ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 March 2018, ১৫ চৈত্র ১৪২৪, ১০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার সাজা কেন বৃদ্ধি করা হবে না

স্টাফ রিপোর্টার : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা কেন বৃদ্ধি করা হবে না- মর্মে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাদি-বিবাদী উভয়পক্ষকে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আপিল আবেদন গ্রহণের শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এ রায় দেন।
শুনানিকালে দুদকের আইনজীবী এডভোকেট খুরশিদ আলম খান আদালতকে বলেন, এ মামলায় প্রধান আসামীকে কম সাজা দেয়া হয়েছে। অন্যদের বেশি দেয়া হয়েছে। সবারই সমান সাজা হওয়া উচিত।
অন্যদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন।
দুদকের আইনজীবীর বক্তব্যের বিরোধিতায় খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, এ মামলায় আসামীদের বিশেষ আইনে সাজা হয়েছে। এ আইনের অধীনে রিভিশন বা আপিল করতে হলে আইনটি সংসদে সংশোধন করে আসতে হবে।
 বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, যেহেতু আইনের প্রশ্ন উঠেছে, তাই এর সমাধান হওয়া দরকার।
খালেদার অপর আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী তখন বলেন, বিশেষ আইনে আপিলের বিধান আছে। সেখানে বলা আছে আসামী খালাসপ্রাপ্ত হলে আপিল করা যাবে। কিন্তু ১০(এ) তে রিভিশন আবেদনের যে বিধান আছে সেটি খুবই সীমিত অর্থে। তাহলে দুদক কীভাবে সংক্ষুব্ধ হয়? এখানে দুদকের সংক্ষুব্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাহলে দুদক কেন এই বিতর্কিত ভূমিকা নিল? কারণ এটি একটি অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খেলা। ফলে দুদকের আবেদন গ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই।
বিচারক তখন বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীদের বলেন, তারা যদি ভুল করে, তাহলে এর সুবিধা কি আপনারা পাবেন না? দুইপক্ষ আপিল এবং রিভিশন আবেদনের বিধান নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে, তা আলোচনা ও ব্যাখ্যার দাবি রাখে।
এরপর আদালত খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর প্রশ্নে রুল জারি করে।
আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী মওদুদ আহমদ অভিযোগ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে না। রাজনৈতিক চাপে তারা খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেছে।
অন্যদিকে খুরশীদ আলম খান বলেন, মাননীয় বিচারপতি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, খালেদা জিয়া যে মুখ্য আসামী এটা কোথায় আছে? সেটা আমি রায় থেকে পড়ে আদালতের দৃষ্টিতে এনেছি। দুই পক্ষকে শুনেই আদালত আদেশ দিয়েছে, বিষয়টা এক্সামিন করা উচিত।
এ মামলার দুই আসামী খালেদা জিয়া এবং কাজী সলিমুল হক কামাল হাই কোর্টে যে আপিল করেছেন, তার সঙ্গেই এ রুলের শুনানি হবে বলে জানান দুদকের আইনজীবী।
গতকাল বুধবার সকালে এ মামলার শুনানি আদালতের কার্যতালিকায় এলেও খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের মতামতের উপর ভিত্তি করে আদালত নতুন সময় দুপুর ২টা নির্ধারণ করেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন যে, তারা দুদকের আপিল আবেদনের কপি হাতে পাননি। তাই সে কপি না দেখে তারা শুনানি করতে পারবেন না। তাই কপি দেখার জন্য সময়ের আবেদন করেন তিনি। পরে আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন সময় নির্ধারণ করেন।
গত মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দুদকের আপিল গ্রহণের শুনানির জন্য গতকাল দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ২৫ মার্চ দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন দায়ের করেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন।
এ মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য চার আসামীকে ১০ বছর সশ্রম কারাদ- এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। এরপর গত ১২ মার্চ চারটি যুক্তি আমলে নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন।
এরপর গত ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ আগামী ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ। একই সাথে জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দেন আদালত। এ ছাড়া আগামী ৮ মে ওই আপিল আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ