ঢাকা, সোমবার 26 March 2018, ১২ চৈত্র ১৪২৪, ৭ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শেখ হাসিনা হিটলারকেও ছাড়িয়ে গেছেন -ড. মোশাররফ

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা ফোরামের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘স্বৈরতন্ত্রের কবলে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফর হোসেন প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আপনাকে গণতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী বলতে হবে এমন কেউ ঠেকায় পরেনি। যে দেশে কথা বলার স্বাধীনতা থাকেনা, সমাবেশ করার স্বাধীনতা থাকেনা, যেখানে বিচার বিভাগ রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে যায়। সেই সরকার স্বৈরাচার নয় তো কি? শেখ হাসিনা হিটলারকেও ছাড়িয়ে গেছে।
গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে কনফারেন্স রুমে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত “স্বৈরাতন্ত্রের কবলে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লার সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন,বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া,এলডিপির যুগ্ম সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন সেলিম,বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য,মোশাররফ হোসেন, এডভোকেট নিপুল রায় প্রমুখ।
ড.মোশাররফ বলেন, যারা নির্বাচন ছাড়া সরকার গঠন করে তারা কি করে গণতান্ত্রিক সরকার হয়? তারাই তো স্বৈরাচার আমাদের দেশের মানুষই তো বলছে। জার্মান থেকে বলতে হবে কেন? বরং জার্মানিদের শেখ হাসিনার থেকে স্বৈরাতন্ত্র শিখার আছে।
 বেগম খালেদা জিয়ার কারাবরণ কি করে দীর্ঘ করা যায় তা নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে সরকার। ভোটের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে যার কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোটের ভয় জয় করতে চাচ্ছে সরকার।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কথা প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি এই নেতা বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব বেশি কথা বলেন আমি তার ব্যাপারে বেশি কথা বলবো না কারণ আছে। তারপরও বলতে চাই। আমি যখন মহসিন হলের সভাপতি ওবায়দুল কাদের তখন ফাস্টইয়ারের ছাত্র আমিই তাকে ছাত্ররাজনীতিতে এনেছি। আমি ওবায়দুল কাদেরকে বলবো আপনি আর বেশি কথা বলবেন না। বেশি কথা বলার ফল ভালো হয় না। বেশি কথার বলার কারণে ইতিমধ্যে আপনির আপনার দলের ভেতর ও বাহিরে সমালোচিত হয়েছেন।
আপনি বেশি কথা বলার ফল আওয়ামী লীগের মধ্যেই প্রতিক্রিয়া দেখেছেন। একবার বলেন, কাউয়া, হাইবিট, টাকা নিয়ে পালাতে পারবানা, ঘরে বসে আন্দোলন করেন, বিএনপির মরা গাঙ্গে জোয়ার আসবেনা, বেশি কথা বললে সত্য বেরিয়ে আসে আসবেই ওবায়দুল কাদের কথায় সত্য কথা গুলো বেরিয়ে এসেছে।
২০ দলীয় নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, শেখ মুজিব যদি তার সময়ে একদলীয় বাকশাল কায়েম না করতেন, তাহলে তার এমন জঘণ্য পরিণতি হতো না। শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মজিবের পরিণতি থেকে শিখতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের আসামে সফর প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, তিনি আসামের মূখ্যমন্ত্রীর জন্য দশমিনিট অপেক্ষা করেন, এসব দেখে বাংলাদেশের মানুষের লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে আসে। আসাম সফরে তাদের তাবেদারী চরিত্র ফুটে উঠেছে। আওয়ামী লীগ ও সরকার যেখানেই যাচ্ছে দেশকে ছোট করে আসছে এবং তারাও অপমান হয়ে আসে আজকে কোথাও ঠাই পাচ্ছেনা।
বিএনপিকে সর্তক থাকতে হবে যেন কোন রকমের ষড়যন্ত্রে পা দেয়া চলবে না। বহু ষড়যন্ত্র হবে বিএনপিকে ঘিরে সেটা বিএনপি নেতাদের বুঝতে হবে এমন কিছু করা যাবেনা যে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভুল মেসেজ ছড়ায়।
আজ বিএনপির চেয়ারপারসন কারাগারে ২০দলীয় জোটে পৌনের দলেরই কোন খবর নাই, ২০দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তির আন্দোলনে তাদের দেখা যায় না। আজকে বিএনপিকে বুঝতে হবে। কারো দিকে চেয়ে থাকা ঠিক হবে না। বিএনপির করণীয় নিজেদেরই ঠিক করতে হবে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপিকেই আন্দোললন করতে হবে জোটের দিকে চেয়ে থাকলে হবেনা।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে বৃহত্তর নোয়াখালী কুলাঙ্গার সন্তান দাবি করে আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, তিনি বড় বড় কথা বলছেন, বিএনপি ও জিয়া পরিবারকে নিয়ে ধারাবাহিক মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। অথচ তার দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করছেন না। একশত টাকা খরচের জায়গায় একলক্ষ টাকা খরচ দেখিয়ে চরম লুটপাট করেছে। তার মুখে বিএনপি ও জিয়া পরিবারের সমালোচনা মানায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ