ঢাকা, সোমবার 26 March 2018, ১২ চৈত্র ১৪২৪, ৭ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলা সাহিত্য মুক্তিযুদ্ধ

আহমদ মনসুর : মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের বিজয় আমাদেরকে বিজয়ী জাতি হিসেবে সম্মানের মুকুট পরিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদেরকে স্বাধীনতা উপহার দিয়েই দায় শোধ করেনি, আমাদেরকে সাহিত্য জগতে নতুন ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশ্ব সাহিত্যের দিকে নজর দিলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে কালের বাঁকে বাঁকে সাহিত্যের নতুন নতুন ধারা সৃষ্টি হয়েছে । যেমন ইংরেজী সাহিত্যে রয়েছে চসারেরর ধারা, সেক্সপিয়ারের ধারা, ক্লাসিকাল ধারা , রোমান্টিক ধারা, ভিক্টোরিয়ান যুগ এবং আধুনিক যুগ। বাংলা সাহিত্যেও এমন বিভিন্ন ধারা বর্তমান। বাংলা সাহিত্যের যুগ শেষে ইংরেজ শাসন পাশ থেকে মুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা সাহিত্যে একটি স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পরবর্তী পর্যায়ে ১৯৭১ সালের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টি পর্যন্ত সে ধারায় তেমন কোন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি। ১৯৪৭ সালে রাজনৈতিক ভাবে দেশ বিভাগ বাংলাদেশের সাহিত্যে বিবর্তন ঘটিয়েছিল।   
পাকিস্তানের শাসনকালে বাংলাদেশে প্রায় ২৫ বছর অশান্তির কালেও [১৯৪৭- ১৯৭১] অনেকগুলি বাংলা গ্রন্থ রচিত মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছিল। প্রায় ৬০ খানা কাব্যগ্রন্থ, ১৩৩০ খানা উপন্যাস, ৫৮০ খানা নাটক , ৩৪০ টি ছোট গল্প সংগ্রহ, ২৭০ খানা প্রবন্ধগ্রন্থ এবং ৩৫০ খানি ধর্মালোচনা সংক্রান্ত গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালে রক্তস্নাত বাংলাদেশ নব জন্ম লাভ করার পরে বাংলাদেশের সাহিত্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য কোন কোন ক্ষেত্রে স্পষ্টতর হয়ে ঊঠেছে।  বাঙালি মুসলমান ভাষা- সাহিত্য- সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে শুরু করেছে । 
 বাংলাদেশের লেখকগণ কথা সাহিত্যে অজস্র সোনার ফসল ফলিয়েছেন। সংখ্যার দিক দিয়ে বোধ হয় উপন্যাসই সর্বাধিক।
 ১৯৭১ - এর মুক্তিযুদ্ধ অনেক গুলি উপন্যাসে রক্তের আঁখরে লেখা রয়েছে। আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস সমূহের কিছু উপন্যাস-
জহির রায়হানের ‘ আরেক ফাল্গুন’ [১৯৬৯] ,
 শওকত ওসমান- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করে তার কতিপয় গ্রন্থ রচিত। বিশেষত মুক্তিযুদ্ধেও পরবর্তী কালে বাঙালির সংগ্রাম সাধনার পরিচয় তুলে ধরে তিনি কতিপয় গ্রন্থ রচনা করেন। যেমন- ‘ জাহান্নাম হতে বিদায়’ [১৯৭১], দুই সৈনিক [ ১৯৭৩] , ‘নেকড়ে অরণ্য ’[ ১৯৭৩] ,‘ রাজা উপখ্যান ’
আনোয়ার পাশার ‘ রাইফেল রোটি আওরাত’ [ ১৯৭৩], উপন্যাস খানা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেরপটভূমিকায় রচিত। সংগ্রামের কিছুদিনের মর্মান্তিক বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চিত্র এখানে অঙ্কিত হয়েছে।
 শওকত ওসমান ও আনোয়ার পাশার উপন্যাসে সেই ভয়াবহ দিনগুলির দুঃসপ্ন জেগে আছে । 
রীতা চক্রবর্তীর ‘ শরণার্থিনী’ [ ১৯৭৪] ,
সরদার জয়েন উদ্দীনের ‘ বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ’ [ ১৯৭৫]। তার ‘ অনেক সূর্যের আশা’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভূমিকায় বিস্তৃত পরিসরে এ উপন্যাস খানি রচিত।
শওকত আলীর ‘ যাত্রা’[ ১৯৭৬],‘ উত্তর খেপ’ [ ১৯৯১],
হুমায়ুন আহমদের‘ শ্যামল ছায়া’ [ ১৯৭৪, ‘নির্বাসন [ ১৯৭৪, ‘ সৌরভ’ [ ১৯৮২ , ‘ ১৯৭১’ [ ১৯৮৬] , ‘আগুনের পরশমণি’ [ ১৯৮৬] ,
 অহমদ ছফার ‘ ওঙ্কার’ [১৯৭৫], ‘অলাতচক্র’[ ১৯৯০],
রশীদ হায়দারের ‘খাচায়’[ ১৯৭৫],
সেলিনা হোসেন- ৭১ Ñএর মুক্তিযুদ্ধ সেলিনা হোসেনের ঔপন্যাসিক সত্তাকে আলোড়িত করেছে। একটি রক্তাক্ত সংগ্রামের পথ বেয়ে বাঙালি জাতি তার যে অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবিচল থেকেছে , গভীর অভিনিবেশ ও দরদ সহকারে তারই নানা ঘাত সংঘাত , গৌরব ও গানির পরিচয় সেলিনা হেসেন মেলে ধরেছেন তাঁর উপন্যাসে। সেলিনা হোসেনের মুক্তি যুদ্ধ বিষয়ক উপস্যাস ‘ হাঙর নদী গ্রেনেড’[ ১৯৭৬], ‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ [ ১৯৮৭], ‘কাটা তারের প্রজাপতি’ [ ১৯৮৯], 
সৈয়দ শামসুল হকের‘ নীল দংশন’[ ১৯৮১] , ‘ নিষিদ্ধ লোবান’ [ ১৯৯০],
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ‘ দেয়াল’[ ১৯৮৬],
আমজাদ হোসেনের‘ মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস সমগ্র’ [ ১৯৯০],
খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াসের ‘ কত ছবি কত গান’ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উপন্যাস। অসংখ্য ঘটনাবলীর মাধ্যমে সংগ্রামী মানুষের কথা এ উপন্যাস রূপায়িত হয়েছে।
 আবুরুশদ- দেশ বিভাগের পটভূমিকায় রচিত তাঁর ‘নোঙর’ উপন্যাস। জাতীয় জীবনের বিশেষ আদর্শ এ উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে।
মেসবাহুল হক রচনা করেছেন ‘পূর্বদেশ ’ নামক সুবৃহৎ উপন্যাস। ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের কাহিনী এর উপজীব্য।
ড.আলাউদ্দীন আল আজাদের ‘ ক্ষুধা ও আশা’ উপন্যাসটিতে রূপায়িত হয়েছে যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষ প্রপীড়িত সামাজিক অবস্থায় সংগ্রামী মানুষের চিত্র।
কবিতায় মুক্তি যুদ্ধ এসেছে নানা ভাবে-
সৈয়দ আলী আহসান- মুক্তি যুদ্ধের এক অনন্য কন্ঠস্বর সৈয়দ আলী আহসান।  সৈয়দ আলী আহসানের একখানা আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ ‘যখন সময় এল’। এ গ্রন্থে লেখক তার মুক্তি যুদ্ধে সম্পৃক্ত হওয়ার কাহিনী মোটামুটি ভাবে দালিলিক প্রমাণাদি ও গভীর দার্শনিকতার উপাদান সহ লিপিবদ্ধ করেছেন। মুক্তি যুদ্ধের চেতনার উপলদ্ধি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বইয়ের এক জায়গায় লিখেছেন,“ আমার কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল শুভ ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। অমি সব সময় ভেবেছি বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে আমার নিজস্ব সত্তার বিকাশের প্রয়োজন রয়েছে। আমার ভাষা, আমার ধ্বনি বিনিময়, আমার বিবিধ ইচ্ছা এবং সংকল্প ও আনন্দের সবকিছুকে আবিষ্কার করতে হলে আমার নিজস্ব এবং স্বাধীন ভূ-খণ্ডের প্রয়োজন। আমার কাছে মুক্তিযুদ্ধের অর্থ ছিল আমার নিজস্ব সত্তাকে আবিষ্কার করার ইচ্ছা। আমি এ ইচ্ছাকে রূপ দেয়ার সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করতে যে সক্ষম হয়েছিলাম এখানেই আমার গর্ব এবং অহংকার।”
 মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে প্রথম ভাবগম্ভীর অনবদ্য কবিতা কবির ‘ আমার প্রতিদিনের শব্দ’। ‘একক সন্ধ্যায় বসন্ত’ কাব্যগ্রন্থে সৈয়দ আলী আহসান তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘ ত্রয়ী’ “ আমার পূর্ববাংলা ” প্রকাশ করেন। বাংলাদেশকে মর্মান্তিক তীব্রতার সঙ্গে ভালবাসার একটি নিদর্শন এই কবিতাত্রয়ীতে প্রকাশ পেয়েছে।
 অপেক্ষাকৃত নবীন কবিরা যেমন শহীদ কাদরী, রফিক আজাদ, হাবীবুলাহ সিরাজ প্রমুখ মুক্তিযুদ্ধের শোণিত সিক্ত মুহূর্ত , জীবনের হতাশা ও নতুন স্বপ্নসাধনা নিয়ে অনেক গুলি কবিতা সংকলন প্রকাশ করেছেন। তাঁদের কবিতা ধর্মীয় সীমাবদ্ধতা ছেড়ে দেশ ও কালের উদার প্রাঙ্গণে পদচারণা করছে।  আবুল হাসানের ‘রাজা যায় রাজা আসে’ কাব্যগ্রন্থে তার স্বদেশ প্রেমের গুঞ্জরণ আছে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত সত্তরের বাংলা কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও যুদ্ধজনিত নানা মানবিক বিপর্যয় বিশেষ ভাবে স্থান লাভ করে। ১৯৭৪ সালে নানা কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এ সব মানবিক বিপর্যয়ের দুঃখময় কাহিনী আমাদের অনেক কবির ভাষায় ফুটে ওঠে। এ সময়কার উলেখ যোগ্য কবিদের মধ্যে রয়েছেন Ñ হাবীবুলাহ সিরাজী, আবিদ আজাদ, জাহাঙ্গীর হাবীবুলাহ, সাজজাদ হোসাইন খান , কাজী রোজী, শিহাব সরকার, শাহাদাৎ বুলবুল, শাহাবুদ্দীন নাগরী , হাসান হাফিজ প্রমুখ।
নাটকেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ-
১৯৭১ সালের পর তরুণ সমাজের প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য রেখে অভিনয় যোগ্য বহু নাটক বাংলাদেশে রচিত হয়েছে। ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নাট্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় , তার পর থেকেই বেশ কয়েকখানি সাহিত্যগুণান্বিত এবং অভিনয়গুণবিশিষ্ট নাটক রচিত হয়েছে। সৈয়দ শামসুল হকের ‘ পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ নামক নাটকটি মুক্তি যুদ্ধের উপর রচিত। আশকার ইবনে শাইখ সম্ভবত একমাত্র নাট্যকার যিন কেবল মাত্র নাটক রচনা করেেেছন। আসকার ইবনে শাইখের প্রবলতম আগ্রহ ছিল বাংলাদেশের সমাজ , ইতিহাস, আকাঙ্খা ও আনন্দকে নাট্যরূপে পরিদৃম্যমান করা। তার ‘তিতুমীর’ নাটকের নাট্যবস্তু স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় অধ্যায় থেকে আহৃত হয়েছে। তার ‘ অগ্নিগিরি’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সাল্ েএ Ñনাটকের কাহিনী আমাদের মুক্তি সংগ্রামের এক অধ্যায়।
মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত গ্রন্থ- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক অবলম্বনে রচিত হয়েছে প্রবন্ধ ও স্মৃতি কথা জাতীয় গ্রন্থ। সে গুলির মধ্যে উলেখ যোগ্য হলঃ- এম আর আখতার মুকুলের‘ আমি বিজয় দেখেছি’,
শামসুল হুদা চৌধুরীর ‘ একাত্তরের রণাঙ্গণ’,
এম, এস , এ ‘ ভুইয়ার ‘মুক্তিযুদ্ধের নয়মাস’,
মেজর রফিকুল ইসলামের ‘একটি ফুলকে বাচাবো বলে’,
কাজী জাকির হাসানের ‘ মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলি’,
রফিকুল ইসলামের [ বীর উত্তম]‘ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে’,
আসাদ চৌধুরীর ‘ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ ,
ছদরুদ্দীনের ‘ মুক্তিযুদ্ধঃ বিভি ন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে’,
 আতিয়ার রহমানের ‘মুক্তিযুদ্ধের অপ্রকাশিত কথা’,
মনজুর আহমদের ‘একাত্তর কথা বলে’,
হেদায়েত হোসাইন মোরশেদের ‘ স্বাধীনতা সংগ্রাম, ঢাকায় গেরিলা অপারেশন’;
মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত মননশীল ও গবেষণা মূলক প্রবন্ধ রচনা করেছেন অনেকে। বদরুদ্দীন ওমর রচনা করেছেন ‘ যুদ্ধপূর্ব বাংলাদেশ’, ‘যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ’। ড. রফিকুল ইসলাম রচনা করেছেন ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম’, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’, ভাষা আন্দেলন ও মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য’ , ‘বাংলাদেশের সাহিত্যে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ’।
 ‘ ব্যক্তিগত স্মৃতিকথার মধ্যে উলেখযোগ্য ও বহুল প্রচারিত একটি হচ্ছে জাহানারা ইমামের জার্নাল আকারে প্রকাশিত ‘ একাত্তরের দিনগুলি’ ( ১৯৮৬)। এটি তথ্যসমৃদ্ধ বর্ণনায় ভরপুর একটি বই যা তার সন্তান রুমীকে অমর করেছে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে যেতে বদ্ধপরিকর ছিল ও আরো অনেকের মতো যাদের পাক সেনাবাহিনী গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িত অনেকের মতে বইটি সাবলীলতার সাথে লেখা হলেও এতে উলেখিত প্রতিটি বর্ণনাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলা যাবে না। বাসন্তী গুহ ঠাকুরতার ‘একাত্তরের স্মৃতি (২০০০)’ বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেননা বইটিতে ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়ে ২৫/২৬ মার্চ পাকবাহিনীর অভিযান ও তার স্বামী অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতার হত্যার প্রত্যক্ষ দর্শীর বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অধ্যাপক আনিসুর হমানের স্মৃতি চারণে (২০০১) সেনা অভিযানের অভিজ্ঞতা ও তার দেয়া প্রাথমিক বর্ণনা যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের দৃষ্টিভঙ্গি বা প্রেক্ষাপট বিবেচনায় একটি উলেখযোগ্য সংযোজন হচ্ছে রশিদ হায়দার সম্পাদিত তের খণ্ডের ‘স্মৃতি ১৯৭১’ যা এক বিশাল সংগ্রহ। এ খ-গুলিতে ১৯৭১ সালের সংঘা তে অংশগ্রহণকারী বা প্রত্যক্ষ দর্শীদের দয়া বর্ণনা সংক্ষিপ্ত আকারে সাজানো হয়েছে। ওই বছর দেশের বিভিন্ন স্থানের  বিভিন্ন সময়ের ঘটনার বর্ণনা সংযোজিত করা হয়েছে ওই তের খণ্ডে। এ ছাড়া অন্য লেখকদের লেখার সংকলন হিসেবে আরো একটি বই-‘১৯৭১: ভয়াবহ অভিজ্ঞতা’ (১৯৮৯) সম্পাদনা করছেন রশিদ হায়দার। .. রশিদ হায়দারের আরো একটি সম্পাদনা হলো- ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষগ্রন্থ’ (১৯৯৪) । এটিতে ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকা- ও তাদের নিরুদ্দেশের বিস্তারিত উপাদান পাওয়া যায়। ..
পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন বাঙালি সদস্য একটি বই লিখেছেন যারা বিদ্রোহ করে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন । এদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলেন ব্রিগেডিয়ার এম আর মজুমদার, লে.ক. মাসুদ উল হাসান খান, মে. জে.কে. এম. সফিউলাহ ও মে.জে. ইমামুজ্জামান। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে টাইগার কাদের সিদ্দিকীর দু’খ-ের ‘স্বাধীনতা ‘৭১’এ সিদ্দিকী যুদ্ধ সম্পর্কে তাঁর নিজের অভিমত উপাস্থাপন করেছেন। মাহবুল আলমের বই (১৯৯৩) গেরিলা যুদ্ধের বিস্তারিত বর্ণনায় সমৃদ্ধ।’ 
 এবারে সামান্য আলোচনা করা যাক মুক্তি যুদ্ধ সম্পর্কিত সাহিত্যের বাস্ত বতা নিয়ে। সমাজে যিনি আছেন , তার কোনো না কোনো নীতি বা আদর্শের দ্বারা প্রভাবিত হতে তিনি বাধ্য। বিশুদ্ধ সাহিত্যবাদীরা যে দিকেই যান না কেন , মতবাদের হাত থেকে তাঁদের মুক্তি নেই। কিন্তু বিশেষ মতবাদের অনুসারী হওয়ার কারণে কাল্পনিক ও অসত্য তথ্য ভরপুর সাহিত্য রচনা বড়ই অন্যায়। তাতে জাতি তিমিরাচ্ছন্ন হয়ে ধ্বংসের পথে পা বাড়াতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশ সম্পর্কিত সাহিত্য রচনায় এমন ভয়ানক ক্ষতির অন্ধ গলিতে অনেকেই হেঁটেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ