ঢাকা, বুধবার 28 March 2018, ১৪ চৈত্র ১৪২৪, ৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পুঁজিবাজার ফের বড় ধরনের পতনের মুখে

স্টাফ রিপোর্টার: সূচকের বড় ধরনের পতনের মধ্যে দিয়ে গতকালও লেনদেন শেষ হয়েছে দেশের দুই শেয়ারবাজারে। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস গতকাল মঙ্গলবার  ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দশমিক ৭৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৯১ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা গত নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে সূচক এর চেয়ে কম ছিল ২০১৭ সালের ১৯ জুন, সেদিন সূচকে ছিল ৫ হাজার ৪৯১ পয়েন্ট।
এ নিয়ে গত সাত দিনে ডিএসইএ সূচক কমল ৩২৭ পয়েন্ট। বাজারের লেনদেন পতনের নেপথ্যে ছিল কুইন সাউথ টেক্সটাইল, বিবিএস ক্যাবলস, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, আমরা নেটওয়ার্ক, ব্র্যাক ব্যাংক ও গ্রামীণফোন।
গতকাল মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর পর থেকেই দেশের দুই পুঁজিবাজারে সূচকে টানা পতন হয়, লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ শেয়ারের দরও কমেছে। দিন শেষে পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩১১ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩৩৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩৭টির, কমেছে ২৮২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টির। লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো অলিম্পিক, ইফাদ অটোজ, স্কয়ার ফার্মা, ইউনিক হোটেল, ন্যাশনাল টিউবস, ইবনে সিনা, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড ও গ্রামীণফোন।
দর বৃদ্ধিতে শীর্ষে ছিল যে কোম্পানিগুলো এটলাস বাংলাদেশ, ফাইন ফুডস, এসিআই, আইপিডিসি, পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স, আমরা নেট, প্রাইম লাইফ, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফার্ম ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দশমিক ৭৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৯১ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা গত নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে সূচক এর চেয়ে কম ছিল ২০১৭ সালের ১৯ জুন, সেদিন সূচকে ছিল ৫ হাজার ৪৯১ পয়েন্ট।
এ বাজারের ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক মঙ্গলবার ১৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে একহাজার ৩০৩ পয়েন্টে। ডিএস৩০ সূচক ১৮ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট কমে নেমেছে ২ হাজার ৫৬ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে। এদিন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এ সময়ে ১২ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
সিএসইর সার্বিক সূচক (সিএএসপিআই) ২২৯ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৬ হাজার ৯৪৬ পয়েন্টে। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ২২৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৯টির, কমেছে ১৯০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৮টির।
বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল সপ্তাহের শুরুতে গতকাল পুঁজিবাজার ইতিবাচক থাকবে। কিন্তু বাজার পরিস্থিতি ফের নিরাশ করল বিনিয়োগকারীদের। গতকাল সূচকের বড় পতন না হলেও লেনদেন একেবারে নিচে নেমে যায়।
জানা যায়, জানুয়ারি মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ারধারণের পরিমাণ বেড়েছে। এ খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে ১৮টিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে, আটটিতে কমেছে। বাকিগুলোর হিসাব এখনও প্রকাশিত হয়নি। তা সত্ত্বেও গতকাল এ খাতে মাত্র ২৩ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১৫ শতাংশ। এ খাতে ৩২ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ