ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 March 2018, ১৫ চৈত্র ১৪২৪, ১০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নতুন কর্মসূচি বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার: দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে  বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশের পাশাপাশি সারাদেশে ‘লিফলেট বিতরণ ও বিক্ষোভে’র আবারো কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। গতকাল বুধবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচির কথা জানান। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন  ও গণতন্ত্রের মা  বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামী ১ এপ্রিল রোববার সারাদেশে লিফলেট  বিতরণ শুরু হবে এবং ৩ এপ্রিল সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি। এছাড়া আগামী ৪ এপ্রিল রাজশাহীতে ৭ এপ্রিল বরিশাল এবং ১০ এপ্রিল সিলেটে জনসভা হবে। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে মহানগর বিশেষ জজ আদালত ৫ বছরের কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করলে এর প্রতিবাদে বিএনপি কয়েক দফায় টানা কর্মসূচি দেয়।  এর মধ্যে ছিলো বিক্ষোভ, মানববন্ধন, অবস্থান, গণঅনশন, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ।
সরকার ‘সমাবেশ ফোবিয়া’র আতঙ্কে ভুগছে বলেই রাজধানীতে বিএনপিকে সমাবেশ করতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সরকারের স্বৈরাচারের ডাইমেনশনটা উন্মোচিত হচ্ছে যখন একটি প্রধান রাজনৈতিক দলকে জনসভার করতে দেয়া হচ্ছে না। অন্য ছোট-খাটো দলকেও এরমধ্যেই সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে জনসভা করতে দিয়েছেন। তাহলে বিএনপিকে দিচ্ছেন না কেনো?
তিনি বলেন, সরকার সমাবেশ আতঙ্কে ভোগছেন। বিএনপি সমাবেশ করলেই যে লক্ষ মানুষের ঢল নামবে- এই ভয়ে কী আপনারা (সরকার) অনুমতি দিতে চাচ্ছেন না।  নাকী গণতন্ত্রের বৃহৎ পরিসর যেন বিস্তার লাভ না করে সেই জন্য দিচ্ছেন না। আসলে মনের মধ্যে তো আছেন একদলীয় জমিদারী কর্তৃত্বের আকাংখায়। সেই করণে বৃহত্তর রাজনৈতিক দলকে সমাবেশ করতে দেবেন না তিনি(সরকার প্রধান) অবৈধ রাষ্ট্র ক্ষমতার জোরে।
এইচ এম এরশাদকে ২৪ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, হোসেইন মো. এরশাদকে দিচ্ছেন কবে? যেদিন  তিনি একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাছ থেকে অন্যায়ভাকে বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতা দখল করেছিলেন- সেদিন দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি গণতন্ত্রপ্রিয় হতেন তাহলে এটা দিতেন না। তিনি গণতন্ত্রকে অপমান করার জন্য, অবমাননার কথার জন্যে ২৪ তারিখে জনসভা করতে দিয়েছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।
দলের গ্রাম সরকার বিষয়ক সহসম্পাদক সাইফুল ইসলাম শিরিন, বাক্ষনবাড়ীয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুর রহমান সেন্টু, সহ প্রকাশনার বিষয়ক সম্পাদক জালাল উদ্দিন, বগুগা জেলা সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান বকুল, জেলা যুগ্ম সম্পাদক শেখ তাহাউদ্দিন নাইন, জেলা যুব দল সাংগঠনিক সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম খাদেকসহ নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করেছেন রিজভী। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র সেখানে ক্ষমতাসীন দল তান্ডব চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করে  এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় বলেছেন, এক এগারোর সরকারের সময় তাকে গ্রেপ্তারের পেছনে কারা ছিল সেই তথ্য জানা গেছে। তিনি বলেছেন, তাদের বিষয়ে হিসাব পরে নেয়া হবে। হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্য রহস্যজনক ও কৌতুহলোদ্দীপক। ১/১১ এর সরকারের এক্সটেনশন বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার। ১/১১ এর ষড়যন্ত্রকারীদের ক্ষমা করে দেয়ার শর্তে ষড়যন্ত্র করে তারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। দেশবাসীর মনে আছে মাইনাস টু ফর্মূলা বাস্তবায়ন করার জন্য ১/১১ এর সরকার উঠে পড়ে লেগেছিল। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সে সময় তাদের সাথে আতাঁত করে চিকিৎসার নামে কারাগার থেকে বের হয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। আবার বিদেশ থেকে ফেরার পর বিমানবন্দরে নেমে দায় মুক্তির ঘোষনা দিয়েছিলেন বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে ১/১১ সরকারের সকল কাজের বৈধতা দিবে। তিনি তাদের সমর্থনে সরকার গঠন করে তাদের শুধু দায় মুক্তি দেননি পুরস্কৃতও করেছেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে হ্যামলেট নাটকের একটি উক্তি মনে পড়ছে-‘ডেনমার্কে কিছু পচছে’। কি এমন হলো এতবছর পর তিনি উল্টো কথা বলতে শুরু করলেন। এখনওতো আপনি ক্ষমতায়, তাহলে পরে কেন, এখন বিচারের মুখোমুখি করছেন না কেন এ প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদ্বেষ ও উগ্রতা দিয়ে মুক্তিযদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে চান। কিন্তু স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সম্পূর্ণভাবে অবিশ^াসী। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র, মানুষের ইচ্ছার  বাস্তব প্রতিফলন। কিন্ত সেই বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে নিজের জমিদারী মনে করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষা করা, কিন্তু বৈদেশিক নীতি এতোই পরনির্ভরশীল যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই অন্যের কথা শুনে দেশ শাসন করেন, তা না করলে তার গদিওয়ালা চেয়ার চোরাবালিতে ডুবে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে একদলীয় শাসন চালু রেখে বিনাশ ও সংকীর্ণতার পথে দেশকে ঠেলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক স্বৈরাচারের খেতাব পাওয়র পরেও তিনি নির্বিকার ও বেপরোয়া। শুধুমাত্র দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপিকেই কোন কর্মসূচি করতে দেয়া হচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ