ঢাকা, সোমবার 26 March 2018, ১২ চৈত্র ১৪২৪, ৭ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পটভূমি

আবুল আসাদ : গোটা বাংলাদেশ জুড়ে চলছে যখন অসহযোগ, গোটা বাংলাদেশের প্রশাসন যখন আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের হাতের মুঠোয়, বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বাধীনতার সোনালী স্বপ্নে বিভোর, তখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া। ১৫ মার্চ ঢাকা এলেন। ১৬ মার্চ বেলা ১১টায় প্রেসিডেন্ট ভবনে মুজিব-ইয়াহিয়ার মধ্যে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠক চললো আড়াই ঘণ্টা। মুজিব প্রেসিডেন্ট ভবনে প্রবেশ করেন বেলা ১১টায়, বেরিয়ে এলেন দেড়টায়। দেশী-বিদেশী সাংবাদিকরা তীর্থের কাকের মতো দাঁড়িয়েছিল প্রেসিডেন্ট ভবনের গেটে। শেখ মুজিবের গাড়ি গেটে আসতেই সাংবাদিকরা তার গাড়ি ঘিরে ধরলেন। মুজিব বেরিয়ে এলেন গাড়ি থেকে স্মিত হাস্যে। প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনা সম্পর্কে একজন সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, দেশের রাজনৈতিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রেসিডেন্টের সাথে তার আলোচনা হয়েছে। আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। মেহেরবানী করে এর বেশি কিছু জিজ্ঞেস করবেন না। এটা দুএক মিনিটের ব্যাপার নয়। এজন্য পর্যাপ্ত আলোচনার প্রয়োজন আছে।
প্রথমদিনের আড়াই ঘণ্টার এ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ও শেখ মুজিবের মধ্যে কোনো সহকারী ছাড়াই একান্তে অনুষ্ঠিত হয়। সম্ভবত আলোচনার সুপরিবেশ সৃষ্টির জন্যে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে আনা হয়। এছাড়া সামরিক বাহিনী তলব সম্পর্কে তদন্তের জন্যে যে শর্ত আরোপ করা হয় শেখ মুজিবের পক্ষ থেকে, তাও পূরণের জন্য ১৭ মার্চ ঢাকার সামরিক আইন প্রশাসক একটি তদন্ত কমিটি নিয়োগের কথা ঘোষণা করেন। আর ১৭ মার্চ বিবিসি তার এক সংবাদ বুলেটিনে প্রচার করলো, ক্ষমতা হস্তান্তরের শাসনতান্ত্রিক ও আইনগত দিক সম্পর্কে পরামর্শ দেবার জন্য বিচারপতি কর্নেলিয়াস ঢাকা এসেছেন। এ দিনই সকালে মাওলানা ভাসানী চট্টগ্রামে বললেন, ‘শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। এ ধরনের ঘোষণা সম্পর্কে জনগণের মধ্যে কোনোরূপ মতানৈক্য থাকতে পারে না। ... ... প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া এবং শেখ মুজিবের মধ্যে আপোসের কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না। ১৭ মার্চ বেলা ১০টা ৫ মিনিট পর্যন্ত ইয়াহিয়া শেখ মুজিব দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ দিনও বৈঠক উভয়ের মধ্যে একাই অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে শেখ মুজিব অপেক্ষমান সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং আমাদের মধ্যে আরো আলোচনা হতে পারে। তবে সময় নির্ধারিত হয়নি। আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে দেশী-বিদেশী সাংবাদিক অনেক প্রশ্ন করেন। উত্তরে শেখ মুজিব বিমর্ষ চিত্তে বলেন, আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে, আমার কিছু বলার নেই। পরে বাড়িতে পৌঁছে সাংবাদিকদের তিনি ঘরোয়াভাবে সাক্ষাতদান করেন। সেখানে আলোচনা ভেঙে গেছে কি না এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।‘৬ ১৬ মার্চ বিকেলে শেখ মুজিব তার বাসভবনের সামনে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণ সত্য ও ইনসাফের জন্যে সংগ্রাম করছে এবং তাদের দাবির প্রশ্নে কোনো আপোস হতে পারে না।৭
এ দাবির জনপ্রিয়তা পশ্চিম পাকিস্তানেও বাড়ছিলো। পশ্চিম পাকিস্তানের বেশকিছু সংস্থা-সংগঠন কর্তৃক শেখ মুজিবের ৪ দফা শর্তের প্রতি সমর্থনদানের কথা সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। ওয়ালী খান এদিন প্রেসিডেন্টের সাথে ৭৫ মিনিট ধরে আলোচনা করেন। ১৭ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের একজন রাজনীতির পূর্ব পাক জামায়াতে ইসলামীর প্রধান অধ্যাপক গোলাম আযম এক বিবৃতিতে বললেন, আমি পরিস্থিতি অনুধাবন করা এবং যে দলের প্রতি জনগণ পূর্ণ আস্থা স্থাপন করেছে, সে দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কাজ সমাপ্ত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। কোনো শাসনতান্ত্রিক সমস্যাই ক্ষমতা হস্তান্তরকে বিলম্বিত করতে পারবে না। জনগণের সরকারের চেয়ে কেউই জাতির উত্তম সেবা করতে পারে না। জনাব ভুট্টোর অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রয়াসের প্রতি প্রেসিডেন্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।৮ ১৮ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ও শেখ মুজিবের মধ্যে কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। এদিন শেখ মুজিবের একটি বিবৃতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। তিনি ঐ বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী তলব করা সংক্রান্ত বিষয় তদন্তের জন্য সামরিক সরকার কর্তৃক গঠিত কমিশন প্রত্যাখ্যান করে এ কমিশনকে কোনোপ্রকার সহযোগিতা না করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বিবৃতিতে বললেন, তথাকথিত কমিশন নিয়োগের যে ঘোষণা করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের তরফ থেকে উত্থাপিত দাবিকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হয়নি। সামরিক আইন আদেশের মাধ্যমে এর গঠন এবং সামরিক শাসন কর্তৃপক্ষের কাছে এর রিপোর্ট পেশের বিধানও অত্যন্ত আপত্তিকর। তাছাড়া কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়াবলীতেও সর্বাপেক্ষা মৌলিক প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এই সাথে শেখ মুজিব কি পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী কর্তৃক গুলী বর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল তা সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট করার জন্যে খন্দকার মুশতাক আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং মি. আবিদুর রেজা খানকে চট্টগ্রামে পাঠালেন।
১৮ মার্চ করাচীতে মি. ভুট্টো উচ্চপর্যায়ের দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার পর সাংবাদিকদের জানালেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া শাসনতান্ত্রিক বিষয়ে আলোচনার জন্যে ঢাকা সফরের যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা তিনি রক্ষা করতে পারছেন না। ... ... তিনি কতিপয় বিষয়ের ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। কিন্তু এ পর্যন্ত ঢাকা থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় আগামীকাল তিনি যদি ঢাকা যান, তবে তাতে কোনো লাভ হবে বলে তিনি মনে করেন না।
১৮ মার্চ সকাল দশটায় ইয়াহিয়া ও শেখ মুজিবের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকটি প্রেসিডেন্ট ভবনে রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। দেড় ঘণ্টা স্থায়ী বৈঠকে ইয়াহিয়া ও শেখ মুজিবের সাথে এদিনও কোনো সহকারী ছিলো না। আলোচনার পর বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনাকালে শেখ মুজিব বলেন, প্রেসিডেন্টের সাথে তিনি রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তাদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আলোচনার সাফল্য সম্পর্কে একজন বিদেশী সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, এটা খুব সাধারণ ব্যাপার নয়, এর জন্যে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন। প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনায় কোনো লিখিত দলিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে আলোচনার পর ফর্মুলা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এবং তারা কিভাবে অগ্রসর হবেন তাও ঠিক করা হবে। এ বৈঠকে দলীয উচ্চপর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে জনাব সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জনাব তাজউদ্দীন আহমদ, খন্দকার মুশতাক আহমদ, জনাব মনসুর আলী এবং ড. কামাল হোসেন শেখ সাহেবের সাথে থাকবেন বলে তিনি জানান। ইতোমধ্যে ঊনিশে মার্চ সন্ধ্যাতেই শেখ মুজিবের তিনজন উপদেষ্টার সাথে প্রেসিডেন্ট ভবনে ইয়াহিয়ার তিনজন উপদেষ্টার দু’ঘণ্টাব্যাপী এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে শেখ সাহেবের পক্ষে ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জনাব তাজউদ্দীন আহমদ এবং ড. কামাল হোসেন, আর প্রেসিডেন্টের পক্ষে ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী এআর কর্নেলিয়াস, প্রেসিডেন্টের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার জেনারেল পীরজাদা এবং সামরিক বাহিনীর জজ এডভোকেট জেনারেল কর্নেল হাসান।১৩
এদিন সন্ধ্যায় ভয়েস অব আমেরিকা তার সংবাদ ভাষ্যে জানালো, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ও শেখ মুজিবের মধ্যে আলোচনা চলছে। ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসার আগেই অন্তর্ববর্তীকালীন সরকার গঠনের সম্ভাবনা সম্পর্কে উভয়ে আলোচনা করেছেন। সাংবাদিকদের সাথে আলোচনাকালে ঊনিশে মার্চ শেখ সাহেব আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন। তিনি জানালেন, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে যে কোনো রাজনৈতিক নেতা তার সাথে আলাপ করতে এলে তিনি তাদের সব সময় স্বাগত জানাবেন। ... ... আমি আমার দরজা কখনো বন্ধ করিনি, আমার ঘরে দরজা সদা উন্মুক্ত। শেখ মুজিবুর রহমান মি. ভুট্টোর দিকে ইঙ্গিত করেই একথা বলেছেন যাতে মি. ভুট্টো ঢাকা আসতে রাজি হন।
২০ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ও শেখ মুজিবের মধ্যে প্রথমবারের মতো তাদের উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। এদিন বৈঠক ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের মতো চলে। মুজিবের সাথে তার উপদেষ্টাদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জনাব তাজউদ্দীন আহমদ, খন্দকার মুশতাক আহমদ, জনাব মনসুর আলী, জনাব এএইচএম কামরুজ্জামান ও ড. কামাল হোসেন। আর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সাথে ছিলেন বিচারপতি এআর কর্নেলিয়াস, লে. জেনারেল পীরজাদা এবং জজ এ্যাটর্নি জেনারেল কর্নেল হাসান। আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে বাসায় ফিরে শেখ মুজিব সাংবাদিকদের বলেন, আরোচনার কিছু অগ্রগতি হয়েছে। রাজনৈতিক সংকট সমাধানের পথে তারা এগুচ্ছেন। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন নেতাদের সাথে পৃথকভাবে আলাপ-আলোচনা করবেন। প্রয়োজনবোধে আমরাও যৌথভাবে পশ্চিম পাকিস্তানী নেতাদের সাথে আলোচনা করতে পারি।১৬
এদিন বিবিসির সংবাদ ভাষ্যে মন্তব্য করা হলো, পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক সংকট দূরীভূত হচ্ছে।১৭ সাংবাদিকদের কাছে শেখ মুজিব এদিন জানালেন, তাঁর উপদেষ্টারা প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাদের সাথে পুনরায় পরিস্থিতি ও সমস্যাবলী সম্পর্কে আলোচনা করবেন। উপদেষ্টা পর্যায়ে পরবর্তী বৈঠক কখন অনুষ্ঠিত হবে এ প্রশ্নের জবাবে তাজউদ্দনি বললেন যে, তারা কয়েকটি খুঁটিনাটি বিষয় জানার অপেক্ষায় রয়েছেন।১৮
২০ মার্চ করাচিতে তাড়াহুড়া করে আহূত সাংবাদিক সম্মেলনে মিঃ ভুট্টো বললেন, ‘গতকাল গভীর রাতে অবিলম্বে ঢাকা যাওয়ার জন্যে তিনি প্রেসিডেন্টের নিকট থেকে অপর একটি আমন্ত্রণ পেয়েছেন এবং এ আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল ঢাকা রওয়ানা হবার মনস্থ করেছেন।’
এদিন পাকিস্তান রেডিও’র খবরে বলা হয়, জনাব ভুট্টো ২০ সদস্যের একটি উপদেষ্টা দল নিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন। শেখ মুজিবুর রহমান এদিন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিকর উত্তেজনা সৃষ্টির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এবং সুশৃ´খল ও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবার জন্যে জনগণের প্রতি আহ্বান জানালেন।১৯
মিঃ ভুট্টো ২১ মার্চ বিকেলে ঢাকা এলেন। ঢাকা আসার পরপরই তিনি প্রেসিডেন্ট ভবনে প্রেসিডেন্টের সাথে এক আলোচনায় মিলিত হলেন। দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে কি আলোচনা হয়েছে সংবাদপত্রে তার কিছুই প্রকাশিত হয়নি। সাংবাদিকরা ভুট্টোর সাক্ষাত পায়নি। এ তারিখে প্রেসিডেন্ট ইয়অহিয়ার সাথে শেখ মুজিবেরও একটা অনির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠক ৭০ মিনিট চলে। এ বৈঠকের বিবরণও ঠিক আগের মতোই কিছুই জানা গেলো না। তবে শেখ মুজিব সাংবাদিকদের জানালেন, ‘আজকের বৈঠক আশ্চর্যজনক বা আকস্মিক এমন কিছুই নয়। প্রেসিডেন্ট ও আমি যতক্ষণ এখানে আছি, ততক্ষণ প্রয়োজনের স্বার্থে যে কোনো সময় যে কোনো সময় যে কোনো ব্যাখ্যার প্রশ্নে আমরা আলোচনায় মিলিত হতে পারি।’ উভয়ের মধ্যে আলোচনাকৃত ব্যাখ্যাসমূহের বিস্তারিত বিবরণ জানতে চাওয়া হলে শেখ মুজিব নীরব থাকেন। পরে বললেন, ইতিপূর্বের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কতিপয় প্রশ্নের ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আমরা নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি।২০ এদিন দৈনিক আজাদ তার এক রাজনৈতিক রিপোর্টে লিখলো, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের চারদফা শর্তের ব্যাপারে একটা গ্রহণযোগ্য ফর্মুলা প্রণয়নের পরই মুজিব-ইয়াহিয়া আলোচনা একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে পারে এবং এ ফর্মুলা প্রণয়নের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এখন ‘পাঞ্জাব প্রেসার গ্রুপ’-এর উপর নির্ভরশীল বলিয়যা ওয়াকিফহাল মহল সুত্রে আভাস পাওয়া গিয়াছে। ... ... ... বঙ্গবন্ধুর প্রথম শর্ত অর্থাৎ সামরিক শাসন প্রত্যাহারের প্রশ্নে একটি মহল যে বিরূপ চাপ অব্যাহত রাখিয়াছে, তাহাতে কার্যত মুজিব-ইয়াহিয়া আলোচনায় জটিলতা সৃষ্টি হইয়াছে।২১
২২ মার্চ বেলা ১১টার দিকে প্রেসিডেন্ট ভবনে মুজিব, ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠক চলাকালেই প্রেসিডেন্টের জনসংযোগ অফিসার বাইরে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের এসে জানালেন, ‘প্রেসিডেন্ট ২৫ মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্যে স্থগিত ঘোষণা করেছেন। দেশের উভয় অংশের নেতাদের সাথে পরামর্শ করে এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে সমঝোতার ক্ষেত্র সম্পসারণের সুবিধার জন্য প্রেসিডেন্ট জাতীয় পরিষদের বৈঠক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’২২
বৈঠক ৭৫ মিনিট পর্যন্ত চলে। বৈঠক শেষে বাসভবনে ফিরে শেখ মুজিব সাংবাদিকদের জানালেন, এর আগে প্রেসিডেন্টের সাথে তিনি যেসব আলোচনা করেছেন, তা প্রেসিডেন্ট জনাব ভুট্টোকে অবহিত করেছেন।
আলোচনা সম্পর্কে কিছু বলতে শেখ মুজিব অস্বীকার করেন। আলোচনায় অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি জানালেন, ‘যদি কোনো অগ্রগতি না হতো, তাহলে আমি কেন আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি?’ ২৫ মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করা সম্পর্কে শেখ সাহেবের প্রতিক্রিয়া একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘একথা আমাদের জানা আছে যে, আমি বলছিলাম আমাদের দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অধিবেশনে যোগদান করবো না।
... ... আমাদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতেই অধিবেশন স্থগিত করা হয়েছে। শেখ মুজিব সাংবাদিকদের জানালেন, তিনি পুনরায় আজ (২৩ মার্চ) প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করবেন এবং তাদের উভয়পক্ষের উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে।২৩ ২২ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে পিপলস পার্টির প্রধান মিঃ জুলফিকার আলী ভুট্টো বললেন, ‘দেশের বর্তমান দুর্ভাগ্যজনক রাজনৈতিক সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এবং শেখ মুজিবুর রহমান ব্যাপক সমঝোতা এবং মতৈক্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন। সমঝোতার শতৃগুলো তার দল পরীক্ষা করে দেখছে। ... ... ব্যাপক সমঝোতা এবং সমঝোতার বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট তাকে ইতিপূর্বে অবহিত করেন।২৪
কিন্তু সমঝোতার বিষয়, শর্তাবলী, প্রকৃতি ইত্যাদি কোনো বিষয়েই কোনো পক্ষ থেকে কিছু জানা যাচ্ছিল না। সরকার তার মুখ একেবারেই বন্ধ রেখেছিলেন, আর শেখ মুজিবও কিছু বলতে রাজি হচ্ছিলেন না।
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত তাঁর বাণীতে বললেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যাতে একটি সহজ ও কার্যকরী ব্যবস্থার মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অঞ্চলের উপযোগী সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে নির্বিঘেœ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে পারেন সে জন্য বর্তমানে সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে। ... ... দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট অবশ্যই দূর হয়ে যাবে।২৬
তেইশে মার্চ ছিল পাকিস্তান দিবস। এদিন সরকারি ও বেসরকারী ভবনগুলোতে পাকিস্তানের পতাকা উড়ার কথা, নানা অনুষ্ঠান হবার কথা। কিন্তু তার কিছুই হয়নি। একমাত্র সামরিক সদর দফতর ও প্রেসিডেন্ট ভবন ছাড়া আর কোথাও পাকিস্তানের পতাকা উড়েনি। তার বদলে উঠেছে নতুন পতাকা-বাংলাদেশের পতাকা। ইংরেজী দৈনিক ‘দি পিপল’ লিখলো, A new flag is born today- a flag with a golden map of Bangladesh implanted on a red circle placed in the middle of deep green rectangle base. This is the flag for Independent Bangladesh.–২৭ এ পতাকা ‘স্বাধীন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদ’ সরবরাহ করে এবং ২৩ মার্চ তা দেশব্যাপী উত্তোলনের জন্য তারা আহ্বান জানায়।২৮ শেখ মুজিবের ভবন শীর্ষেও সেদিন কালো পতাকার সাথে উড়ছিলো বাংলাদেশের পতাকা। ভোরে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় শ্রমিক পরিষদের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে (ছাত্রদের দ্বারা) শেখ মুজিবের বাসভবনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হলো। পতাকা উত্তোলনের সময় গাওয়া হলো, ‘জয় বাংলা জয় বাংলা মাতৃভূমি বাংলার জয়।’ সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ঐ পতাকা নামায়।২৯ তেইশ তারিখে সকাল থেকেই শেখ সাহেবের বাড়ির সামনে আসতে লাগলো শত শত মিছিল। তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্যেই শেখ মুজিব সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেন। সকালে তিনি বাড়ির সামনে জয় বাংলা বাহিনীর অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দেন। বিকেলে আওয়ামী লীগ মহিলা শাখার এক জঙ্গি মিছিল কুচকাওয়াজ করে তার বাসভবনে এলে তিনি তাদের উদ্দেশ্যেও কথা বলেন। শেখ মুজিব তার এ দিনের বক্তৃতাসমূহে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার কথা পুনরায় ঘোষণা করলেন। তিনি বললেন, আমরা শান্তিপূর্ণ শৃ´খলার সাথে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। কিন্তু তা মানে এই নয় যে, নীতির প্রশ্নে আপোস হবে এবং দাবিকে দাবিয়ে রাখতে চাইলে আমরা চুপ করে থাকবো।৩০ উল্লেখ্য, ২৩ মার্চকে শেখ মুজিবুর রহমান ‘লাহোর প্রস্তাব দিবস’ আর স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ একে ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে ছাত্র-শ্রমিক সভা অনুষ্ঠিত হলো। সভায় ছাত্র-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ‘স্বাধীনতা’ রক্ষার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি নেয়ার জন্যে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। সভায় গৃহীত অন্য এক প্রস্তাবে সকল পশ্চিম পাকিস্তানী পণ্য বর্জনের আহ্বান জানানো হলো এবং এ জন্যে ‘২৪ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানী পণ্য বর্জন সপ্তাহ পালনের আহ্বান জানানো হয়। আরেকটি প্রস্তাবে আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, ভারত, সিংহল, বার্মা, ইরান প্রভৃতি দেশের প্রতি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিকট কোনো প্রকার অস্ত্র সাহায্য, বিক্রয় অথবা সেনাবাহিনীর জন্যে স্থলপথ, জলপথ ও আকাশ পথ ব্যবহারের অনুমতি না দেয়ার জন্যে আবেদন জানানো হলো।৩১
এদিন শেখ মুজিবের সাথে জেনারেল ইয়াহিয়ার কোনো বৈঠক হলো না, তাদের উপদেষ্টাদের মধ্যেও নয়। তবে এদিন মি. ভুট্টোর সাথে প্রেসিডেন্টের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার জে. পীরজাদার একটি বৈঠক প্রেসিডেন্ট ভবনে ৭৫ মিনিটব্যাপী চলে। বৈঠক থেকে ফেরার পর মি. ভুট্টো সাংবাদিকদের বললেন, প্রেসিডেন্টের সাথে সেদিন তার বৈঠকের কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি আরো জানালেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের ফর্মুলা সম্পর্কে তার দলীয় নেতাদের সাথে আলোচনায় তিনি সারাদিন কাটিয়েছেন। গত সোমবার সারারাতও এ ফর্মুলা নিয়েই আলোচনা করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে ভুট্টো জানালেন, যতদিন ঢাকায় তার থাকা প্রয়োজন, ততদিন তিনি থাকবেন।৩২ ভুট্টোর পিপলস পার্টি ছাড়া পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য দলের নেতারা এদিন শেখ মুজিব এবং প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সংকট নিরসনে তাদের ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেন। উল্লেখ্য, পশ্চিম পাকিস্তানের এসব নেতা আগেই শেখ মুজিবের চার দফার দাবির প্রতি সমর্থন দান করেন। ২৪ মার্চ তারিখেও শেখ মুজিব ও ইয়াহিয়ার মধ্যে কোনো বৈঠক হবার খবর সংবাদপত্র এলো না। তবে তাদের উপদেষ্টাদের মধ্যে বৈঠক হয়। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও শেখ মুজিবুর রহমান যেসব বিষয়ে নীতিগতভাবে মতৈক্যে পে্যঁছেছেন, সে সম্পর্কেই আওয়ামী লীগের তিনজন নেতা এদিন প্রেসিডেন্ট ভবনে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাদের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন। আওয়ামী লীগের সে তিনজন নেতা ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জনাব তাজউদ্দীন আহমদ এবং ড. কামাল হোসেন। বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে তাজউদ্দীন সাংবাদিকদের জানালেন, উপরোক্ত বৈঠকে তারা তাদের সকল মতামত ব্যক্ত করেছেন। সে জন্যে তাদের দিক থেকে আর কোনো বৈঠকের প্রয়োজন নেই। তিনি বললেন, তারা আওয়ামী লীগৈর বক্তব্য ও ‘সম্পূর্ণ পরিকল্পনা’র ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। জনাব তাজউদ্দীন সাংবাদিকদের কাছে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে আরো বললেন, সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে আর কালবিলম্ব করলে আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে।৩৪ এ দিন ২৪ মার্চ শেখ মুজিবের বাসভবনে পুরুষ-মহিলা-শিশুদের কমপক্ষে ৪০টির মতো মিছিল আসে। বাসভবনের সামনে এক সমাবেশে শেখ মুজিব বললেন, ‘আমাদের দাবি ন্যায়সঙ্গত এবং স্পষ্ট এবং সেগুলো গ্রহণ করতে হবেই। জনগণ জেগে উঠেছে এবং তারা ঐক্যবদ্ধ। পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাদের দাবি দাবিয়ে রাখতে পারবে না।...... আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই, কিন্তু কেউ যদি তা না চায়, তাহলে তুমি আমাদের দমিয়ে দিতে পারবে না। আমি আশা করি, কেউ সে চেষ্টা করবেন না। লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে-বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।৩৫
পিপিআই-এর ২৪ মার্চের এক খবরে জানা গেল, ২৫ তারিখে মি. ভুট্টোর উপদেষ্টারা প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাদের সাথে বসছেন। মি. ভুট্টোও তার হোটেলে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেছিলেন। কিন্তু বৈঠক হয়েছিল কি না সে খবর আর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি। তবে মি. তাজউদ্দীনসহ আওয়ামী লীগের তিনজন নেতা ২৪ তারিখে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাদের সাথে বসার পর আর কোনো বৈঠক তাদের মধ্যে হয়নি। শেখ মুজিব ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া যে ফর্মুলার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন, তার সাথে মি. ভুট্টোকে একমত করানোই ছিল এ পর্যায়ের আলোচনার মুখ্য বিষয়। সম্ভবত এ কারণেই মি. তাজউদ্দীন ২৪ তারিখে তাদের আর বৈঠকে বসার প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করেছিলেন। বুঝা যায়, শেখ মুজিব ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া যে ফর্মুলার ব্যাপারে একমত হয়েছলেন, তা মি. ভুট্টোকে অবহিত করা এবং সম্মতি নেয়ার জন্য তাকে ঢাকায় ডেকে আনা হয় এবং মি. ভুট্টো ঢাকা এসে এ বিষয় নিয়েই তার পার্টি এবং প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠক করেছেন। কিন্তু সমঝোতার বিষয়টা কি ছিল, ত্রিপক্ষীয় এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফল কি দাঁড়াল, তার কিছুই সংবাদপত্র এবং জাতি কেউই জানতে পারল না। পঁচিশে মার্চের কালরাতের আগে শেখ মুজিবের আর মাত্র দুটো বিবৃতির সন্ধান এ সময় আমরা পাই। একটি ছিল পাট ব্যবসা শুরু করা এবং আমদানি-রফতানি সম্পর্কিত তার নির্দেশ, অপরটি সৈয়দপুর, রংপুর ও জয়দেবপুরে জনতার ওপর সেনাবাহিনীর নির্বিচার গুলী বর্ষণের প্রতিবাদে ২৭ মার্চ গোটা দেশব্যাপী হরতাল আহ্বানের ঘোষণা সংক্রান্ত। ৩৮
প্রেসিডেন্ট একটা বদ্ধমূল ধারণা নিয়েই পূর্ব পাকিস্তানে পা দিয়েছিলেন। শেখ মুজিব দাবি আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন, একথা সত্য। কিন্তু জাতীয় পরিষদকে দুই কমিটিতে ভাগ করা এবং প্রদেশগুলোর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের যে ব্লু প্রিন্ট তার দায় মুজিবের উপর বর্তায় না। এ দু’টি বিষয়ই এসেছে প্রাথমিকভাবে ভূট্টোর কাছ থেকে। আলোচনার শেষ পর্যায়ে মুজিব পাকিস্তানের নাম ‘কনফেডারেশন অব পাকিস্তান’ রাখার প্রস্তাব করেছিলেন। মুজিব এটা করেছিলেন অবস্থার চাপে যার ইংগিত ড. কামাল হোসেনের লেখায় পাওয়া যায়। কিন্তু মুজিবের এ প্রস্তাবটাও কোনো ফাইনাল ব্যাপার ছিলো না। আওয়ামী লীগ পরিষ্কারই বলেছিলো যে, বিষয়টা ইয়াহিয়া-মুজিবের শীর্ষ বৈঠকের জন্যে রেখে দেয়া যেতে পারে। এ প্রস্তাবের পর একে ‘non negotiable’ বলা যেতে পারে না। তাজউদ্দীনের যে উক্তিকে আলোচনা ক্লোজ করার দলিল হিসেবে উপস্থিত করা হচ্ছে, তা হাস্যকর বৈ কিছু নয়। যে বৈঠকে তাজউদ্দীন ঐ কথা বলেছিলেন, সেই বৈঠকে আওয়ামী লীগের তৈরি খসড়া ঘোষণা চূড়ান্ত করার জন্যে ড. কামাল হোসেন ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার পক্ষে এমএম আহমদের বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। তাছাড়া মুজিব ও ইয়াহিয়ার শীর্ষ বৈঠকের কর্মসূচিতো ছিলোই। সুতরাং আওয়ামী লীগ আলোচনার দরজা বন্ধ করে দিয়ে সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো। এর কারণ কি ছিলো? কারণ এই ছিলো যে, প্রেসিডেন্ট একটা সিদ্ধান্ত নিয়েই পূর্ব পাকিস্তানে এসেছিলেন। তিনি মুজিবকে বাজিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন, পরখ করতে চেয়েছিলেন। ইয়াহিয়া ক্যান্টনমেন্টে সেনা অফিসারদের ব্রিফিং বৈঠকে যে কথা বলেছিলেন তা একথাই প্রমাণ করে। মনে হয় তিনি কিছুটা নমনীয় ও সমঝোতামূলক মনোভাব গ্রহণ করে মুজিবকে সামনে বাড়ার সুযোগ দিয়েছিলেন, কতদূর মুজিব যেতে পারে তা দেখতে চেয়েছিলেন। শেষটা দেখার পর আলোচনা বিনা নোটিশে বন্ধ করে দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে ইয়াহিয়ার যে দর্শন ছিলো তাহলো ভুট্টোকে খুশি করা। ২৫ মার্চের রাতের অন্ধকার নেমে আসার মতো সেদিন যখন সামরিক সরকারের সামরিক অভিযান আসন্ন হয়ে উঠেছিলো, তখন প্রতিবাদী জনগণ ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় গাছের গুঁড়ি, ভাঙা গাড়ি, ইত্যাদি দিয়ে ব্যারিকেড রচনা করেছিলো। ফার্মগেট এলাকার এ ধরনের একটা চিত্র পাওয়া গেছে : রাইফেলের গুলীর কিছু শব্দ ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের সাথে মিশে একাকার হয়ে গেলো। একটু পরেই স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের বিস্ফোরণ বাতাসে তীক্ষ্ম শব্দ তুললো। গগণবিদারী স্লোগান ও গুলীর শব্দের সাথে হালকা মেশিনগানের হালকা কিচির-মিচির আওয়াজ বাতাসে ভেসে আসতে থাকলো। পনের মিনিট পর গোলমালের শব্দ কমে এলো এবং স্লোগান ক্ষীণতর হতে হতে এক সময় থেমে গেলো। স্পষ্টতই অস্ত্র বিজয়ী হলো।৪৪ এ ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল সেদিন ঢাকার সবখানে।
শেখ মুজিবের একজন প্রধান উপদেষ্টা, পরবর্তীকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন ২৫ মার্চ রাত সাড়ে দশটায় শেখ মুজিবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় আসেন। সাড়ে দশটা পর্যন্ত শেখ মুজিবের বাসায় বসে বসে তিনি জেনারেল পীরজাদায় কাছ থেকে আলোচনার নতুন সময় নির্ধারণের অপেক্ষা করেছেন। বাসায় ফেরার সময় মুজিব তার কাছে জেনারেল পীরজাদার টেলিফোন তিনি পেয়েছেন কি না জিজ্ঞেস করেছেন, আসন্ন পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো নির্দেশ তিনি দেননি। আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি জেনারেল তাজউদ্দীন আহমদকেও ঢাকা শহর থেকে সরে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়। তাজউদ্দীনকে ঢাকার শহরতলীতে আত্মগোপন করতে বলা হয় যাতে করে শিগগিরই তারা আবার একত্রিত হতে পারেন। তাজউদ্দীন আহমদ শেখ মুজিবের নির্দেশ অনুসারে ঢাকার শহরতলী এলাকাতেই আত্মগোপন করেছিলেন। কিন্তু এভাবে থাকা তার পক্ষে সম্ভব হলো না। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কারও সাথে আলোচনা পরামর্শ ছাড়াই তখনকার করণীয় কাজ তার নিজেকেই নির্ধারণ করতে হলো। তাজউদ্দীনের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী, মুজিব নগর সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি মঈদুল হাসান তার মূলধারা ৭১ গ্রন্থে তখনকার চিত্র এভাবে এঁকেছেন :“এক নাগাড়ে প্রায় তেঁত্রিশ ঘণ্টা গোলাগুলীর বিরামহীন শব্দে তাজউদ্দীনের বুঝে নিতে অসুবিধা হয়নি- যে অনুমানের ভিত্তিতেই তাকে শহরতলিতে আত্মগোপন করতে বলা হয়ে থাকুক, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তরুণ সহকর্মী আমিরুল ইসলামকে সাথে নিয়ে ২৭ মার্চ ঢাকা ত্যাগের আগে দলের কোনো নেতৃস্থানীয় সদস্যের সাথে আলাপ-পরামর্শের কোনো সুযোগ তাজউদ্দীনের ছিলো না।৪৮ তা সত্ত্বেও পরবর্তী লক্ষ্য ও পন্থা সম্পর্কে দু’টি সিদ্ধান্ত নিতে তাদের কোনো বিলম্ব ঘটেনি : (১) পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর সর্বাÍক আঘাতের মাধ্যমে যে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তার হাত থেকে বাংলাদেশের মানুষকে বাঁচাবার একমাত্র উপায় হলো সশস্ত্র প্রতিরোধ তথা মুক্তির লড়াই ; (২) এ সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামকে সংগঠিত করার প্রাথমিক ও অত্যাবশ্যক পদক্ষেপ হিসাবে ভারত ও অন্যান্য সহানুভূতিশীল দেশের সাহায্য-সহযোগিতা লাভের জন্য অবিলম্বে সচেষ্ট হওয়া। ..... লক্ষ্য স্থির করে সঙ্গী তাজউদ্দীন ফরিদপুর ও কুষ্টিয়ার পথে পশ্চিম বাংলার সীমান্তে গিয়ে হাজির হলেন ৩০ মার্চের সন্ধ্যায়।৪৯
তাজউদ্দিনের মতোই যে যেমনভাবে, যেদিক দিয়ে পারেন দেশ ত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগ নেতা মনসুর আলী, কামরুজ্জামান এবং শেখ ফজলুল হক মণি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমদ, আ. স. ম. আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ বিভিন্নভাবে বুড়িগঙ্গার ওপারে কলাতিয়ায় গিয়ে জমা হন। তারপর ৪ঠা এপ্রিল মনসুর আলী, কামরুজ্জামান, শেখ ফজলুল হক মণি, তোফায়েল আহমদ ভারতের সারিয়াকান্দিতে পৌঁছান। মনসুর আলী সিরাজগঞ্জ যান পরিবার-পরিজনের সন্ধানে। কামরুজ্জামান ও শেখ ফজলুল হক মণি প্রমুখ যুবনেতা ৬ এপ্রিল কোলকাতা পৌঁছেন।৫২ সৈয়দ নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহ হয়ে গারো পাহাড়ের পথে ভারত যান। খোন্দকার মোশতাক অনেক দিন পর স্বাধীন বাংললাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষিত হবার পরে ধানমন্ডির এক নার্সিং হোম থেকে ছদ্মবেশে ভারতের আগরতলা গিয়ে পৌঁছান।
৩রা এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা শুরু করার পূর্বে আরো কয়েকটি মূল সিদ্ধান্ত তাজউদ্দিনকে নিতে হয়। তখনও তিনি দলের নেতৃস্থানীয় অপরাপর সহকর্মীর সাক্ষাত পাননি। তারা জীবিত কি মৃত, পাকিস্তানী কারাগারে বন্দী কি সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টায় রত -এমন কোনো তথ্যই তখন অবধি তার কাছে পৌঁছায়নি। এ অবস্থায় তাকে স্থির করতে হয় ইন্দিরা গান্ধীর সাথে আলোচনাকালে তার নিজের ভূমিকা কি হবে? তাতে বিস্তর সহানুভুতি ও সমবেদনা লাভের সম্ভাবনা থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার উপযোগী পর্যাপ্ত অস্ত্র লাভের আশা ছিলো অনিশ্চিত। বস্তুত তাজউদ্দিনের মনে কোন সন্দেহ ছিলো না যে, একটি স্বাধীন সরকার এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার পক্ষে সেই সরকারের দৃঢ়সংকল্প ব্যক্ত হওয়ার আগে, ভারত বা যে কোনো বিদেশী সরকারের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট সাহায্য ও সহযোগিতা আশা করা নিরর্থক। কাজেই ‘সামরিক বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণের সাথে জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে যে সরকার গঠন করেন সেই সরকারের সদস্য হিসেবে তাজউদ্দিন মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্যে প্রয়োজনীয় সাহায্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দিল্লী এসেছেন’ -এমনভাবে সরকারের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা একটি অনিবর্তনীয় বিষয় হিসেবেই গণ্য হবে বলে তার ধারণা জন্মেছিলো। ইন্দিরা গান্ধীর সাথে বৈঠকের আগের দিন দিল্লীতে তারই এক ঊর্ধ্বতন পরামর্শদাতা তাজউদ্দীনের সাথে আলোচনাকালে জানতে চান, আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে কোনো সরকার গঠন করেছে কিনা। এ জিজ্ঞাসাও সংশ্লিষ্ট আলোচনা থেকে তাজউদ্দিন বুঝতে পারেন, স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠন হয়েছে কি হয়নি সে সম্পর্কে কোনো প্রকৃত সংবাদ ভারত কর্তৃপক্ষের জানা নেই এবং সরকার গঠনের সংবাদে তাদের বিস্মিত বা বিব্রত হওয়ারও কোনো আশংকা নেই। বরং সরকার গঠিত হয়েছে জানতে পারলে ‘পূর্ব বাংলার জনগণকে সাহায্য করার’ জন্যে ভারতীয় পার্লামেন্ট ৩১ মার্চ যে প্রস্তাব গ্রহণ করে তা এ নির্দিষ্ট ও কার্যকর রূপ গ্রহণ করতে পারে বলে তাজউদ্দীনের ধারণা জন্মায়। (তাজউদ্দীনের একান্ত সাক্ষাৎকার, সেপ্টেম্বর, ১৯৭২) এসব বিচার বিবেচনা থেকে ইন্দিরা গান্ধীর সাথে বৈঠকের সূচনাতে তাজউদ্দিন জানান যে, পাকিস্তানী আক্রমণ শুরুর সাথে সাথে ২৫ ও ২৬ মার্চেই বাংলাদেশকে স্বাধীন ঘোষণা করে একটি সরকার ঘোষণা করা হয়েছে। শেখ মুজিব সেই স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রেসিডেন্ট এবং মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠকে যোগদানকারী সকল প্রবীণ সহকর্মীরাই মন্ত্রী সভার সদস্য। শেখ মুজিবের গ্রেফতারের খবর ছাড়া অন্যান্য সদস্যের ভালোমন্দ সংবাদ তখনও যেহেতু সম্পূর্ণ অজানা, সেজন্যে দিল্লীতে সমবেত দলীয় প্রতিনিধিদের পরামর্শক্রমে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপস্থিত করা যুক্তিযুক্ত মনে করেন। তাজউদ্দিনের এ উপস্থিত সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অসামান্যভাবে শক্তি সঞ্চারিত হয়। ইন্দিরা গান্ধী ‘বাংলাদেশ সরকারের’ আবেদন অনুসারে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামকে সম্ভব সকল প্রকার সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি জ্ঞাপন করেন, ফলে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠে।৫৪

তথ্যসূত্র :
১-২ : দৈনিক সংগ্রাম, ১৭ মার্চ, ১৯৭১
৩ : The People, ১৭ মার্চ, ১৯৭১
৪ : দৈনিক সংগ্রাম, ১৮ মার্চ, ১৯৭১
৫ : দৈনিক পূর্বদেশ, ১৮ মার্চ, ১৯৭১
৬ : দৈনিক পূর্বদেশ, ১৮ মার্চ, ১৯৭১
৭ : দৈনিক সংগ্রাম, ১৮ মার্চ, ১৯৭১
৮ : দৈনিক সংগ্রাম, ১৮ মাচ, ১৯৭১
৯ : দৈনিক সংগ্রাম, ১৯ মার্চ, ১৯৭১
১০ : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা- ৭৬৪
১১ : দৈনিক সংগ্রাম, ১৯ মার্চ, ১৯৭১
১২ : দৈনিক সংগ্রাম, ২০ মার্চ, ১৯৭১
১৩, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা- ৭৬৫
১৪ : বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা- ৭৬৫
১৫, দৈনিক সংগ্রাম, ২০ মার্চ, ১৯৭১
১৬ : দৈনিক পাকিস্তান, ২১ মার্চ, ১৯৭১
১৭ : দৈনিক সংগ্রাম, ২১ মার্চ, ১৯৭১
১৮ : দৈনিক পাকিস্তান, ২১ মার্চ, ১৯৭১
১৯ : দৈনিক সংগ্রাম, ২১ মার্চ, ১৯৭১
২০ : দৈনিক সংগ্রাম, ২১ মার্চ, ১৯৭১
২১ : দৈনিক আজাদ, ২২ মার্চ, ১৯৭১
২২ : দৈনিক আজাদ, ২২ মার্চ, ১৯৭১
২৩ : বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ দলিলপত্র, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা- ৭৭৫
২৪ : দৈনিক সংগ্রাম, ২০মার্চ, ১৯৭১, দৈনিক পূর্বদেশ, ২৩ মার্চ, ১৯৭১ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ দলিলপত্র, ২য় খণ্ড, ৭৭৫-৭৭৬
২৬ : বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ দলিলপত্র, ২য় খ-, ৭৭৭
২৭ : দৈনিক সংগ্রাম, ২৩ মার্চ, ১৯৭১
২৮ : The People, ২৩ মার্চ, ১৯৭১
২৯ : দৈনিক সংগ্রাম, ২৩ মার্চ, ১৯৭১
৩০ : দৈনিক পাকিস্তান, ২৪ মার্চ, ১৯৭১
৩১ : দৈনিক পাকিস্তান, ২৪ মার্চ, ১৯৭১
৩২ : দৈনিক সংগ্রাম, ২৫ মার্চ, ১৯৭১
৩৪ : দৈনিক পাকিস্তান, ২৪ মার্চ, ১৯৭১
৩৫ : দৈনিক সংগ্রাম, ২৫ মার্চ, ১৯৭১
৩৬ : বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ : দলিলপত্র, ২য় খণ্ড, ৭৮২
৩৮ : দৈনিক সংগ্রাম, ২৫ মার্চ, ১৯৭১
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র, ৩য় খণ্ড, ২৯-৩১
৫২ : ‘জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ‘৭৫’, অলি আহাদ, পৃষ্টা- ৪৮৫-৪৮৬
৫৪ : ‘মূলধারা ‘৭১’, মাঈদুল হাসান, পৃষ্ঠা- ১১-১২

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ