ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 March 2018, ১৫ চৈত্র ১৪২৪, ১০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শেয়ালের সম্মিলিত প্রতিবাদ!

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : শখের বশে পথের ধারে পাওয়া পৌনে এক ডজন শেয়াল ছানা নিয়ে আনন্দে আটখানা হয়ে বাড়ি ফিরেছিল চাষি বুলু মিয়া। আর তাতেই ঘটে গেল বিপত্তি। রাত ভর শতাধিক শেয়ালের ভয়ংকর প্রতিবাদী সমাবেশ আর কোরাস চিৎকারে পরিবার পরিজনসহ নিজের ঘুমতো হারাম হয়েছিলই। অধিকন্তু পাড়া প্রতিবেশীর কেউ ঘুম কিংবা ঘর থেকে বের হতে পর্যন্ত সাহস করেনি। অবশেষে পরদিন সকালে শেয়াল ছানাগুলো যথা স্থানে ফেরত দিয়ে পাড়া প্রতিবেশীসহ রক্ষা পেয়েছে সেই চাষি। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার দিবাগত রাতে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়নের শাল্টি শান্তিবাগ গ্রামে। 
প্রপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ঐ গ্রামের চাষি বুলু মিয়া প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার সন্ধায় বাড়ির নিকটবর্তি পাঁথারের ধান ক্ষেতে পরিচর্যার কাজ শেষে  বাড়ি ফেরার সময় গ্রামীণ সড়কের কার্লভাটের নীচে দেখতে পায় ৯টি  নাদুশ-নুদুশ কচিকাঁচা শেয়ালের ছানা মনের আনন্দে খেলা করছে। তাইনা দেখে চাষি বুলু মিয়া শখ আর লোভের বর্শবর্তি হয়ে সঙ্গে থাকা রাসায়নিক সারের খালি বস্তা বের করে শেয়াল ছানাগুলো তুলে নেয়। বাসায় ফিরে সে ঐ শেয়াল ছানাগুলো তাতে খাঁচায় বন্দী করে রাখে।
এদিকে সাঁঝের আঁধার নেমে আসার সাথে সাথে খাঁচা বন্দী শেয়াল ছানাগুলো তাদের মা-বাবা আর স্বজনদের না পেয়ে কান্না কাটি শুরু করে দেয়। এরপর শুরু হয় প্রলয় কা-। শ’খানেক শেয়ালের একটি ঝাঁক  চাষি বুলু মিয়ার বাড়ির চারিদিকে অবস্থান নিয়ে ভয়ংকর মূর্তি ধারণ করে কোরাস সূরে প্রতিবাদ জানাতে থাকে। চাষি বুলু মিয়া ঘরের জানালা খুলে এসব দৃশ্য দেখে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে যায়। ঘর থেকে কেউ বের হওয়ার সাহস করেনি। প্রতিবেশীদের অবস্থাও অভিন্ন। এ অবস্থা চলতে থাকে রাতভর। অবশেষে পাড়া প্রতিবেশীসহ  সকলের নির্ঘুম রাত কেটে গেলে সকাল বেলা নিজের বিগত দিনের বিলাসী ভুলের কথা স্বীকার করে চাষি বুলু মিয়া শেয়াল ছানাগুলোকে যথাস্থানে রেখে এসে শেয়ালের ঝাঁকের রুদ্র ক্ষোভ থেকে রক্ষা পায়। প্রতিবেশীরাও হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। কেননা কিছুদিন পূর্বে একই গ্রামের আমীন মিয়া নামে এক যুবক শেয়ালকে আঘাত করার কারণে সংঘবদ্ধ শেয়ালের আক্রমণে নিহত হয়েছিল। বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ