ঢাকা, সোমবার 26 March 2018, ১২ চৈত্র ১৪২৪, ৭ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শ্রমিক সমাজকে অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। দেশের শ্রমিক সমাজও মহান মুক্তিসংগ্রামে অসামান্য অবদান রেখেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় পাঁচ দশক অতিক্রান্ত হওয়ার পরও শ্রমিক সমাজ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই অধিকার আদায়ে শ্রমিকদেরকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি অর্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শ্রমিক সমাজকে অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
গতকাল রোববার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপস্থিত ছিলেন মহানগরী সেক্রেটারি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি এইচ এম আতিকুর রহমান, শ্রমিক নেতা আব্দুল্লাহ বাসির, মাওলানা আব্দুল হাই, আবু হানিফ ও মো. নাঈম প্রমুখ।
লস্কর তসলিম বলেন, ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকারণে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব শহীদ সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর বাংলার স্বাধীনতা অস্তমিত হয়। মীর জাফর ও জগৎ শ্রেষ্ঠ গংদের সহায়তায় ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে। ফলশ্রুতিতে আমাদের প্রায় দু’শ বছর ইংরেজদের গোলামী করতে হয়েছে। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর ১৯৪৭ সালে আমারা স্বাধীনতা অর্জন করি। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তখন আমরা স্বাধীনতা লাভ করিনি। মূলত আমাদের প্রভূ পরিবর্তন হয়েছিল মাত্র। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী আমাদের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। তাই অতি অল্প সময়ের মধ্যে আমাদেরকে একটি মরণপণ মুক্তিসংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হয়েছে। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধের পর আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি। কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর উপর্যুপরি ব্যর্থতার কারণেই আমাদের বিজয় এখনও অর্থবহ হয়ে ওঠেনি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার প্রায় ৫ দশক অতিক্রান্ত হলেও শ্রমিকরা আজও অবহেলিত। তাই অধিকার আদায়ে শ্রমিকদেরকে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। কারণ, অনৈক্য মানুষকে ধ্বংসের পথে ধাবিত করে। মালিক পক্ষের সাথে শ্রমিকদের বিবাদে জড়ানোও মোটেই কাঙ্খিত নয়। যা মালিক ও শ্রমিক কোন পক্ষের জন্যই কল্যাণকর নয়। বরং যেকোন সমস্যা উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই কল্যাণকর। মূলত রাসূল (সা.) অনুসৃত শ্রমনীতির অনুস্থিতিই মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষের অন্যতম কারণ। তাই এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। তিনি ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠায় শ্রমিকদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ