ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 March 2018, ১৫ চৈত্র ১৪২৪, ১০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা শুরু ২ এপ্রিল

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ২ এপ্রিল থেকে এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে।  এবার ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে; যা গতবারের চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। ‘আগের অভিজ্ঞতা’ কাজে লাগিয়ে এবার ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেয়ায় এইচএসসিতে প্রশ্ন ফাঁস হবে না বলেই আশা করছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
১৩ মে পর্যন্ত হবে এইচএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা। আর ১৪ থেকে ২৩ মের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে। গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এই হিসাবে এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৭৭১ জন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের মোট ৮ হাজার ৯৪৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবার দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে উচ্চ মাধ্যমিকে বসবে। গতবারের চেয়ে এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৭৯টি; কেন্দ্র বেড়েছে ৪৪টি।
এইচএসসিতে আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ জন, মাদরাসা বোর্ডের  অধীনে আলিমে এক লাখ ১২৭ জন, কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি বিএম-এ এক লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ জন এবং ডিআইবিএসে ৯৬৯ জন পরীক্ষা দেবে এবার। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে এবার ৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৩০ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ১৮ হাজার ৭২৭ জন ছাত্রী।
মন্ত্রী জানান, ঢাকার বাইরে এবার বিদেশের সাতটি কেন্দ্রে ২৯৯ জন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেবে, এর মধ্যে ১৫৯ জন ছাত্র এবং ১৪০ জন ছাত্রী। এবারও ২৮টি বিষয়ের ৫৪টি পত্রের পরীক্ষা হবে সৃজনশীল প্রশ্নে।
‘আগের অভিজ্ঞতা’ কাজে লাগিয়ে এবার ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেয়ায় এইচএসসিতে প্রশ্ন ফাঁস হবে না বলেই আশা করছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু সঙ্কট আমরা মোকোবেলা করছি। আগের থেকে আরও বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছি, অনেক বেশি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি, অনেক বেশি পদ্ধতি আমরা অ্যাপ্লাই করছি। এবং অনেক বেশি কৌশল অবলম্বন করছি। সেদিক থেকে আমরা আশা করতে পারি।
নাহিদ বলেন, সব ধরনের কোচিং সেন্টারই বেআইনি। আমরা হয়তো আইন প্রয়োগ করে নিজেরা বন্ধ করতে পারি না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বন্ধ করে। কোনো ধরনের কোচিং সেন্টারই আইনগত অ্যালাউড না। তিনি বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সামনে রেখে ২৯ মার্চ থেকে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদারকি করবে।
তিনি বলেন, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা কক্ষে আসন নিতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে এসএমএস করে সেট কোড এর নির্দেশনা পাঠানো হবে। তারপর প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা যাবে।
মন্ত্রী জানান, কেন্দ্রর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমন মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন, যা দিয়ে ছবি তোলা যায় না।
এবারও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবেন। আর অটিস্টিকসহ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা পাবেন অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময়। এ ধরনের শিক্ষার্থীরা অভিভাবক, শিক্ষক বা সাহায্যকারী নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ