ঢাকা, সোমবার 26 March 2018, ১২ চৈত্র ১৪২৪, ৭ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্যবসায়ী নামধারী লুটেরাদের অনিয়মে ব্যাংকিং সেক্টর ধ্বংসের ধারপ্রান্তে

চট্টগ্রাম অফিস : কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রাম নগর ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানে নিয়োজিত এনজিওদের সুদের হার নির্ধারণ করে দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি। বিদেশ থেকে আমদানিকতৃ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য বিশেষ করে সয়াবিন, চাল, ডালসহ অনেক পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করেন ট্যারিফ কমিশন। একইভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে কমিটির মাধ্যমে অনেক পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে থাকলেও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদের হার নির্ধারণ করেন তারা নিজেরাই? যদিও ব্যাংকিং খাতে অরাজকতা সৃষ্টি ও লুটপাটের সুবিধা দেবার জন্য ইতিমধ্যেই ব্যাংকিং আইনের বেশ কিছু ধারা পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে বেশ কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোন কারণ ছাড়াই অনেকটা তরকারি, চাল-ডালের ব্যবসায়ীদের মতো সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন,হঠাৎ করে এভাবে সুদের হার বাড়িয়ে দেবার ফলে ক্ষুদ্র, মাঝারী ও প্রান্তিক গ্রাহকরা পড়েছেন বিপাকে। তাদের ব্যবসা বাণিজ্যের ও জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়বে যার সর্বশেষ দায়ভার গিয়ে পড়বে সাধারণ জনগণের উপর।
তাই চাল-ডাল, সবজির মতো ঠুনকো অজুহাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদের হার বাড়িয়ে নাগরিক জীবনে বিড়ম্বনা সৃষ্টির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ন  হওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির এধরনের আচরণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা- ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম নগর ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ। বিনা কারণে ও কোন প্রকার পূর্বানুমতি ছাড়াই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদের হার বাড়ানোর প্রতিবাদে এক বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবি জানান।
বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একশ্রেণীর পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তাদের যোগসাজসে গুটিকয়েক বড় ব্যবসায়ী নামধারী লুটেরাদের অনিয়ম, পুকুরচুরির কারণে দেশের ব্যাংকিং সেক্টর পুরোপুরি ধ্বংসের ধারপ্রান্তে। অনেক ব্যাংক দেউলিয়া প্রায়।
নেতৃবৃন্দ বলেন,ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি কিছু মুষ্ঠিমেয় অসাধুচক্রকে বিশাল আকারে ঋণ মঞ্জুরি, ঋন পুনঃতফসিলিকরণ এবং ঋণের সুদ মওকুফ করলেও ক্ষুদ গ্রাহকদের বেলায় তার উল্টো চিত্র। অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ গ্রাহকদের ঋণ পাওয়া খুবই কঠিন ও সুদের হারও অনেক বেশী। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বড় গ্রাহকের ঋণ মওকুফে বেশ আগ্রহী হলেও ক্ষুদ্র গ্রাহকের ঋণ মওকুপ বা তাদেরকে কোন প্রকার ছাড় দিতে নারাজ। ফলে প্রান্তিক উদ্যোক্তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋনের সুদ পরিশোধে প্রায় নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। আর গুটিকয়েক বড় গ্রাহক কোন প্রকার ডকুমেন্টস ও সিকিউরিটি ছাড়াই কোটি কোটি টাকার ঋন নিয়ে ব্যাংককে ফতুর করে দিচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার এ বিষয়ে কোন প্রকার প্রদক্ষেপ না নিয়ে ক্ষুদ্র গ্রাহকের ওপর খর্গ চালাতে মরিয়া। এটা খুবই অগণতান্ত্রিক ও ব্যাংকিং ক্ষেত্রে সুশাসনের পুরোপুরি পরিপন্থি। কারণ একটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিংহভাগ গ্রাহকই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক। কিন্তু যাবতীয় সুবিধাগুলো গুটিকয়েক বড় গ্রাহককে ঘিরে আর প্রান্তিক গ্রাহকগুলিকে যতো পারা যায় ততই শোষণ করা হয় এই নীতি অনুসরণ করে চলেছে। সে কারণে প্রান্তিক ও মাঝারি গ্রাহকরা ব্যাংকের সুদ বহন করতে না পেরে তাদের ব্যবসা বাণিজ্য গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাই দেশের অর্থনীতির প্রাণ। তাদের অবদানে বাংলাদেশ আজ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পরিগণিত হতে যাচ্ছে। আর এই সোনার কারিগরদের রক্ত চুষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কতিপয় মালিক ও কর্মকর্তারা টাকার পাহাড় গড়ছেন যা কোন ভাবেই কাম্য হতে পারে না।
 নেতৃবৃন্দ আরো ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীকে সুবিধা প্রদানের জন্য দেশের যাবতীয় নীতি তৈরি হয়। সে কারণে দেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বার্থ সব সময় উপেক্ষিত থাকে। ব্যাংকিং আইন পরিবর্তন তার একটি বড় নজির। আর বড় ঋণ খেলাপী ও ঋণগ্রহীতাদের সুবিধা দেবার জন্য যাবতীয় আয়োজন ব্যাংকগুলি করলেও ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গ্রাহকদের বেলায় সব নিয়মনীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। যা শুধুমাত্র দুঃখজনক নয়, সীমাহীন নৈরাজ্য ও লুটপাটের বহিঃপ্রকাশ। যার কারণে আজ ব্যাংকিং সেক্টরে সুশাসন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে।
 বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগর সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবদুল মান্নান, প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ