটি জানিয়েছে।

মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে সম্প্রতি একটি সমাধান প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মিয়ানমার নিউজ এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে সিনহুয়া জানায়, শুক্রবার (২৩ মার্চ) জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি)-এর ৩৭-তম নিয়মিত অধিবেশনে এ সমাধান প্রস্তাব কার্যকরের ব্যাপারে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু প্রস্তাবটি কার্যকরে ব্যবস্থা গ্রহণের আগেই তা প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘে নিয়োজিত মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি উ থিন লিন একটি বিবৃতি দেন। তার দাবি, এ প্রস্তাবের কয়েকটি অনুচ্ছেদ সরাসরি মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে।

বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, মিয়ানমার রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে অনধিকারপ্রবেশের কোনও প্রচেষ্টা সরকার গ্রাহ্য করবে না। জাতীয় সমন্বয়সাধন, শান্তি প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও মানবাধিকার বিষযক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সহায়তা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি গঠনমূলক প্রক্রিয়া নিয়ে এগিয়ে আসে তবে মিয়ানমার তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত আছে বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

গত বছরের ডিসেম্বরেও মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি রাখাইন ইস্যুতে ইউএনএইচআরসি’র একটি সমাধান প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে রাখাইন রাজ্যের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় কাজ করার অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি। ওই প্রস্তাবটির খসড়া তৈরি করেছিল ওআইসি’র সদস্য দেশগুলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ