ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 March 2018, ১৫ চৈত্র ১৪২৪, ১০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিজিএমইএর মুচলেকা সংশোধন করে দাখিলের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) দেয়া মুচলেকা সংশোধন করে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
গতকাল বুধবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী সোমবার দিন ধার্য করেন। বিজিএমইএ’র মুচলেকার বলা হয়, বোর্ড অব ডিরেক্টরস আর সময় চাইবে না। তারা যদি সময় চায়, তাহলে তারা দায়ী হবে। তখন কোর্ট প্রশ্ন তোলেন যে, বিজিএমইএর বোর্ড অব ডাইরেক্টরস ছয় মাস বা এক বছর পর নাও থাকতে পারে।
সে বিষয়ের কোনো ব্যাখ্যা নেই। পরে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে নতুন করে মুচলেকা দেওয়ার কথা বলেন তাদের আইনজীবী। সেই মুচলেকায় বলা থাকবে, বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আর সময় চাওয়া হবে না। সময় শেষ হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজিএমইএ নিজেরাই ভবন ভাঙবে। আদেশ না মানলে বিজিএমইএ দায়ী থাকবে।
আদালতে বিজিএমইএর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
পরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিজিএমইএ’র বোর্ড অব ডিরেক্টরসদের পক্ষ থেকে একটি মুচলেকা দাখিল করা হয়েছিলো। সেখানে বলা হয়েছিলো, বোর্ড অব ডিরেক্টরস আর সময় চাইবে না। যদি চায় তাহলে তারা দায়ী হবে। তখন কোর্ট প্রশ্ন তুলেছেন যে, বিজিএমইএ’র বোর্ড অব ডিরেক্টরস ৬ মাস ১ বছর পর নাও থাকতে পারে। সে বিষয়টার কোনো ব্যাখ্যা নাই। আরেকটা বিষয় হলো আপনারা বলেছেন, ভবন ছেড়ে দিবেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা ছিলো ৯০ দিনের মধ্যে ভবনটি ভাঙতে হবে। সে বিষয়েও কিছু বলা নাই। তখন বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে নতুন করে মুচলেকা দেওয়ার কথা বলেন তাদের আইনজীবী। সেই মুচলেকায় বলা থাকবে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে আর সময় চাওয়া হবে না। সময় শেষ হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজিএমইএ নিজেরাই ভাঙবে। আদেশ না মানলে বিজিএমইএ দায়ী থাকবে। সোমবার মুচলেকা দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এর আগে বহুতল ভবন ভাঙতে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে তৃতীয়বারের মতো আরও একবছর সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। গত ৫ মার্চ বহুতল ভবনটি ভাঙতে আরো এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। গত বছরের ৮ এপ্রিল বিজিএমইএর বহুতল ভবনটি ভাঙতে সাত মাস সময় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আদেশে আদালত বলেছিলেন, এটাই শেষ সুযোগ। আর সময় দেয়া হবে না।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভবন ভাঙতে আদালতের দেওয়া নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই সময় চেয়ে আবেদন করেন বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ।
গত বছরের ৫ মার্চ আপিল বিভাগ বিজিএমইএ ভবন অবিলম্বে ভেঙে ফেলতে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) করা আবেদন খারিজ করে দেন। তখন ভবন ভাঙতে কত দিন সময় লাগবে, তা জানিয়ে আবেদন করতে বলেন। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবন সরাতে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করে। ১২ মার্চ আপিল বিভাগ আবেদন নিষ্পত্তি করে ছয় মাস সময় দেন ভবন সরাতে।
২০১৬ সালের ২ জুন বিজিএমইএর করা লিভ টু আপিল খারিজ হয়ে যায় আপিল বিভাগে। ওই বছরের ৮ নভেম্বর রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের পূর্ব পাশে অবস্থিত বিজিএমইএর ১৬ তলা ভবনটি অবিলম্বে সংগঠনের নিজ খরচায় ভেঙে ফেলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে ৮ ডিসেম্বর রিভিউ আবেদন করে বিজিএমইএ।
এর আগে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার নির্দেশ দেয়া হয়। ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে বিজিএমইএ ভবন একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। এই লিভ টু আপিল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ