ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 March 2018, ১৫ চৈত্র ১৪২৪, ১০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় -আমীর খসরু

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে যুব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করে সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পথ একমাত্র পথ, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি একমাত্র পথ, শান্তির পথ একমাত্র। এই পথে আমরা আছি, বিএনপি আছে, বাংলাদেশের মানুষ আছে। এই পথেই থাকতে হবে, এটাই হচ্ছে বিজয়ের পথ।
 গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব  সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসানের মুক্তির দাবিতে এই সভা হয়।
আমীর খসরু বলেন, অনেকে অনেক কিছু উস্কে দেয়ার চেষ্টা করছে। উস্কে দিয়ে দেশে একটি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। যে অস্থিরতার ঘোলা পানিতে বর্তমান সরকার মাছ ধরার চেষ্টা করছে। আমি বলতে চাই, সেই দিকে কেউ কান দেবেন না। গণতন্ত্রের পথ একমাত্র পথ, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি একমাত্র পথ, শান্তির পথ একমাত্র। এই পথে আমরা আছি, বিএনপি আছে, বাংলাদেশের মানুষ আছে। এই পথেই থাকতে হবে, এটাই হচ্ছে বিজয়ের পথ।
আমীর খসরু বলেন, গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে জেলের ভেতরে রাখলে বাংলাদেশের মানুষকে নির্বাচনের বাইরে রাখা যাবে, ক্ষমতা দখল করা যাবে। বাংলাদেশের মানুষও প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি আপনাদের নিশ্চিতভাবে বলতে পারি দেশের প্রতিটি মানুষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই দেশের মানুষ বারবার সময়মতো এগিয়ে গেছে, তাদের মালিকানা কেড়ে নিয়েছে, স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে। বাংলাদেশের মানুষ আজকে বদ্ধপরিকর। অপেক্ষায় আছে। সুতরাং আমাদেরকে সেই গণতন্ত্রের পথে চলতে প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার ইত্যাদি হচ্ছে সংবিধানে মৌলিক কাঠামো। যারা সেটা ভেঙে দিয়েছে তারা যদি সংবিধানের কথা বলে এর চাইতে লজ্জার বিষয় কিছু নাই। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে, জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে, আইনের শাসন কেড়ে নিয়ে, মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে তারা সংবিধানের মূল কাঠামো ভেঙে দিয়েছে।
সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যে প্রস্তাব দিয়েছেন তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এরশাদ নিজে ছিলেন একজন স্বৈরাচার, আর বর্তমানে ক্ষমতায় আছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতপ্রাপ্ত স্বৈরাচার। দুই স্বৈরাচারের অধীনে কেমন নির্বাচন হবে তা দেশের মানুষ ভালো করেই জানে।
ক্ষমতাসীন সরকার প্রতিনিয়ত জনগণের আস্থা হারাচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপির এ সিনিয়র নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের জালে নিজেরাই আটকা পড়ছে। তাদের এমন ভাব হয়েছে যেন চোরাবালিতে পড়ে যেদিকেই নড়ে না কেন নিচে যেতে হয়।
এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য সকল কিছুইতে সরকারের সংবিধানের দোহাই দেয়ার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় বলে সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন হতে হবে, সংবিধান মোতাবেক দেশ পরিচালনা করতে হবে, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন সংবিধান কি পড়ে বলেন না নাকি না পড়ে বলেন? সংবিধানের মৌলিক অধিকার আইনের শাসন জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে সংবিধানের মৌলিক স্টাকচার ভেঙে দিয়ে সংবিধানের কথা বলতে আপনাদের লজ্জা করা উচিত।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১/১১ সরকারের সময় তাকে গ্রেপ্তারে কাদের অবদান ছিলো তা জানতে পেরেছেন। তাদের বিচার করবেন। এক-এগারোর সেনা সমর্থিত সরকার তো আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল। তাহলে যারা সেই সরকারে কাজের বৈধতা দিয়েছে তাদের আগে বিচার হওয়া উচিত।
সংগঠনের উপদেষ্টা এমএ বাশারের সভাপতিত্বে ও সভাপতি সাইদুর রহমানের পরিচালনায় সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, লেবার পার্টির একাংশের মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদি, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ